দুর্গম জঙ্গল ছাড়িয়ে হলদি নদী তীরবর্তী মৎস্যজীবী পরিবারের অসহায় বিধবা ও প্রবীণা’দের সহায় হয়ে উঠল ‘মিডনাপুর ডট ইন’

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৫ মে :

Advertisement

 

ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দুর্গম আদিবাসী ও লোধা অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর, সুদূর বেঙ্গালুরুতে বিপদে পড়া পরিবারের প্রতিও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার গর্ব ও ঐতিহ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রূপে ক্রমশ বিকশিত হওয়া ‘মিডনাপুর ডট ইন’। এই পর্বে, গত ১৩ মে টিমের সদস্যরা পৌঁছে গিয়েছিলেন, হলদি নদী তীরবর্তী খেজুরি থানার অন্তর্গত দক্ষিণ থানাবেড়্যা গ্রামে।

মিডনাপুর ডট ইনের অন্যতম প্রধান কান্ডারী তথা সমাজ-গবেষক অরিন্দম ভৌমিক জানালেন, এই গ্রামের ইতিহাস ও ইতিকথা, “ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে খেজুরী যখন সমৃদ্ধশালী বন্দরে পরিণত হয় তখন জাহাজের গতিপথ নির্দেশের জন্য ১৮১০ খ্রীষ্টাব্দে খেজুরীতে একটি লাইট-হাউস বা বাতিঘর নির্মিত হয়। ঐ বাতিঘরটি থানাবেড়্যা গ্রামে অবস্থিত হলেও কাউখালী বাতিঘর নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৬৮৮ খ্রীষ্টাব্দে জর্জ হীরোন ও ১৬৮৭ খ্রীষ্টাব্দে থমাস বৌরি’র মানচিত্রে কাউখালীর অবস্থান দেওয়া আছে। থানাবেড়্যা গ্রামটি বেশ বড় এবং মাঝে অবস্থিত মাঠ গ্রামটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে – দক্ষিণ থানাবেড়্যা ও উত্তর থানাবেড়্যা। সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে এই দক্ষিণ থানাবেড়্যা গ্রামেই পৌঁছে গীয়েছিল টিম ‘মিডনাপুর ডট ইন’। এই অঞ্চলের দুঃস্থ মৎসজীবী পরিবারের বিধবা মহিলা ও প্রবীণা’দের হাতে চাল-ডাল-আলু-সোয়াবিন-হলুদ-লঙ্কা -তেল-মুড়ি ইত্যাদি খাদ্যসামগ্ৰী তুলে দেওয়া হল। এই সমস্ত কিছুর দায়িত্বে ছিলেন টিমের সক্রিয় সদস্য সুদর্শন সেন এবং তাঁকে সাহায্য করেছেন আশীষ কুমার দত্ত ও গৌতম দাস ।” অরিন্দম বাবু এও জানালেন, “যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, আমরা এই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”