রুজির টানে পুরানো গন্তব্যে ফিরে এলেন পরিযায়ীরা, আপাতত থাকবেন কোয়ারেন্টিনে

Advertisement

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ২১ জুন :  “শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ পরে ওরা কাজ করে….”। শ্রমজীবী আর কৃষিজীবী মানুষের কর্ম নির্ভরতার উপর ভর করেই এগিয়ে চলেছে এই সুবৃহৎ সভ্যতা আর সমাজ! তাই বন্যা, খরা, যুদ্ধ কিংবা মহামারী উপেক্ষা করে, নিজেদের কর্ম জীবনে ফিরে যেতে হয় তাঁদের। অতিমারী করোনার আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। সারাদেশে সংক্রমণ বাড়ছে বই কমেনি এখনো! তার মধ্যেই সমস্ত আতঙ্ক আর পিছুটান উপেক্ষা করে , ‘ওরা’ কাজে যোগ দিতে সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের পিড়াকাটায় ফিরে এল। আপাতত ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বা নিভৃতবাসে থাকবেন তাঁরা।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
একজন পরিযায়ী শ্রমিক :

শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন প্রায় ৪০-৫০ জন শ্রমিক। তাঁদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। লকডাউন শুরু (২৪ মার্চ) হওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ কষ্ট করে চালিয়ে নিলেও, ক্রমাগত লকডাউন বৃদ্ধি হতে থাকায়, তাঁরা সমস্যায় পড়েছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কিছু সহৃদয় মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও প্রতিদিন দু’বেলা খাদ্যের সংস্থান করা দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। তাই, প্রশাসনের কাছে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। শালবনী ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু, ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা! তাই, মাস দেড়েক রুজি-রোজগারহীন থাকার পর, ফের জীবন ও জীবিকার টানে পুরানো গন্তব্যে ফিরে আসা! এদিকে, লকডাউনও শিথিল হয়েছে, তাই সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে পুনরায় নিজেদের পুরানো গন্তব্য শালবনী ব্লকের পিড়াকাটায় আজ (২১ জুন) ফিরে এলেন কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে, আপাতত ১৪ দিন তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।