মেদিনীপুরের সকলের প্রিয় সুবীর দা আর নেই! মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অসময়েই বিদায় নিলেন স্যাটলিঙ্ক সংবাদের কর্ণধার

thebengalpost.in
বড্ড অসময়ে চলে গেলেন মেদিনীপুরের সুবীর সামন্ত (৫৫) :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর ও উলুবেড়িয়া, ২৯ অক্টোবর: মেদিনীপুরকে প্রথম যিনি স্থানীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের (Local Electronic Media) সাথে পরিচিত করেছিলেন, তিনি সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, স্টুডিও এবং কেবল চ্যানেলের কর্ণধার সুবীর সামন্ত। অবিভক্ত মেদিনীপুরের বুকে স্যাটলিঙ্ক সংবাদের প্রাণ-প্রতিষ্ঠাতা, সকলের প্রিয় সেই সুবীর দা আজ (২৯ অক্টোবর), ভোররাতে মর্মান্তিক এক পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত হলেন! সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর ফটোগ্রাফি ফোরামের অন্যতম কাণ্ডারী সুবীর বাবু নিজের (Personal Car) চারচাকা গাড়িতে করে গতকাল (২৮ অক্টোবর) চব্বিশ পরগণা ফটোগ্ৰাফি ফোরামের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে! সঙ্গে চালক থাকলেও, তাঁকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ওই সময় তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল। হঠাৎ তন্দ্রা এসে গিয়ে বা যেকোনো কারণেই হোক, ভোররাতে (আনুমানিক রাত্রি ২ টো- ৩ টে) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, তাঁদের গাড়িতে একটি বড় ট্রাকের পেছনে ধাক্কা মারে! ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়, বছর ৫৫ এর সুবীর সামন্তের। পাশে বসে থাকা চালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক! তাঁকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়। উলুবেড়িয়া হাসপাতালেই সুবীর বাবু’র প্রাণহীন দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে বলেও জানা গেছে।

thebengalpost.in
সুবীর সামন্ত (৫৫) :

.
.

মেদিনীপুরের সংবাদ ও ফটোগ্রাফি জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সুবীর সামন্ত। তাঁর স্যাটলিঙ্ক সংবাদ চ্যানেলের হাত ধরে, মেদিনীপুর শহর তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অসংখ্য সাংবাদিক এবং চিত্রকর (ফটোগ্রাফার) এর উত্থান! আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় শোকে মুহ্যমান তাঁরা! সুবীর বাবুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে, অনেকেই পুরানো সেই সব দিনের কথা, উচ্চারণ করছেন শোকসন্তপ্ত হৃদয়ে! এই মর্মান্তিক সত্য, মেনে নিতে পারছে না মেদিনীপুর! স্ত্রী ও এক পুত্র’কে রেখে চিরকালের মতো বিদায় নিলেন সকলের প্রিয় সুবীর দা। শোকোস্তব্ধ হৃদয়েই তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, তাঁর ঘনিষ্ঠজন, শুভাকাঙ্ক্ষী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ।

thebengalpost.in
সুবীর সামন্ত (৫৫) :

.

স্যাটলিঙ্ক সংবাদ এবং তাঁর অত্যন্ত প্রিয় তথা মেদিনীপুর বাসীর কাছে সুপরিচিত ‘উর্জ্জনা স্টুডিও’ (মেদনীপুর কলেজের ঠিক সামনেই, ভাই ভাই হোটেলের পাশে) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, সেখানেই তিনি অনেক টাকা বিনিয়োগ করে প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বাড়ি মেদিনীপুর শহরের হাতার মাঠে। সেখানেও ছাপাখানা তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে। পরোপকারী, সহৃদয় সুবীর দা’কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শোক বিহ্বল হৃদয়ে অপেক্ষারত সাংবাদিক, চিত্রকর, সমাজসেবী, উদ্যোগপতি, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মেদিনীপুরবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দুপুর ১ টার পর উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শুরু হবে। সন্ধ্যা নাগাদ মেদিনীপুর শহরে পৌঁছতে পারে তাঁর নিষ্প্রাণ, নিথর দেহ!

thebengalpost.in
বড্ড অসময়ে চলে গেলেন মেদিনীপুরের সুবীর সামন্ত (৫৫) :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে