” কচ্ছপ বা কাছিম বিক্রি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ ” , তা সত্বেও চলছে দেদার বিক্রি, পুলিশি হস্তক্ষেপের আবেদন সমাজসেবী ও পশুপ্রেমী’দের

Advertisement

নবীন কুমার ঘোষ, মেদিনীপুর, ২৮ জুন : আমফান ঝড়ের পর আষাঢ়ের বর্ষা। নিয়মিত বৃষ্টির জলে নদী-খাল-বিল-পুকুর জলে পরিপূর্ণ। এই সময় বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু মাছ থেকে কচ্ছপ ডাঙায় উঠে আসে। পরিবেশ সংরক্ষণ বা বাস্তুতন্ত্রের প্রয়োজনে এই লুপ্তপ্রায় প্রাণীর গুরুত্ব রয়েছে। তাছাড়া, হিন্দু শাস্ত্র মতে এই প্রাণী কুর্ম্ম অবতার হিসেবে পুজ্য। পৃথিবী যখন জলের তলায় চলে যাচ্ছিল, সেই সময় নারায়ণ দেবতা এই বিলুপ্ত প্রাণী কচ্ছপের রূপ ধারণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু, সেই কচ্ছপ বা ‘কুর্ম অবতার’ কেই মাছ, মাংসের মতো করে বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে; আর ‘সর্বভুক’ মানুষের তা অন্যতম প্রিয় ভোজ্য বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে! যদিও, লুপ্তপ্রায় কচ্ছপ এবং কাছিম বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু, এই বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই পুলিশ-প্রশাসনের! দেদার চলছে কচ্ছপ বিক্রি, আর একশ্রেণীর মানুষ তা কিনছেনও।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে কচ্ছপ :

Advertisement

পটাশপুর থানার অন্তর্গত ১নং অঞ্চলের অযোধ্যাপুর বাজারে গেলেই দেখা যাবে, মাছের সঙ্গে লুকিয়ে-চুরিয়ে কচ্ছপ (কাছিম) বিক্রি করছে কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কচ্ছপের মাংস। আইনত, ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুজনেই অপরাধী! যারা ক্রেতা, তারা জানে কোন ব্যবসায়ীর কাছে পাওয়া যাবে! অপরদিকে, কিছু সচেতন ক্রেতা এর বিরুদ্ধে! একজন ক্রেতা মাছ কিনতে গিয়ে, কচ্ছপ কাটার দৃশ্য দেখে প্রতিবাদও করেন! ঐ ক্রেতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ’ এর অন্যতম কান্ডারী, তথা সভাপতি কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী। ছাত্রসমাজের সভাপতি বলেন, “বিলুপ্ত প্রাণীকে খাবার হিসেবে ব্যবহার করাও উচিত নয় বলে আমি মনে করি। বাজারে মাঝে মধ্যেই এই কচ্ছপ বা কাছিম বিক্রি হচ্ছে। তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও প্রবল উৎসাহ! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এই কচ্ছপ বিক্রি করছেন। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন থানার অন্তর্গত বাজারগুলোতে পুলিশের নজরদারি চালানো উচিত। কারণ, এই কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।”
একই বক্তব্য মেদিনীপুরের অন্যতম পরিবেশ-প্রেমী রাকেশ সিংহ দেবেরও। তিনি বললেন, “অবিলম্বে কচ্ছপ এবং কাছিম বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিৎ, এই কাজ আইনত নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। এটা একটা বিলুপ্ত শ্রেণীর ভারতীয় কাছিম। এটা ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাপশেল প্রজাতির কাছিম। এরা নদী জলাশয়ের মিষ্টি জলের বাসীন্দা। ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২ অনুসারে এই কাছিম তপশিলি ১ তালিকাভুক্ত। একে ধরা বা মারারা শাস্তি হিসেবে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং দশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানার প্রতিবিধান রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এবিষয়ে সচেতনতার অভাবের কারনে এই ধরনের দুষ্কর্ম দিনের পর দিন হয়ে চলেছে। প্রশাসন মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রসারের পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এবং বাজারগুলির উপর নজরদারি চালালে এই ধরনের অপরাধ কমবে। “