উৎসবের দিনেই পুড়ে ছাই সর্বস্ব! শালবনীর দিনমজুর পরিবারের পাশে ‘ছত্রছায়া’, প্রতিমা বিসর্জন শুরু জঙ্গলমহলেও

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, শালবনী, ২৭ অক্টোবর: এ যেন ‘অষ্টমীতেই বিসর্জন!’ অষ্টমীর রাতে শালবনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ছত্রছায়া’র কাছে খবর পৌঁছয়, শালবনী ব্লকের ২ নং অঞ্চলের তিলাবনী গ্রামের বাচ্চু কর্মকারের (৩৯) বাড়িতে আগুন লেগে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে! উৎসবের মাঝে এহেন দুঃসংবাদে কাতর হয়ে ওঠেন, ‘ছত্রছায়া’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নূতন ঘোষ সহ অন্যান্য সদস্যরা। একরাতের মধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন, নবমীর সকালে সাধ্যমতো ত্রাণসামগ্রী এবং নতুন জামাকাপড় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে। শুভাকাঙ্খী তথা সহৃদয় মানুষের সৌজন্যে সেই আন্তরিক প্রচেষ্টা সফলও হয়। নবমীর সকালে ‘ছত্রছায়া’র সদস্যরা সাধ্যমতো ত্রাণ নিয়ে পৌঁছলে, চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বাচ্চু ও তাঁর পরিবার! আজ (মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর) ‘ছত্রছায়া’র পক্ষ থেকে দিনমজুর বাচ্চু’র বাড়িতে গিয়ে বিছানাপত্র (লেপ, বালিশ, কম্বল ও মাদুর) এবং প্রয়োজনীয় আরও কিছু সামগ্রী দিয়ে আসা হয়। ‘ছত্রছায়া’ গ্রুপের পক্ষে নূতন বাবু জানালেন, “পঞ্চমী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত শালবনী ব্লকের বিভিন্ন দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামে এক হাজারেরও বেশি কচিকাঁচার হাতে নতুন পোশাক তুলে দিতে পেরেছি অসংখ্য মানুষের সহায়তায়। অষ্টমীর কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুঃসংবাদ পাই! এই অবস্থায় রাতের মধ্যেই বন্ধু-বান্ধবদের সাহায্যে সাধ্যমতো কিছু ভূষিমালের জিনিসপত্র, নতুন কাপড় চোপড় নিয়ে, নবমীর দিন আমরা টিম ছত্রছায়া পৌঁছে গিয়েছিলাম তিলাবনী গ্রামে। ওই দিনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ওদের বিছানাপত্র এবং চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা আমরা করব। সেইমতো, আজ বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আমরা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম, আমাদের শুভাকাঙ্খীদের সহায়তায়। এছাড়াও, দিনমজুর বাচ্চুর তিনটি ছোট ছোট সন্তানের জন্য, বিভিন্ন খাবার দাবার ও বেবি ফুডও নিয়ে গিয়েছিলাম। ভবিষ্যতেও সাধ্যমতো পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছি এবং আগামী এক বছরের জন্য ওদের ৫ জনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমরা বহন করব বলে অঙ্গীকার করেছি। একইসাথে, শালবনীর বিডিও, এমএলএ এবং স্থানীয় রেশন ডিলার সবার কাছে আবেদন করবো, ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”

thebengalpost.in
শালবনীতে বাচ্চু কর্মকারের বাড়িতে পুড়ে ছাই সর্বস্ব :

.
.

জানা গেছে, শালবনী ব্লকের তিলাবনী গ্রামের যুবক বাচ্চু কর্মকার নিজের স্ত্রী ও তিন সন্তানকে (দুই মেয়ে ও এক ছেলে) নিয়ে অষ্টমীর দিন একটু ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে দেখেন, পুজোর নতুন জামা কাপড়, প্রয়োজনীয় নথি পত্র, খাবার দাবার বা প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রীই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে! মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে নিতান্তই দিন আনা দিন খাওয়া ওই পরিবারের। খবর পৌঁছয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছত্রছায়ার কাছেও। এগিয়ে আসেন তাঁরা এবং ভবিষ্যতেও সাধ্যমত পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। এভাবেই, অষ্টমী’র দিন বাচ্চুর পরিবারের ‘বিসর্জন’ নেমে এলেও, ‘ছত্রছায়া’র হাত ধরে বিজয়ার আগেই ফের বোধন হল!

thebengalpost.in
বাচ্চুর পরিবারের পাশে ‘ছত্রছায়া’ :

.

এদিকে, গতকাল (২৬ অক্টোবর) থেকে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকার সাথে সাথে, শালবনীতেও শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন বা প্রতিমা বিসর্জন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু গতকালই শালবনী থানার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫ টি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। রীতিমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে, কোনরকম আরম্বর ছাড়াই এবারের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে বলে, পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

thebengalpost.in
প্রতিমা বিসর্জন শুরু শালবনীতেও :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে