শুধু মেদিনীপুর, খড়্গপুর, সবং নয় বিভাজন স্পষ্ট করলেন সারা জেলা জুড়েই! কোন পথে শুভেন্দু ? কোন পথে বঙ্গ রাজনীতি? উত্তর খুঁজছি আমরাও

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ২৪ অক্টোবর: শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর বা পূর্ব মেদিনীপুর কিংবা ঝাড়গ্রাম নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিভাজন স্পষ্ট শুভেন্দু অনুগামী এবং অভিষেক অনুগামীদের মধ্যে! আর দিদি’র অনুগামী বা সাধারণ তৃণমূলীরা? তাঁরা দ্বিধাবিভক্ত এই দুই অনুগামীদের নিয়ে। কি করবেন, কি বলবেন বুঝতে পারছেন না! বিজেপি’কেও সমর্থন করতে পারছেন না, আর শুভেন্দু বিহীন, ‘ভাইপো নির্ভর’ তৃণমূল কংগ্রেস’কেও সমর্থন করতেও বুক কেঁপে উঠছে! কিন্তু, এই পরিস্থিতিতে ভাইপো আর পিকে নির্ভর তৃণমূলে যোগ্য সম্মান না পাওয়া, শুভেন্দু কি করবেন? সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ তৃণমূলী তথা নিরপেক্ষ ভোটাররা। বাম-কংগ্রেস জোটকে এখনো অনেক পথ যেতে হবে! অপরদিকে, আর এস এস নির্ভর বিজেপি’ হাথ্রাস আতঙ্ক কিংবা আম্বানি-আদানি’দের একচেটিয়া আধিপত্যের আশঙ্কা দেখাচ্ছে! কি করবেন শুভেন্দু বা কি সিদ্ধান্ত নেবেন মোদী-শাহ-নাড্ডারা ? এর মাঝেই আবার, “দাদা (সৌরভ গাঙ্গুলি) মুখ্যমন্ত্রী” আওয়াজে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। অতীতে এরকম পরিস্থিতি কখনও হয়েছে বলে মনে পড়ছেনা, বাংলার সাধারণ ভোটারদের। এদিকে, এসবের মাঝেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন,‌ শুভেন্দু অধিকারী কিংবা তাঁর অনুগামীরা। গত ১৮ অক্টোবর লালগড়ের নেতাই’তে যে অবস্থান একপ্রকার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী, বলেছিলেন, “আমার লক্ষ্য, আমার কর্মপদ্ধতি থেকে কেউ আমাকে দূরে সরাতে পারবেনা!” আর তারপরই দ্বিগুন উদ্যম আর উৎসাহে পথে নেমেছেন শুভেন্দু অনুগামী বা “দাদার অনুগামী”রা। পুজোর মধ্যেই, বাঙালি তথা দক্ষিণবঙ্গ বাসীকে যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন! অপরদিকে, যা বোঝার বুঝে গেছেন, মমতা বা অভিষেক অনুগামীরাও। তাই, তাঁরাও এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি গলায় ঝুলিয়ে পথে নেমেছেন! কিংবা, দাদার অনুগামীদের মতোই তাঁরাও ফ্লেক্স বা পোস্টার লাগানো শুরু করে দিয়েছেন।

thebengalpost.in
শুভেন্দু’র ছবিতে ছয়লাপ পশ্চিম মেদিনীপুর :

.
.

