জেলাজুড়ে বাড়ছে কালাচের আনাগোনা, বর্ষার শুরুতেই মেদিনীপুরে উদ্ধার হল বিরল শ্বেত কালাচ

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৩ জুলাই : ” যদি কাটে ডোমনা, ধরে আন বামনা! ” ডোমনা চিতি বা কালাচ সম্পর্কে এমন অনেক প্রবাদ, অনেক মিথ ছড়িয়ে আছে বাংলাজুড়ে। নিঃশব্দ ঘাতক কালাচ যেন মৃত্যুর সমার্থক! বর্ষার শুরুতেই এশিয়ার বিষাক্ততম সাপেদের গ্রুপ ‘বিগ ফোর’ এর অন্যতম সদস্য এই সাপ গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় ত্রাস হয়ে উঠেছে। রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে মাটির ঘরে থাকা, মেঝেতে ঘুমোনো মানুষের। কেউটে-গোখরোর মতোই কালাচের বিষ নিউরোটক্সিক। এই বিষ স্নায়ুতন্ত্র অকেজো করে দেয়। কিন্তু রহস্যময়তার খেলায় মানুষ মারার। নিরিখে ফণাহীন কালাচ অনেকটাই এগিয়ে কেউটে-গোখরোর থেকে। সবচেয়ে ছোট ও তীক্ষ্ণ বিষদাঁত যুক্ত কালাচ কামড়ালে প্রায় শতকরা ৯০ জনই বুঝতে পারেন না তাদের সাপে কামড়েছে। বেশিরভাগ মানুষ পেটের গন্ডগোল মনে করে পাত্তা দেয় না। আসলে কালাচের কামড়ে কোনও জ্বালাযন্ত্রণা থাকে না, দংশনস্থলে কোনও চিহ্ন থাকে না। পেটে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, খিঁচুনি কিংবা শুধুমাত্র দুর্বলতা অনুভব করার লক্ষণের সঙ্গে দু’চোখের পাতা পড়ে আসার মতো সমস্যা শুধু দেখা যায় রোগীর শরীরে। অন্যদিকে কেউটে-গোখরো বা চন্দ্রবোড়ার দংশনে প্রবল জ্বালাযন্ত্রণা। ফলে সাপে কাটলেই ধরা পড়ে যায়।

thebengalpost.in
শ্বেত কালাচ বা শাঁখা চিতি :

Advertisement

দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় কালাচ দেখা যায়। কালাচ সাপ সহজেই চেনা যায় এদের মাথা আঙুরের মতো লম্বাটে গোলাকার এবং মাথার একটু দূর থেকে লেজের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত গোলাকার সাদা দাগ থাকে। এই কারণে মেদিনীপুর এর মানুষ একে শাঁখাচিতি বলে থাকে। কিন্তু যদি এই কালো কালাচের শরীর হয় ধবধবে সাদা আর গায়ে যদি দাগ না থাকে তাহলে? এমনই এক সাদা ডোমনা চিতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থেকে উদ্ধার করলেন মেদিনীপুর শহরের সর্পপ্রেমী ও পরিবেশকর্মী দেবরাজ চক্রবর্তী। নতুন ধরনের সাপ দেখে ভীড় জমে যায়। পরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় উদ্ধার হওয়া সাপটি একটি পূর্ণবয়স্ক কালাচ বা ডোমনা চিতি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত পরিবেশকর্মী রাকেশ সিংহ দেব জানান, “কালাচের এইরূপ সাদা রঙ হওয়া যথেষ্ট বিরল। যদিও অতীতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ও জয়নগর থেকে এইরকমের সাদা কালাচ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে। এই ধরনের পরিনর্তনকে লিউসিস্টিক পরিবর্তন বলা হয়। সাপের ত্বকের রঙ নির্ধারণকারী জিনের অস্বাভাবিক ঘাটতি থাকলে গায়ের রঙ এমন হয়। জিনঘটিত এই পরিনর্তনের ফলে সাপের গায়ের রঙ সাদা হয়ে যায় কিন্তু এতে চোখের অক্ষিগোলকের স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন হয়না। আসলে সাপটি আংশিক আলবিনো।”

thebengalpost.in
শাঁখা চিতি :

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সাপটিকে উদ্ধারের সময় তার গায়ে কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরবর্তীতে, চিকিৎসার পর আজ (৩ জুলাই) স্বাভাবিক বাসস্থানে সাপটিকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান দেবরাজ বাবু। সাপটিকে না মেরে সঠিক সময়ে খবর দেওয়ার জন্য তিনি এলাকাবাসীদের ধন্যবাদ জানান। কালাচ ছোট ব্যাং, ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে দিন যাপন করে থাকে৷ তাই বর্ষাকাল ও গরমকালে এই ধরণের প্রানীর ঘরে আনাগোনার ফলেই এই সাপটিকে বাড়ির আনাচে কানাচে খাদ্যের জোগাড়ে ঘুরতে দেখতে পাওয়া যায়৷ এসময় কালাচের হাত থেকে বাঁচতে সবার প্রথমে দু’টি জিনিস করতে হবে। এক, সবসময় বিছানা ঝেড়ে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। দুই, বাড়িতে থাকা ইঁদুরের গর্ত বুজিয়ে ফেলতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে হবে। এই সাপ দংশন করলে ওঝা গুনীনের বুজরুকিতে সময় নষ্ট না করে তাকে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।