দেশে ও রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কলকাতা, হুগলি থেকে চব্বিশ পরগণা, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিযায়ীরা, সচেতনতাই একমাত্র প্রতিরোধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২৪ মে :

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের আজকের করোনা বুলেটিন :গত চব্বিশ ঘন্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার (৬৭৬৭), মৃত ১৪২ জন এবং রাজ্যে দ্বিশতাধিক (২০৮) এবং মৃত ৩ জন। দুটি সংখ্যাই অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে ‘সর্বাধিক’ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সবথেকে আশঙ্কার বিষয় হল, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী! লকডাউনের চতুর্থ পর্বে এসে এই পরিস্থিতি হলেও, এই মুহূর্তে যেন আপমর ভারতবাসীর কাছে তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কারণ’টাও অত্যন্ত মানবিক! সহনশীল ভারতবাসী জানে, দেশ কিংবা সভ্যতা গড়ার কারিগরেরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কিংবা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন। বলা ভালো, জীবিকা’র মায়া পরিত্যাগ করেও নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। আর সংক্রমণও হয়তো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হচ্ছে! তাই, সচেতনতা আর সাবধানতা দিয়েই এর প্রতিরোধ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারও দায়বদ্ধ তাদের নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে!

মানবিকতার স্বার্থেই তাই শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন কিংবা বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মীরাও সমস্ত বিষয় সামলানোর চেষ্টা করছেন। তবুও হয়তো আগামী কয়েকমাস সংক্রমণ এভাবেই বেড়ে চলবে! একমাত্র মানুষের সাবধানতাই আত্মরক্ষার একমাত্র বর্ম হতে পারে। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে এসেও সে কথা বলে গেছেন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত বা বাড়ির বাইরে না বেরোনোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কোণঠাসা হয়ে যাওয়া বা ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির স্বার্থে, ধাপে ধাপে প্রতিটি ক্ষেত্রই খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। তা সত্ত্বেও, আগামীদিনে সতর্কতাই একমাত্র বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি হতে চলেছে বলে মনে হয়।

এদিকে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক বলে জানা যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, পটাশপুর, পাঁশকুড়ার তিন যুবক সহ মোট ছ’জন (৬) আজ করোনা আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে। প্রত্যেককে বড়মা হাসপাতালে (বর্তমানে, করোনা হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে বিশ্বস্ত সূত্রে।