পুরী থেকে মাহেশ, মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম করোনা আবহে বে-রঙিন রথযাত্রা সর্বত্র

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদক, সায়নী দাশগুপ্ত, ২৪ জুন : করোনা’র থাবায় উৎসবের রঙ এবার ফিকে! রথ মানেই মেলা, আনন্দ, হই-হুল্লোড়; কিন্তু করোনা সংক্রমণের জেরে জৌলুস হারিয়েছে এবছরের রথযাত্রা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরীর জগন্নাথ দেবের  রথযাত্রা শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পেলেও, এবছর তেমন জমলো না পুরীর রথযাত্রা।
তাই কার্যত নমো নমো করে আয়োজন করা হয়েছে এবছরের রথযাত্রা। পুরীর রথের চাকা গড়ালেও, ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসব এবার অন্য ভাবে আয়োজন করা হল। শুধুমাত্র সেবাইতরাই টানলেন রথ। পুরো এলাকা জুড়ে জারি থাকল কারফিউ। অনলাইনে সাধারণ মানুষ দর্শন করলেন রথযাত্রা।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
পুরীর রথযাত্রা :

মাহেশ, গুপ্তিপাড়া, মহিষাদল, তারাপীঠ, মায়াপুর সহ এবার সবজায়গাতেই মন্দিরের ভেতরে মাসী বাড়ী করা হল। তেমনই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার রথযাত্রার চিত্রও অন্য ভাবে ফুটে উঠল এবার। ঝাড়গ্রাম শহরেও এদিন গড়ালো না রথের চাকা! ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ীর রথযাত্রা বহু বছরের বিখ্যাত। কিন্তু, মহামারীর জেরে এবছর স্থগিত রাখা হয়েছে। তেমনই লালগড়ের রথ, চিল্কীগড় রাজবাড়ীর রথ, গিধনীর রথ, নয়াগ্রামের রথযাত্রা প্রভৃতি সব জায়গাতেই মন্দিরের ভেতরে আয়োজিত হয়ছে জগন্নাথ দেবের পুজো। মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যমন্ডিত জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা উৎসব এবার নতুন রূপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্দিরের ঠিক উল্টোদিকে জগন্নাথ মন্দির সংস্কার কমিটির অফিস চত্বরেই এবার করা হয়েছে অস্থায়ী মাসী বাড়ি। সেখানেই, পুরোহিতদের কোলে চেপে জগন্নাথদেব প্রবেশ করলেন।
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মেদিনীপুরের রথযাত্রা (প্রতীকী নগর পরিক্রমা) :

তবে, মানুষের মনখারাপ হলেও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে মেনে নিয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। মোবাইল এবং টিভিতে তাঁরা দেখেছেন রথযাত্রা। তবে, অনেক উৎসাহী মানুষ দূর থেকে একটু দর্শন করার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জায়গাতেই। প্রথা মতো, আজ (বুধবার) জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও মাতা সুভদ্রা বিশ্রামে আছেন। নিয়মমাফিক পূজার্চনা হচ্ছে। মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জায়গাতে, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে ছ’দিন ধরে ছয় বেশ (নারায়ণ বেশ, রাখাল রাজা বেশ, রাজ বেশ, রামরাজা বেশ, বামন অবতার বেশ ও কলকি অবতার বেশ) ধারন করে ভক্তদের দর্শন দেবেন। দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে দূর থেকে ভক্তরা দর্শন করতে পারবেন।

Advertisement