প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তত ১০ টি পুজো উদ্বোধন করার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারী’র। সেজে উঠেছিল জেলা সদর মেদিনীপুর শহর থেকে শুরু করে, খড়্গপুর, ঘাটাল, সবং প্রভৃতি এলাকার পুজো মণ্ডপগুলি। কিন্তু, হাইকোর্টের নির্দেশের পর, শুভেন্দু অধিকারী আসেননি, তবে পুজো মণ্ডপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা এখনো শুভেন্দু’ময়! মেদিনীপুর, খড়্গপুর, শালবনী, সবং, বেলদা, দাঁতন থেকে শুরু করে ক্ষীরপাই, চন্দ্রকোনা, ঘাটাল প্রভৃতি সর্বত্র “আমরা দাদার অনুগামী” পোস্টার কিংবা “শারদীয়া, দীপাবলী, ছট পুজোর শুভেচ্ছা” জ্ঞাপক পোস্টার অথবা “বাংলার প্রতিবাদী মুখ” পোস্টার আর বড় বড় হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। এমনকি, ঘাটালে দেখা গেল, তৃণমূলের এক ডাকাবুকো নেতা তথা জেলা যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী’র ছবি দেওয়া শুভেচ্ছা জ্ঞাপক হোর্ডিং লাগিয়েছেন; অপরদিকে, তার ঠিক নীচেই নতুন হোর্ডিং লাগিয়েছেন অভিষেক অনুগামী আরেক নেতা। সেই ছবি ভাইরালও হয়েছে! দাঁতনেও, দেখা গিয়েছিল শুভেন্দু অনুগামীদের পাল্টা অভিষেক অনুগামীদের পথে নামতে! কাজেই, তৃণমূল যে ছাড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী এটুকু নিশ্চিত। তবে, বিজেপি নাকি অন্য দল এখনও নিশ্চিত নয়! যোগ্য সম্মান বা পদ পেলে বিজেপি নাহলে অন্য দল ? অনেকেই বলছেন, অন্য দল হলে ঝুঁকি অনেক, আবার অনেকে বলছেন বিজেপি’তে গেলে দ্বন্দ্ব লাগবেই! কি করবেন শুভেন্দু? এই প্রশ্নের উত্তর অজানা হলেও, আর কয়েকদিনের মধ্যেই তা স্পষ্ট হতে চলেছে।

thebengalpost.in
শুভেন্দু অনুগামীদের হোর্ডিং মেদিনীপুরে :

.
thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের এক পুজো মণ্ডপের সামনে শুভেন্দু অনুগামীদের পোস্টার :

এদিকে, সবংয়ে জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতি’র নেতৃত্বে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি (বস্ত্রদান অনুষ্ঠান) পালিত হয়েছে এই পূজার মধ্যে। স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “আমরা দাদার অনুগামী।” এর আগে, জেলা তথা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছেন দাদার অনুগামী তথা শুভেন্দু অনুগামীরা। সব দিক দিয়েই, তাঁরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, “আমরা শাসকদল তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও মানুষের ‌হৃদয়ে থাকতে বদ্ধপরিকর।” তবে, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক যে অনুষ্ঠানে (তমলুকে) উপস্থিত থাকা নিয়ে, শোরগোল পড়েছে, তা কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। চতুর্থীর দিন, পুলিশ প্রশাসনের অনুষ্ঠানে মেদিনীপুর শহরেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, শুভেন্দু অনুগামী একঝাঁক তৃণমূল নেতাকে। এক্ষেত্রে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে, পুলিশ প্রশাসনে শুভেন্দু অধিকারী’র জনপ্রিয়তা বা গুরুত্ব এখনো প্রাসঙ্গিক এবং এই গুরুত্ব ভবিষ্যতেও তাঁর প্রয়োজন হবে বলেই, সচেতনভাবেই পুলিশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলার পক্ষপাতী তিনি। এদিকে, বাংলার আরেক ‘দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলি’কে প্রথম থেকেই দলে পাওয়ার জন্য মরিয়া ছিল, বিজেপি। লোকসভার আগে সেই বিষয়ে সাফল্য না এলেও, বিধানসভার আগে আবার সেই জল্পনা আবার একবার উঠে আসছে! সম্প্রতি, নরেন্দ্র মোদী’র উদ্বোধিত পুজো মঞ্চে ডোনা গাঙ্গুলি’র নৃত্য পরিবেশনের পর তা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তবে, বিষয়টিতে ধোঁয়াশা থাকলেও, সেই আশাতে বুক বাঁধছেন রাজ্যের আপামর তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস বিরোধীরা! সেক্ষেত্রে, রাজ্য বিজেপি’তে যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়, সেই ক্ষতেও প্রলেপ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, ‘বল’ যে এখন মোদী-শাহ-নাড্ডা’দের কোর্টে তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
সবংয়ে জেলা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি’র নেতৃত্বে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি :

thebengalpost.in
সবংয়ে জেলা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি’র নেতৃত্বে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে