কয়েকমাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল রাজেশের, স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে আসার কথা দিয়েছিলেন বিপুল, শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, সায়নী দাশগুপ্ত, ১৭ জুন : লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত চীন সংঘর্ষে ইতিমধ্যে, কর্নেল বি. সন্তোষ বাবু সহ ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হয়েছে! মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরো ৪ জন। শহীদ জওয়ানদের মধ্যে ছিলেন বাংলার দুই সেনা জওয়ানও। ১৬ বিহার রেজিমেন্টের সিপাহী রাজেশ ওঁরাও এবং ৮১ মাউন্টেন ব্রিগেড সিগন্যাল কমান্ডের হাবিলদার বিপুল রায়। রাজেশ ওঁরাও বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার প্রত্যন্ত বেলগাড়িয়ার আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা। আর বিপুল রায়ের আলিপুরদুয়ারের ভাটিবাড়ির বিন্দিপাড়ার বাসিন্দা।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বিপুল ও রাজেশ (নীচে) :

সোমবার ভারত-চীন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পর থেকেই দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন দুই পরিবারের সদস্যরা! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই পরিবারে ‘শহীদ’ হওয়ার খবর আসার সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই পরিবারের সদস্যরা ! শোকে স্তব্ধ হয়ে যান পাড়া-প্রতিবেশীরা। রাজেশের বোন দাদার ছবি বুকে জড়িয়ে বার বার বলেছেন, আর কয়েক মাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল দাদার ! সেই দাদা এখন কোথায় চলে গেল! স্ত্রী, ছোট্টো মেয়ে আর বাবা-মা’কে নিয়ে বিপুলের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল সে। সম্প্রতি, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিল মেরঠে নিজের কর্মস্থলে। মাসখানেক আগেই বাড়িতে এসেছিল। ফিরে যাওয়ার সময়, বাবা-মা’কে কথা দিয়ে গিয়েছিল, স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে বাড়ি। বিপুল আর রাজেশ দু’জনই ফিরবেন, তবে কফিনবন্দী হয়ে! শোকে আর অশ্রুতে স্বাগত জানাবে গ্রামবাসীরা, বীরগতি প্রাপ্ত জওয়ানদের। তাঁদের এখন একটাই দাবি, “বদলা চাই!”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় :

বাংলার দুই সেনার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, দুই পরিবারের এক সদস্যকে সরকারী চাকরী সহ পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে শহীদদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “বাংলার দুই জওয়ানের মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত! এই দুই বীর শহীদদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল!”