কল্যাণের ঘরে ঢুকে ‘জনপ্রিয়তা’য় থাবা বসালেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র, সংযতভাবেই দিলেন ব্যক্তি আক্রমণের জবাব

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, হুগলি, ২১ নভেম্বর: হুগলির শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নজিরবিহীন ভাবে ব্যক্তি আক্রমণ শানিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা পরিবহনমন্ত্রী’র উদ্দেশ্যে। তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় ৪ টে মন্ত্রীত্ব পেয়েছিস, ৪ টে চেয়ার পেয়েছিস, কত পেট্রোল পাম্প করেছিস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালিটির বাইরে আলু বিক্রি করতিস রে, আলু বিক্রি করতিস!” এই ব্যক্তি আক্রমণের জবাব, শুভেন্দু অধিকারী গতকাল (শুক্রবার) দিলেন, একেবারে কল্যাণের ঘরে (খাসতালুকে) ঢুকে। তবে সংযত ভাষাতেই। তিনি বললেন, “আমি শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি প্রাক্তন সাংসদ অনিল বসু যখন কাউকে আশালীন কথা বলতেন তখন হুগলির মানুষ মেনে নেয়নি। আজ যদি কোনও বর্তমান জনপ্রতিনিধি আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অশালীন আচরণ করেন তবে কী আপনারা মেনে নেবেন?” হুগলির বালাগড়ের জনতা সমস্বরে ‘না’ বলে ওঠেন। শুভেন্দু এরপর বলেন, “কেউই রাজনৈতিক সমালোচনার উর্ধ্বে নই, আমিও নই। কিন্তু, ব্যক্তি আক্রমণের এই কালচার কি আপনারা সমর্থন করেন?” জনতা ফের একবার ‘না’ বলার পর ধন্যবাদ জানিয়ে মঞ্চ ছাড়েন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী।

thebengalpost.in
শুভেন্দু অধিকারী :

.
.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হুগলি শেরপুর মাঠে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) শীতবস্ত্র প্রদান ও সম্বর্ধনা সভাতে উপস্থিত হয়েছিলেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হ্যাঁ, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মঞ্চে ‘জনসেবক’ রূপে। হুগলির বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “তাঁরা সমাজসেবক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই আছেন।” অন্তত হাজার পাঁচেক মানুষের এই জমায়েত থেকে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন বিবেকানন্দ-নিবেদিতার ‘জীবসেবা’ কে স্মরণ করেন, ঠিক তেমনই আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তি আক্রমণেরও জবাব দেন নাম না করেই এবং শালীনতা বজায় রেখে। প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনিতেই ‘আলটপকা’ মন্তব্যের জন্য সর্বত্র সমালোচিত। অন্যদিকে, শুভেন্দু’র সঙ্গে দল যখন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই তাঁর এই মন্তব্য যে নিঃসন্দেহে আগুনে ঘৃতাহুতি করেছে, তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় :

.

এদিন, হুগলিতে কল্যাণের ঘরের মাঠে গিয়ে শুভেন্দু জবাব দিয়ে আসার পরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফের শুভেন্দু অধিকারী’কে আক্রমণ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি কাউকে ব্যক্তি আক্রমণ করিনি। তবে, নন্দীগ্রাম কারুর একার আন্দোলন নয়। আমি আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে না এলে নেতাদের ঘর থেকে বেরনো বন্ধ হয়ে যেত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই নন্দীগ্রামের আন্দোলন। আজকে দলের মধ্যে থেকে কেউ যখন বিরোধিতার কথা বলে তখন বুঝতে হবে, তাঁর সাথে অন্য দলের যোগাযোগ আছে!” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেন, “মেদিনীপুরের আরেক নেতা লক্ষ্মণ শেঠের পতন হয়েছিল অহংকারের জন্যই! আমি খেটে নেতা হয়েছি। বাবার পরিচয়ে রাজনীতিতে আসিনি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দলের চাপেই হয়তো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটু নরম হয়েছিলেন শুভেন্দু ইস্যুতে। কিন্তু, গতকাল তাঁর ঘরে ঢুকে যেভাবে জনপ্রিয়তায় থাবা বসিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতেই হয়তো ফের ‘চটেছেন’ তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতা, ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করায় যাঁর বহুল নামডাক!

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে