জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ‘পুলিশমন্ত্রী’ কে আক্রমণের মধ্যে ‘চক্রান্ত’ খুঁজছেন সব পক্ষই

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের রাজাবাজারে আন্দোলন :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ১১ মার্চ : রানীচকের একটি মন্দির থেকে ফেরার সময় বিড়ুলিয়া বাজারে নিজের গাড়ি থেকে নামার সময়ই ঘটে দুর্ঘটনা। অভিযোগ, ৪-৫ জন মিলে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ্যমন্ত্রী’কে ধাক্কা মারে! প্রচন্ড যন্ত্রণায় কাতর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তোলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। বরফ ঘষতে থাকেন নিজেই! কিছুক্ষণের মধ্যেই, গ্রিন করিডোর তৈরি করে SSKM এ নিয়ে আসা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে কমিটি গড়া হয়েছে! আপাতত পরীক্ষার পর দেখা গেছে, পায়ের হাড় ভাঙেনি। ECG রিপোর্টও সন্তোষজনক। এই মুহূর্তে (রাত্রি সাড়ে এগারোটা-বারোটা নাগাদ), বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে স্থানান্তরিত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী’কে। তবে, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে SSKM এর উডবার্ণ ব্লকেই নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।

thebengalpost.in
পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী :

এদিকে, রাজ্যপাল সহ রাজ্যের কেবিনেট মন্ত্রীরা প্রতিমুহূর্তে খোঁজ রাখছেন মুখ্যমন্ত্রীর। আছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় স্তরের নেতারা সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং এই ঘটনার প্রতি তীব্র ‘ধিক্কার’ জানিয়েছেন! শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে! কিন্তু, বুধবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। যিনি আক্রান্ত হলেন, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী। পান জেড প্লাস নিরাপত্তা! এখনও তাঁর দল ক্ষমতায়! তারপরও তাঁর উপর এই আক্রমণ হলে, অন্যান্য প্রার্থীদের কি হবে? কি হবে সাধারণ ভোটারদের? স্বয়ং, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা তাঁর দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা সকলেই বলছেন ‘চক্রান্ত’, গভীর চক্রান্ত!

thebengalpost.in
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, “কাউকে আক্রমণ করতে দেখিনি!” (C: ANI)

ইতিমধ্যে, সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি করা হয়েছে, বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলোর তরফে! স্বয়ং পুলিশমন্ত্রী কাতর কন্ঠে বলছেন, জেলা পুলিশ নিরাপত্তা দেয়নি! নিঃসন্দেহে চিন্তার। গোটা নন্দীগ্রাম যেখানে নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে আছে জেড প্লাস নিরাপত্তা; তারপরও যখন এই অভিযোগ, সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা দরকার বৈ কি! অধীর চৌধুরী বলেছেন, “রাজনৈতিক ভন্ডামি!” মহম্মদ সেলিমও প্রায় একই সুরে বলেছেন, রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা, মানুষ বিশ্বাস করবেনা! একধাপ উপরে উঠে অর্জুন সিং বলেছেন, “নাটক! সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি শুভেন্দু অধিকারী’র। তবে, মমতার ওই কেন্দ্রের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (সংযুক্ত মোর্চা) বলেছেন, “উনি তো মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশমন্ত্রীও। কড়া নিরাপত্তা। তারপরও কি করে এই ধরনের ঘটনা ঘটল? ওনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তবে, এর তদন্ত হওয়া দরকার!” শিশির অধিকারী, দিলীপ ঘোষ রাও ‘উপযুক্ত তদন্ত’ চেয়েছেন! সাধারণ মানুষও চাইছেন, উপযুক্ত তদন্ত হোক। বেরিয়ে আসুক সত্য! ‘খেলা’ শুরুর আগেই ‘ফাউল’ টা কে করল জানা প্রয়োজন! অন্যদিকে, নেত্রীর উপর ‘হামলা’র ঘটনায় সারা রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে, তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। সবমিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা!

thebengalpost.in
দুর্ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের রাজাবাজারে আন্দোলন :

আরও পড়ুন -   জেলার 'গর্ব' কেশিয়াড়ীর 'প্রত্যুষা'! পশ্চিম মেদিনীপুরে জীববৈচিত্র্য ও শিশু বিনোদন উদ্যানের উদ্বোধন করলেন জেলাশাসক
মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