৯ বছর পর ‘ঘরে’ ফিরলেন সুশান্ত ঘোষ, ‘লাল ঝান্ডা’র সুনামি স্মরণ করাল সেদিনের ‘বাম দুর্গ’ পশ্চিম মেদিনীপুরকে

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ ডিসেম্বর: সর্বোচ্চ আদালতের অনুমতি পেয়ে ৯ বছর পর “ঘরের ছেলে” ঘরে ফিরলেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাপুটে সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ, হাজার হাজার লাল ঝান্ডার স্রোতে ভেসে গিয়ে নিজের ‘গড়’ গড়বেতায় ফিরলেন, রবিবার (৬ ডিসেম্বর)। দীর্ঘ কয়েক বছর পর লাল ঝান্ডার এমন উচ্ছ্বসিত জনস্রোত বা জনসুনামি দেখল পশ্চিম মেদিনীপুর। বেনাচাপড়া কঙ্কালকান্ডে অভিযুক্ত হয়ে কিছুদিন কারাবাস করেন সুশান্ত ঘোষ। এরপর জামিনে মুক্তি পেলেও এলাকায় ঢোকার অনুমতি ছিল না। শেষপর্যন্ত, সুপ্রিম কোর্ট সেই অনুমতি দেয়। এদিকে, দলের তরফ থেকে সাসপেনশন অর্ডারও উঠে যায়, ডিসেম্বর মাসের শুরুতে। সবমিলিয়ে, এদিনের সুশান্ত-আবেগ মনে করিয়ে দিল বাম জমানায় ২০০০ থেকে ২০০৮ সালের ভরা সময়ের কথা!

thebengalpost.in
ব্যান্ডেল থেকে স্কুটিতে করে পারমিতা দত্ত গুপ্ত :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবর্তনের ভরা জোয়ারেও (২০১১ সালে) নিজের গড় টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। কিন্তু, তার পর পরই তাঁর নামে বেনাচাপড়া কঙ্কালকান্ডের কেস দেওয়া হয়। এদিন, গড়বেতায় ফিরে, হাজার হাজার মানুষের ‘লাল ঝান্ডার জনসভা’য় সুশান্ত ঘোষ দাবি করেন, তাঁর নামে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল। যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের মুখোশ খুলতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করলেও, সুশান্ত বাবুর মতে, বিজেপি তৃণমূলের থেকে অনেক বেশী খারাপ। তিনি বলেন, “ব্যারিকেডের এপারে গরীব মানুষ। হাতে লালঝান্ডা। একদিকে বাম গনতান্ত্রিক শক্তি, অন্যদিকে তৃণমূল-বিজেপি মুখোমুখি লড়াই। সমস্ত ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল ছিহ্ন করে এ লড়াই জিততে হবে। দশ বছর আগের চূর্ন-বিচূর্ণ কঙ্কালে অবিকৃত অন্তর্বাস উদ্ধারের গল্পের ষড়যন্ত্র কারা করেছিল? সেই হাড়গোড়ের ডিএনএ রিপোর্ট কি এখনও এলোনা? এমন প্রশ্নের উত্তর এখনো নেই। সব ষড়যন্ত্রীরা এখন কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছে, জনগন তার হিসাব নেওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে। এখন লালঝান্ডাই একমাত্র বাঁচার ও অধিকার রক্ষার একমাত্র পথ।”

thebengalpost.in
সভায় অশীতিপর ছিতামণি সরেন :

বিজ্ঞাপন

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসে, বাম আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে, একযোগে লালঝান্ডার আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিলেন। সাজানো মামলায়, মিথ্যা অপবাদে, জেলবন্দী অবস্থায় সিআইডি ও রাজ্য পুলিশ জেরার নামে অমানবিক অত্যাচার করে তাঁকে পাগল করে দেওয়ার এবং হত্যা করার চক্রান্ত করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, হাতল বিহীন চেয়ারে টানা ৪০ ঘন্টা জেরা করেও ক্ষান্ত হয়নি রাজ্য সরকার ও তার প্রসাশন! তারপর, রাজ্যের কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে, নামিদামি উকিল দিয়ে, গত সাড়ে নয় বছর নিজের জেলায়, নিজের ঘরে ঢুকতে আইনি পদক্ষেপ জারি করা হয় তাঁর নামে। অভিযোগ এক সময়ের দোর্দন্ডপ্রতাপ বাম নেতা সুশান্ত ঘোষের। অবশেষে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁর ঘরে ফেরা আটকাতে পারলোনা রাজ্য সরকার, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সিপিআইএম এর লড়াকু সৈনিক সুশান্ত ঘোষ আজ ফিরলেন নিজের জন্মভিটে ও বাসস্থান চন্দ্রকোনা রোডে। তাঁর এই ঘরে ফেরার সন্ধিক্ষণে, স্বাক্ষী থাকলেন হাজার হাজার বামপন্থী মানুষ জন। পারমিতা দত্ত গুপ্ত (হুগলি জেলার ব্যান্ডেল) এর মতো অসংখ্য বাম কর্মীরা এলেন ভিন জেলা থেকেও। উপস্থিত হয়েছিলেন, রাজ্য বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য,  প্রাক্তন মন্ত্রী ও আইনজীবী রবিলাল মৈত্র, ডা. ফুয়াদ হালিম, বিজয় পাল সহ বহু বামনেতা। সভাপতিত্ব করলেন অরবিন্দ ব্যানার্জি। সভার গরিমা বৃদ্ধি করলেন, মাওবাদী হামলায় নিহত সালকু সরেনের মা ছিতামনি সরেন কিংবা নিহত ছাত্রনেতা অভিজিৎ মাহাত’র পরিবারের সদস্যরা।

thebengalpost.in
লালঝান্ডার জনপ্লাবন :

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে