দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৯ মার্চ: “নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা…কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছেন বাংলার যুব সমাজ। সরকারি ক্ষেত্রে কোনো নিয়োগ নেই।” অবশেষে ‘নীরবতা’ ভাঙলেন বুদ্ধ বাবু! রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়ে জানালেন, সিঙ্গুরে সৃজন, নন্দীগ্রামে মীনাক্ষী সহ সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের জয়ী করার। শিল্পবার্তা-কর্মসংস্থানের বার্তা নিয়ে সৃজন, মীনাক্ষী, ঐশী, দীপ্সিতা, সায়নদীপ, মধুজা, সাদ্দাম, দেবজ্যোতি, সপ্তর্ষিরা এবার বামেদের প্রার্থী। আছেন, শতরূপ-ফুয়াদ হালিম রাও। নেতৃত্বে সেলিম-সুজন-তন্ময় ভট্টাচার্যরা। তাঁদের একটাই আবেদন, দান-ধ্যান-ভাতা-ভর্তুকি নয়; চাই শিল্প, চাই কর্মসংস্থান, চাই শূন্যপদ পূরণ।


Whatsapp Group এ
প্রথম দফা নির্বাচনের শেষে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে, সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়ে জানালেন, “বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকেই যে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ভাবনা আমরা রাজ্যের মানুষকে বলার চেষ্টা করছি, তা হল কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা সেই পথ ধরেই এগিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বর্তমান সরকারের হাতে গত দশ বছরে সেই কৃষিতে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। উল্লেখযোগ্য কোনও শিল্প আসেনি গত এক দশকে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা। সে সময়ের কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলার যুব সমাজ। সরকারি ক্ষেত্রে কোনও নিয়োগ নেই। বাংলার মেধা ও কর্মদক্ষতা, যা আমাদের সম্পদ, তা আমাদের রাজ্য ছেড়ে ভিনরাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।”


উল্লেখ্য যে, ‘নন্দীগ্রাম কাণ্ডে’ও রবিবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধিকারী পরিবার’কে কাঠগড়ায় তুলে, বিরোধী মতাদর্শের মানুষের কাছেও ‘সাদা ধবধবে’ বুদ্ধ বাবু’র গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। নন্দীগ্রামে ‘চটি পুলিশের’ নেপথ্যে নাকি শুভেন্দু-শিশির’রাই ছিলেন, এমনটাই বক্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও, এই যুক্তি মানতে রাজি নন বামপন্থীরা। দলনেত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী হিসেবে “সমস্ত চক্রান্তের দায়” যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই, এমনটাই মত তাঁদের। আর এই চক্রান্তের উপর ভিত্তি করেই যে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই “চরম সত্য” দশ বছর আগেই শুনিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য! অশক্ত শরীরে, অসুস্থ ও প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় সেই “অপ্রিয় সত্য” বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনে বুদ্ধ বাবু যে এক আকাশ মানসিক পরিতৃপ্তি লাভ করেছেন, তার প্রমাণ আজকের এই বিবৃতি।








