প্রার্থী ঘোষণার পরই‌ পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রকট তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব! মার‌ খেলেন বুথ সভাপতি, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন একাধিক জেলা নেতা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ মার্চ: প্রার্থী ঘোষণার পরই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে! গতকাল প্রার্থী‌ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেশিয়াড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন প্রার্থী পরেশ মুর্মু’র বিরোধী গোষ্ঠীর নেত্রী কল্পনা সিট, পবিত্র সিট প্রমুখরা। দুর্নীতিগ্রস্ত বিধায়ক’কে পুনরায় প্রার্থী করায় তাঁরা বিজেপিতে যাওয়ার হুমকিও দেন। এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যাতেই ঘাটাল ব্লকের মমরাজপুরের তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবদুল মান্নান খান’কে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

thebengalpost.in
আহত তৃণমূল কর্মী :

[ আরও পড়ুন -   মেদিনীপুর শহরের শাসক দলের যুব নেতা গ্রেফতার বেআইনি অস্ত্র রাখা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ]

প্রার্থী ঘোষণার দিনই ঘাটালে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বেধড়ক মার খেলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি। অভিযোগ, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরই শঙ্কর দোলইয়ের অনুগামীরা ঘাটাল ব্লকের মমরাজপুরের তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবদুল মান্নান খান’কে বেড়ধক মারধর করে। ফলে, তিনি এখন গুরুতর জখম অবস্থায় ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আবদুল মান্নান খান অভিযোগ করলেন, “ঘাটাল ব্লকে দুটো লবি ছিল। আমরা শঙ্কর দোলুইয়ের বিরুদ্ধে ছিলাম। আমি গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ জলসার চকে আসলে, শঙ্কর দোলুই ঘনিষ্ঠ চার পাঁচজন বলতে থাকে, এবার আমরা টিকিট পেয়ে গেছি, তোদের মেরে হাড় ভেঙে দেব। বলতে বলতেই ওরা আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।” আক্রান্ত তৃণমূল বুথ সভাপতি সরাসরি বিধায়ক শঙ্কর দোলুইয়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন। যদিও এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শঙ্কর দোলই। তিনি বলেন, “ঘাটালে তৃণমূলে কোনও গোষ্ঠীই নেই। সবাই একই সঙ্গে কাজ করেন। ব্যক্তিগত কোনও গণ্ডগোলের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”

thebengalpost.in
কেশিয়াড়িতে বিক্ষোভ :

অন্যদিকে, গতকাল থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আগামীকালের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিজেপি’তে যোগদান করতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তালিকায় জেলা কমিটির কয়েকজন প্রথম সারির নেতাও আছেন বলে জানা গেছে। এই প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুর শহরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “অনেকেই যোগাযোগ করছেন। তাঁদের প্রার্থী করা হবে কিনা এখনই বলা সম্ভব নয়। আগে আসুন, তারপর ভেবে দেখা হবে।” এদিকে, আজ কিছুক্ষণ আগেই বিজেপিতে যোগদান করলেন বাঁকুড়ার সোনামুখীর তৃণমূল বিধায়ক (বিদায়ী) দীপালি সাহা। কলকাতায় বিজেপি’র সদর দফতরে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিলেন তিনি। শ্যামল সাঁতরাকে প্রার্থী করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন!

[ আরও পড়ুন -   মহামারীর মধ্যেও বেতন বকেয়া দশ-বারো মাস ধরে! পিএইচই'র অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে কাঁপল মেদিনীপুর কালেক্টরেট ]