চারশো-পাঁচশো এখন অতীত, একদিনে রাজ্যে ৬২৪! ঘটালে নার্সিং ছাত্রী করোনা আক্রান্ত, দাসপুরে বেড়েই চলেছে, খড়্গপুরে ১ জন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ৩০ জুন : সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নজিরবিহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। নিত্যদিন নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে! সাড়ে পাঁচ লক্ষ পেরিয়ে গেছে মোট আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা! প্রায় ১৮০০০ (১৭৯০৭) ছুঁয়ে ফেলল মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত চব্বিশ ঘণ্টায়, নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৪ জন। ৪০০-৪৫০-৫০০-৫৫০ এর গন্ডি ছাড়িয়ে একেবারে ছশো (৬০০) পার! গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। আশঙ্কার মধ্যেই আশার কথা হল, দেশে ও রাজ্যে সুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে এবং চিকিৎসাধীন আক্রান্তের মধ্যে অধিকাংশ জনই উপসর্গহীন। তাই, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন আক্রান্তরা। তা সত্বেও, সচেতনতা অবলম্বন না করলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
করোনা বুলেটিন :

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ৫ জন। এর মধ্যে, পূর্ব মেদিনীপুরের চারজন আক্রান্তই ছিলেন এগরা ১ ও ২ নং ব্লকের পরিযায়ী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৬ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৪ জন দাসপুর এলাকার; এদের মধ্যে ৩ জন আবার একই পরিবারের! ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের অন্তর্গত নার্সিং কলেজের এক তৃতীয় পর্ষের ছাত্রীও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং খড়্গপুরের ৬ নং ওয়ার্ডের ভবানীপুরের এক চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
জেলার করোনা চিত্র :

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর ১ নং ব্লকের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোকুলনগর গ্রামের এক পরিবারের বাবা, মা এবং মেয়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তা বেড়েছে, প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। কারণ, ঐ ব্যক্তি ব্যবসার কাজে ভিন জেলাতে যাতায়াত করলেও তাঁর স্ত্রী-কন্যা জেলার বাইরে যাননি! ঐ ব্যক্তি’র জ্বর হলে, তিনি তাঁর পরিবারের তিন জনেরই নমুনা পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করেন। রিপোর্টে তিনজনেরই পজিটিভ আসায় চিন্তা বেড়েছে! সেক্ষেত্রে গোষ্ঠী সংক্রমণের ভয় করছেন অনেকে। আবার ঐ ব্যক্তির মেয়ে নিয়মিত টিউশন পড়তে যাচ্ছিলেন, তাই সংক্রমণের ভয় করছেন অনেকে। এদিকে, ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের এক ট্রেনি নার্স তথা নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী’র করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর গতকাল সকালেই তাকে শালবনী করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় বর্ষের সমস্ত ছাত্রীর করোনা পরীক্ষা করা হয়। একজনের রিপোর্টই পজিটিভ বলে জানা গেছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতেও দাসপুর থানার অন্তর্গত ২ জনের রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের শালবনী হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।