লক্ষ্মীপুজোর সকালেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শালবনীতে! বাজারে বেরিয়ে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু স্থানীয় বাসিন্দার

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, শালবনী, ৩০ অক্টোবর : লক্ষ্মী পুজোর দিন সাতসকালেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীর আসনাশুলি গ্রামের (শালবনী থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে) বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রাণকৃষ্ণ মাহাতো (৫৬) বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন! শালবনী ঢোকার মুখে বড়পুলের কাছে (শালবীথি লজের সামনে) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বাজারের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন সাইকেল নিয়ে। পেছন থেকে একটি বেপরোয়া যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে, ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন প্রাণকৃষ্ণ! স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে উদ্ধার করে, শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে, চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন! লক্ষী পূজোর দিন এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শালবনীতে।

thebengalpost.in
প্রাণকৃষ্ণ মাহাতো (৫৬) :

.
.

মহেশপুর (চন্দ্রকোনা টাউনের কাছাকাছি) গামী মহেশপুর-মেদিনীপুর “আলিফ” নামক বাসটি মেদিনীপুর থেকে মহেশপুরের দিকে (শালবনীর দিকে) যাচ্ছিল। শালবনী অভিমুখেই যাচ্ছিলেন, আসনাশুলির বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ মাহাতো’ও। শালবনী ঢোকার কিছুটা আগেই বড়পুলের কাছে তাঁর সাইকেলের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে বাসটি। রাস্তার উপরেই পড়ে যান প্রাণকৃষ্ণ। মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যায়! স্থানীয়দের মতে, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে ঘাতক গাড়ির চালক, ভাড়া আদায় কারী এবং দুই খালাসী পলাতক! ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছয় শালবনী থানার পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততম এই রাস্তা পরিষ্কার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং চালক-খালাসীবিহীন ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাণকৃষ্ণ মাহাত’র দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

thebengalpost.in
নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালে :

.

দিনমজুর প্রাণকৃষ্ণ মাহাত একসময় জিন্দাল কারখানায় কাজ করতেন। তবে সেই কাজ ছেড়ে দেওয়ার পর, বাড়িতে থেকেই টুকটাক কাজ করতেন। বর্তমানে, তাঁর ছেলে জিন্দাল কারখানা কাজ করেন। সাধারণ-শ্রমজীবী এই পরিবারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আকস্মিক অন্ধকার নেমে আসায়, ব্যথিত সকলেই। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেন, এই সমস্ত বাস পুরো রাস্তা জুড়ে ধুঁকতে ধুঁকতে এলেও, মেন স্টপেজে ঢোকার ঠিক মুখে হঠাৎ করে গতি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে! একইসাথে অভিযোগ উঠছে, রাস্তার ধারে চিপস বা গুঁটি মজুত করে রাখা নিয়েও। এই সমস্ত বিষয়গুলিতে অবিলম্বে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

thebengalpost.in
ঘাতক বাস :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে