“সাইকেল থেকে পড়ে সাইকেল শিখুন, তাড়াতাড়ি শিখবেন” খোঁচা শুভেন্দু’র, “হঠাৎ একটা উইকেট পড়ে যেতে পারে” বললেন মানস ভূঁইয়া

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ নভেম্বর: ফের বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী! মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নাম না করে তৃণমূল নেতৃত্বকে বিঁধলেন তিনি। বললেন, “সাইকেল থেকে পড়ে সাইকেল চালাবেন, তাহলে তাড়াতাড়ি সাইকেল চালানো শিখে যাবেন। লোক পিছন থেকে ঠেলে ঠেলে তুলে তুলে ধরে তাহলে অনেক সময় লাগবে সাইকেল চালানো শিখতে। ছমাস, আট মাস লেগে যাবে।” স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন মন্ত্রীর এই খোঁচা কার উদ্দেশ্যে বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না! প্রথম থেকেই, তিনি ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে প্রশান্ত কিশোর (পিকে)’কে আনার বিরোধী ছিলেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রে তিনি বারবার জানিয়েছেন, “রাজনীতি মানুষকে নিয়ে হয়, তাতে হার-জিত, সাফল্য-ব্যর্থতা আসতে পারে। মানুষ কখনো ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু, কাজ দিয়েই মানুষের মন জয় করতে হবে। মানুষের টাকায় রাজনৈতিক কুশলী বা স্ট্র্যাটেজিস্ট ভাড়া করে আনা কোনো গৌরবের বিষয় নয়!” দিন দিন তাঁর পিকে বিরোধিতা বেড়েছে। আর তাই, আবারো নাম না করে, সেদিকেই খোঁচা দিলেন শুভেন্দু। তাও আবার, সরকারি অনুষ্ঠানে, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি-বিহীন মঞ্চে দাঁড়িয়ে! অনেকে আবার বলছেন, শুভেন্দুর এই খোঁচা আসলে, পিকে’কে নিয়ে আসার অন্যতম কারিগর দলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি!

thebengalpost.in
অঙ্গীকার ব্যানার পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে :

.
.

আজ (৩ নভেম্বর) পটাশপুরে আড়গোয়াল পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবি। এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। শুভেন্দুর অন্যতম বিরোধী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা বিধায়ক অখিল গিরি অভিযোগ করেছেন, “শুভেন্দু দল বিরোধী কাজ করছে। আমরা রাজ্যের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি কে জানিয়েছি। হাইকমান্ড কেও জানিয়েছি। দেখা যাক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়!” অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “শুধু যদি পার্টি নিয়ে কাজ করেন তাহলে কিছুদিন থাকবেন, বেশিদিন থাকবেন না! আমরা-ওরা করতে গিয়ে আগের সরকারের কী হয়েছিল সবাই জানে! রাজনীতিতে বেশি দম্ভ ভালো নয়। দম্ভ দেখাতে গিয়ে ২৩৫ ও উল্টে গিয়েছে!” এরপরই, সাইকেল শেখার প্রসঙ্গটি তুলে ধরে ফের একবার দলকে খোঁচা দিলেন। তবে, এদিনের সভায় দীর্ঘদিন পর তিনি ‘নেত্রী’ শব্দটির প্রয়োগও করেছেন। তবে, তা নিজের রাজনৈতিক আন্দোলন বা সাফল্যের কথা তুলে ধরতে। শুভেন্দু বলেছেন, “নেত্রী বললেন নন্দীগ্রামে আন্দোলন করতে, করেছি। আগেরবার ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে জিতেছিলাম, ২০১৬ তে মার্জিন বেড়ে হয়েছে আড়াই লক্ষ। সারা বছর ধরে মানুষের পাশে থাকলে, মানুষও দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করবে।”

thebengalpost.in
মানস রঞ্জন ভূঁইয়া মেদিনীপুরের বিজয়া সম্মিলনীতে :

.

এদিকে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আজ থেকে শুভেন্দু অধিকারী’র নিজের গড় হিসেবে পরিচিত কাঁথি শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা “অঙ্গীকার” ব্যানারে ভরে গেছে। তাতে লেখা, “দাদার পাশে ছিলাম, আছি, থাকব…!” নিচে লেখা অঙ্গীকার এবং অসংখ্য মানুষের স্বাক্ষর। অপরদিকে, গতকাল (২ নভেম্বর) মেদিনীপুর শহরে অনুষ্ঠিত জেলা তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে রাজ্যসভার সংসদ মানস রঞ্জন ভূঁইয়া নাম না করে (শুভেন্দু কে উদ্দেশ্য করে) বলেন, “হঠাৎ একটা উইকেট পড়ে যেতে পারে! তাতে ধৈর্য হারালে চলবে না। রাজনীতিটা আবেগের জায়গা নয়। এটা ফুটবল নয় ক্রিকেট। তাই একটা উইকেট পড়লেও, শক্ত হাতে ব্যাট ধরে চার-ছয় মেরে ম্যাচ জেতালো যায়!” এসমস্ত মন্তব্য থেকেই ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর নতুন পথে হেঁটে যাওয়ার ইঙ্গিতখানি। এদিকে, নাম না করে, শুভেন্দু অধিকারী কে আক্রমণ করায়, শুভেন্দু অনুগামী হিসেবে পরিচিত, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মানস রঞ্জন ভূঁইয়া’কে, “কেউ যদি অকৃতজ্ঞ হয়, কিছু বলার নেই! সবং এর ভূমিপুত্রের পত্নী গীতা রানী ভূঁইয়া’র সবং বিধানসভায় জয়লাভে শুভেন্দু অধিকারীর অবদান অনস্বীকার্য।” সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে, অবিভক্ত মেদিনীপুরে ‘জননেতা’‌ শুভেন্দু অধিকারী’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর রীতিমতো তুঙ্গে।

thebengalpost.in
মঙ্গলবার পটাশপুরে শুভেন্দু অধিকারী :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে