বিশ্বে ১ কোটি’র বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত, মৃত্যু ৫ লক্ষ! ভ্যাকসিন আসার আগে পর্যন্ত সচেতনতাই একমাত্র ‘ওষুধ’ হতে চলেছে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২৮ জুন : ২৭ জুন এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে এক কোটি’র বেশি মানুষ ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ২৮ জুন রাত্রি ২ টো নাগাদ, অর্থাৎ এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে! না, আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এই তথ্য প্রদান করা হচ্ছেনা। সঠিক তথ্য তুলে ধরা ও সচেতনতার বার্তা দেওয়ার জন্যই এই প্রতিবেদন। আশার কথা হল, বিশ্বের এ যাবৎকালের সবচেয়ে সংক্রামক এই ‘মহামারী’ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার যথেষ্ট ভালো, প্রায় ৫৪ শতাংশ (সারা বিশ্বে) এখনো পর্যন্ত। এই হার আগামীদিনে আরো বাড়বে, কারণ, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ জনেরই মাইল্ড সিম্পটম বা স্বল্প উপসর্গ। পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে। মৃত্যুর হার সারা বিশ্বে ৫ শতাংশ! এই ৫-৬ শতাংশ মানুষ বাদ দিয়ে, ৯৪-৯৫ শতাংশ মানুষই ধাপে ধাপে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় এখনো শীর্ষ স্থান দখল করে বসে আছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ)। যে যায়গায় তারা পৌঁছে গেছে, হয়তো শীর্ষ স্থানে তারাই থাকবে! ব্রাজিল দু’ নম্বর এবং রাশিয়া তিন নম্বর স্থানে। ভারত চতুর্থ স্থানে!

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বিশ্বের পরিসংখ্যান :

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ছ’দিনে দেশে ১ লক্ষ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই ভাবে চললে, প্রতি ৫ দিনে ১ লক্ষ করে মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়বেন, নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন আসার আগে পর্যন্ত। ভারতে এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মানুষ সাড়ে পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ। জুলাই মাসের মধ্যে সংখ্যাটা দশ লক্ষে পৌঁছে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হয়তো আক্রান্ত হওয়ার হার কমতে পারে, কিংবা সেপ্টেম্বর থেকে। বিশেষজ্ঞরা তেমনই মত দিয়েছেন। আর, সেজন্যই ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে স্কুল-কলেজ-উইনিভার্সিটি বন্ধ রাখা। একের পর এক আইআইটি’ও পরীক্ষা সহ সমস্ত রকম কর্মসূচি বাতিল করছে। ভারতে সুস্থতার হার প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং চিকিৎসাধীন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৯ শতাংশ। সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬০০০ জনের কিছু বেশি সংখ্যক মানুষের। মৃত্যুর হার ৩ শতাংশের কাছাকাছি। তবে, সুস্থতার হার শেষ পর্যন্ত ৯৬-৯৭ শতাংশ’তে পৌঁছে যাবে বলে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তার মানে কি ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই? চরম ভাবে আছে! কারণ, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১০ লক্ষ মানুষ করোনা আক্রান্ত হলে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর ভয়ঙ্কর ভাবে চাপ পড়বে। সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল ইতিমধ্যে করুণ! আগস্ট, সেপ্টেম্বর নাগাদ তা আরো ভেঙে পড়তে পারে। তাই, একমাত্র উপায় সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। নাহলে, চিকিৎসার অভাবে ১ কোটি ৩৭ লক্ষের দেশে বহু মানুষকে মরতে হবে। চিকিৎসার নামে এক নির্মম পরিহাসের শিকার হতে হবে, সাধারণ মানুষকে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ভারতের পরিসংখ্যান :

আমেরিকা থেকে শুরু করে রাশিয়া, চীন, ইংল্যান্ড কিংবা ভারত, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, বহু দেশ। সফল প্রয়োগ হওয়ার পরও, তা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছতে হয়তো আরো তিন’মাস কিংবা ছ’ মাস বা এক বছর! ততদিনে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা সার্বিক পরিকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে না চাইলে, সাধারণ মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো, জমায়েত প্রভৃতি বন্ধ করতে হবে আগামী দু-তিনমাস। মাস্ক’কে সঙ্গী করতে হবে বছর দু-এক কিংবা বছর দশেক! সাবান, স্যানিটাইজার তো সভ্য জীবনের অন্যতম প্রসাধনী হতে চলেছেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৬ জুন তাই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, “যতদিন না ভ্যাকসিন বাজারে আসছে। দূরত্ব বজায় রাখুন, মাস্ক ব্যবহার করুন আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরেই থাকুন।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
সভ্য সমাজের সঙ্গী :