সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রিতেও ‘নেপোটিজম’ বিতর্ক উস্কে দিল, শ্রীলেখা আর স্বস্তিকা এখন সম্মুখ-সমরে

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ২১ জুন : ১৪ জুন আত্মহত্যা করেন বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই নিজের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি! যদিও এই ঘটনাকে পরোক্ষে ‘খুন’ বলছেন, তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে বলি ইন্ড্রাস্ট্রির অনেক ছোটো-বড়ো অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই! এরপরই একের পর এক উঠতে থাকে, করণ জোহর, সলমান খানের বিরুদ্ধে স্বজনপোষনের অভিযোগ!

Advertisement

সুশান্তের মৃত্যুর পর বাংলা ছবির ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল ছিল, বলিউডের মত বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতেও কি স্বজনপোষণ হয়, এই নিয়ে! সেই কৌতূহলের আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আর সেই আগুনকেই এবার আগ্নেয়গিরি’তে পরিণত করলেন, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
সুশান্তের মৃত্যুতে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানাতে, শ্রীলেখা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিওতে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর পা রাখা থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত যাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, যখন ইন্ডাস্ট্রিতে নব্বইয়ের দশকে পা রাখেন, তখন হিট জুটি ছিল প্রসেনজিৎ এবং ঋতুপর্ণার। কোন প্রযোজক-পরিচালক তাই নতুন কোনো মেয়েকে নায়িকা হিসাবে সই করাতেন না, আর তখন প্রসেনজিতের সাথে ঋতুপর্ণার প্রেম চলছিল। তাই উনি দেরি করে এলেও তাঁকে দিয়েই নায়িকার চরিত্র করানো হতো। আর শ্রীলেখার কপালে জুটতো নায়িকার বোন বা দিদি কিংবা অন্য কোনো পার্শ্বচরিত্র। এমনকি যখন ঋতুপর্ণা- প্রসেনজিৎ জুটি ভেঙ্গে যায় তখনও “অন্নদাতা” ছবিটি করার সময় প্রসেনজিৎ তাঁর সাথে স্ক্রীন শেয়ার করতে চাননি, কারণ শ্রীলেখা’কে দেখতে নাকি কেউ সিনেমা হলে যাবেনা! যদিও পরে ওই সিনেমা’টি হিট হয়। তিনি আরো বলেন, ”এই ইন্ডাস্ট্রিতে গডফাদার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গডফাদার হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কোনও কিছুর বিনিময়ে তোমায় কাজ পাইয়ে দেবেন। আমার সেই অর্থে কোনও গডফাদার ছিল না। সেসময় মূলত, প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত, তাপস দা (তাপস পাল)রাই ইন্ডাস্ট্রি চালাত। তার মধ্যে বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ) নম্বর ওয়ান, তিনিই ইন্ডাস্ট্রি! সেসময় আমাকে প্রথমেই নায়িকার চরিত্র দেওয়া হয়নি। পার্শ্ব চরিত্রই করতে হয়েছে, আমার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও! সেকারণেই, টেলিভিশনেই বেশি কাজ করতে শুরু করি। আমি তো কারুর সঙ্গে জুটিই বাঁধতে পারলাম না। আজ অবধি, আমার কোনও হিরো, পরিচালক, প্রযোজক কেউই প্রেমিক হয়নি। তাহলে আমায় কে কাজ দেবে? তার উপর আমি ট্যারা কথা বলি, সুন্দরী হওয়ার সুযোগও নিই না। আর ছবিতে নায়িকার চরিত্র পাওয়ার জন্য হয় কোনো পরিচালক, প্রযোজক বা অভিনেতার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হতো, নাহলে বিছানায় শুতে হতো। আমি ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারি, ক্যামেরা বন্ধ হলে আর পারিনা। তাই, আমার আর সেইভাবে নায়িকা হওয়া হয়নি।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

শুধু তাই নয়, শ্রীলেখা তাঁর ভিডিওতে সৃজিত মুখার্জী, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনেক কিছু মন্তব্য করেন। এমনিতেই স্বস্তিকা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সোজা কথা বলার মানুষ হিসেবে পরিচিত, তাই শ্রীলেখার এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সোশাল মিডিয়ায়। নিজের পোস্টে প্রশ্ন তুলে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় লেখেন, ”ছোট্ট প্রশ্ন। যখন কোন অভিনেত্রী কোন পরিচালকের সঙ্গে এক বা একের বেশি ছবি করে তখন বলা হয়, সে শুয়ে বা প্রেম করে কাজটা পেয়েছে। বেশ। তা আমি এক পরিচালকের সঙ্গে তার জীবনের ১৭টা ছবির মধ্যে আড়াইখানা ছবি করেছি (২টি মুখ্য চরিত্র, ১টি অতিথি শিল্পী)। কিন্তু যেহেতু এই পরিচালকের সঙ্গে সৌমিক হালদার ১১টা, অনুপম রায় ৯টা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ৭টা, যীশু সেনগুপ্ত ৭টা, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ৬টা এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ৬টা কাজ করেছেন, তারা নিশ্চয় আরো বেশি করে শুয়ে আর প্রেম করে কাজগুলো পেয়েছেন? এনারা তাহলে সবাই উভকামী ও সুযোগসন্ধানী? যুক্তি তো সবার ক্ষেত্রেই এক হওয়া উচিৎ, তাই না? নাকি নিজের খামতি ঢাকতে স্লাটশেমিং শুধু আমাদের মত ‘কুযোগ্য’ অভিনেত্রীদের করা হবে, যারা একেবারেই অভিনয়টা পারেনা?”

যদিও স্বস্তিকা সরাসরি সৃজিত কে নিয়ে কিছু বলেননি, তবে পোস্ট দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে তিনি সৃজিতের কথাই বলেছেন।তবে শ্রীলেখা এখনো এর পাল্টা জবাব দেননি। তবে জবাব দিলে যে এই জল অনেক দূর গড়াবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। শ্রীলেখার এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন টোটা রায়চৌধুরী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরাও। এখনো প্রসেনজিৎ বা সৃজিত কোনো মন্তব্য করেননি!