এক্সিট পোল উড়িয়ে দিয়ে “মন্ত্রীসভা” তৈরিতে ব্যস্ত বিজেপি! “গণনা কেন্দ্র ছাড়বেন না, আমরা ২০০-র বেশি আসন পাব” বলছেন মমতা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১ মে: বেশিরভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলে এগিয়ে তৃণমূল! তবে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিচ্ছে বিজেপি, এটাও পরিষ্কার। দেশ-বিদেশের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সমীক্ষা সংস্থাগুলোর “বুথ ফেরত সমীক্ষা” বিচার-বিশ্লেষণ করে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেতে পারে ১৬০ থেকে ১৭০ টি। আর, সবথেকে কম হলে ১৩৫ থেকে ১৪৫ টি। অন্যদিকে, বিজেপি সর্বাধিক আসন পেতে পারে ১৫০ টি। সর্বনিম্ন ১১০ টি। এই পরিস্থিতিতেও, যেকোনো মূল্যে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক গবেষক-বিশ্লেষক-তাত্ত্বিক থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলেও অনেকের আশঙ্কা! তবে, বিজেপি অবশ্য বলছে, “কোনও সমীক্ষাই মিলবে না! ভোটবাক্স খুললেই সব হিসেব উল্টে যাবে। ২০০’র বেশি আসন পাবে বিজেপি।” এটা অবশ্য মিডিয়ার সামনের বক্তব্য। বিজেপির অন্দরমহলের হিসেব অনুযায়ী ১৮০ থেকে ১৮৫ টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তবে, তৃণমূল থেকে আরও বেশকিছু জয়ী বিধায়ক যোগ দিলে সংখ্যাটা ২০০ বা তার বেশি হয়ে যাবে! অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রার্থীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে শুক্রবার জানিয়েছেন, “২০০’র বেশি আসন পাব আমরা। তবে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনা কেন্দ্র ছেড়ে যাবেননা!” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাব আমরা।” যদিও, তৃণমূলের অনেক পোড়খাওয়া জেলা নেতারা বলছেন, “১৮০ থেকে ১৮৫ টা আসন হতে পারে!” খোদ দলনেত্রী মুখে যাই বলুন না কেন, এরকম একটা আশঙ্কা তাঁর মাথাতেও প্রথম থেকেই আছে, তাই জেতার পরও প্রার্থীদের ধরে রাখতে, শনিবার (১ লা মে) এর পরিবর্তে, শুক্রবারই তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকেছিলেন তিনি।

thebengalpost.in
মোদী – মমতা’র জোর টক্কর হতে চলেছে বাংলায় :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

এদিকে, অমিত শাহ – জে পি নাড্ডারা আবার দিল্লির সদর দফতরে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীসভা সাজাতে ব্যস্ত! এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম তথা বিজেপি ঘনিষ্ঠ সমীক্ষা সংস্থা’র মতে, মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে এগিয়ে আছেন দিলীপ ঘোষ! তিনিই নাকি এখনও পর্যন্ত প্রথম পছন্দ। তবে, আরও যে কয়েকটি নাম আলোচনায় আছে সেগুলি হল- স্বপন দাশগুপ্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়, কর্ণেল সুব্রত সাহা। এই ৫-৬ টি নামই যে আলোচনায় আছে তা ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ দিলীপ ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয় থেকে শুরু করে বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্বও। তবে, দৌড়ে দিলীপ এগিয়ে এই কারণে, তাঁর আপাত রুক্ষ ও স্পষ্ট কথাবার্তা এবং সাদামাটা বাক্য ব্যবহার শহুরে বিদ্বজনদের আকৃষ্ট না করতে পারলেও, গত ছয় বছরে বিজেপিকে ৩ টি বিধানসভা আসন থেকে ক্ষমতা দখলের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে! ফলে সঙ্ঘের সক্রিয় কর্মী থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা দিলীপ ঘোষই আপাতত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মোদী-শাহ-নাড্ডাদের প্রথম পছন্দ। এর কিছুটা ইঙ্গিত অবশ্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁর সভায় বারবার দিয়েছেন, রাজ্যে দিলীপের সাংগঠনিক ক্ষমতাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে। অন্যদিকে, জিতলে বিজেপি মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন- শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক লাহিড়ী (বিজেপি সরকার গড়লে সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী) প্রমুখরা। তবে, সবটাই নির্ভর করছে বিজেপির সরকার গড়ার উপর!

thebengalpost.in
বিজেপি ব্যস্ত মন্ত্রীসভা সাজাতে :

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত তাঁর দলের প্রার্থী ও এজেন্টদের সাহস জোগানোর সাথে সাথে, বিজেপির কাছে “বিক্রি হয়ে যাওয়াও” আটকাতে বদ্ধপরিকর! তাই, ভার্চুয়াল সভা থেকে নানাভাবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, তৃণমূল অন্তত ২০০ টি আসন নিয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে চলেছে। গণনা কেন্দ্রে তাই কড়া নজরদারি রাখতে হবে, নাহলে বিজেপি সব হিসেব উল্টোপাল্টা করে দিতে পারে! এদিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের এক প্রার্থী জানিয়েছেন, “দিদি বলেছেন, গণনাকেন্দ্র ছাড়লে চলবে না। মিডিয়ার সঙ্গে বিজেপি’র বোঝাপড়া হয়ে গেছে। প্রথম দিক থেকেই দেখাবে, ওরা এগিয়ে যাচ্ছে! কিন্তু ঘাবড়ালে চলবে না। হতাশায় গণনাকেন্দ্রে ছেড়ে আসা ঠিক হবে না। শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। বিজেপি অনেক রকম বদমাইশি করতে পারে। ওদের পাতা কোনও ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না। আমাদের জয় নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। বিভ্রান্তিমূলক প্রচারে যেন কেউ কান না দেন।” বৈঠকে মমতা আরও নির্দেশ দিয়েছেন, “প্রার্থীরা যেন খাতা-কলম নিয়ে ভোর ভোর গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান এবং তাঁরা যেন শেষ পর্যন্ত চেয়ার ছেড়ে না ওঠেন। মমতা প্রার্থীদের বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে, তৃণমূলের প্রচুর আসন আসবে। কিন্তু, তৃণমূলের নিশ্চিত জয় হবে, এমন আসনগুলিতে বিজেপি গোলমাল বাধানোর চেষ্টা করবে। তাই প্রার্থীরা যেন সতর্ক থাকেন। কোনও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে যেন দলীয় নেত্বকে জানানো হয়।” তবে, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের বেশ কিছু আসনে বিজেপি’র সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ওই আসনগুলিতে গণনার শেষ পর্যন্ত তীক্ষ্ণ নজর রাখার কথা বলা হয়েছে!

thebengalpost.in
মমতা ব্যস্ত প্রার্থীদের ধরে রাখতে :

আরও পড়ুন -   বিপদে পড়লেই ফোন করুন! উৎসবের মরশুমে মহিলা ও করোনা আক্রান্তদের পাশে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ, পালিত হল শহীদ স্মৃতি দিবসও