সাত-সাতটি আলমারি ভেঙে সাকুল্যে জুটল মাত্র আড়াই হাজার! ডেবরার স্কুলে চুরির ঘটনায় তস্করের দল ব্যর্থ হলেও হতভম্ব কর্তৃপক্ষ থেকে পুলিশ সকলেই

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ডেবরা (পশ্চিম মেদিনীপুর), ৭ নভেম্বর: “অন্ধের কিবা দিন কিবা রাতে”র মতোই, “তস্করের কিবা ঘর, কিবা স্কুল”! ঘর-বাড়ি-দোকানপাটের পর এবার নজর পড়ল বিদ্যালয়ের দিকে। হয়তো ভেবেছিল, স্কুলের বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে এবং সামনেই মিড-ডে মিলের সামগ্রীও দেওয়া হবে, নগদ টাকা-পয়সা ভালোই আছে! সঙ্গে, এই মুহূর্তে মহার্ঘ্য ‘আলু’ও হয়তো কয়েকবস্তা পাওয়া যাবেই! তবে, সেভাবে সাফল্য পেল না তস্করের দল। ৭ টি আলমারি ভেঙে সাকুল্যে জুটল আড়াই হাজার টাকার মতো! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের ৪ নং খানামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ‘পাঁচগেড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়’ এর চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ডেবরা থানার পুলিশ।

thebengalpost.in
পাঁচগেড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় :

.
.

আজ (৭ নভেম্বর) সকালে, এলাকার বাসিন্দারা এবং স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্যদের নজরে আসে স্কুলের দরজার তালা ভেঙে কেউ বা কারা ঢুকেছে! এরপরই, পাঁচগেড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সদস্যরা স্কুলের ভেতরে ঢুকলে, একেবারে চক্ষু চড়কগাছ! একটার পর একটা ৫ খানা স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে কাগজপত্র সব তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি, ২ টি কাঠের আলমারিও। সব মিলিয়ে ৭ টি আলমারিতে থাকা অজস্র কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে! এরপরই তাঁরা খবর দেন, ডেবরা থানায়। ‌তৎক্ষণাৎ পুলিশ আসে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সদস্যরা দেখেন, নগদ টাকা পয়সা খুব সামান্যই গেছে। পরে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মাত্র ছিল আলমারিতে।

thebengalpost.in
ভাঙা হল ৭ টি আলমারি :

.

অপরদিকে, সন্ধ্যা পর্যন্ত যেটুকু জানা গেছে, কাগজপত্র বিশেষ কিছু খোওয়া যায়নি। কম্পিউটার সহ অন্যান্য কোন সামগ্রীও চুরি হয়নি! আর, আলু বা মিড-ডে মিলের সামগ্রী এখনো বিদ্যালয়ে পৌঁছয়নি। এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে, চুরির উদ্দেশ্য ছিল নগদ টাকাই। একথাই বলছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপান রায়’ও। ফোনে তিনি ‘দ্য বেঙ্গল পোস্ট’ এর প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, “আমার বাড়ি ব্যারাকপুরে। আমি পৌঁছতে পারিনি। তবে, আমাদের বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সদস্যরা এবং অন্যান্য শিক্ষকরা ছিলেন। তাঁরাই আশ্বস্ত করেন যে, আমার আজকেই তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই! সব মিলিয়ে আমরা হিসাব করে দেখেছি, দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা চুরি হয়েছে। আর বিদ্যালয়ে কখনোই বেশি টাকা-পয়সা থাকেনা। তবে, কোনো ছিঁচকে চোরের দল হয়তো ভেবেছিল, স্কুলের কাজ চলছে, টাকাপয়সা ভালোই থাকবে! অন্যান্য কাগজপত্রও সেরকম কিছু চুরি হয়নি। তবে, সবকিছুই মিলিয়ে দেখা চলছে। আমি আগামী সপ্তাহেই যাব। ডেবরা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে।”

thebengalpost.in
সাত সাতটি আলমারি ভেঙে চুরি আড়াই হাজার টাকা মতো :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে