আগামীকাল বহু অপেক্ষিত বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ! ১০০ বছর পর হওয়া দীর্ঘতম এই গ্রহণ সম্পর্কে জেনে নিন

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, সায়নী দাশগুপ্ত, ২০ জুন : ২১ জুন ২০২০ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবে সারা দেশ! সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (বা, Ring of Fire) , কারণ প্রতি ১০০ বছর ছাড়া এই দুর্লভ সূর্য গ্রহণ দেখা যায়। আংশিক সূর্যগ্রহণ বা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের থেকে দেখতেও এটি সুন্দর! আর এবার ভারতেই এই গ্রহণ দীর্ঘতম হতে চলেছে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (সংগৃহীত ছবি) :

Advertisement

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ : এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সূর্যের ওপর এমন ভাবে পড়ে,
যাতে সূর্যের চারপাশের আলোর বলয় রেখা দেখা যায়। এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সম্পূর্ণ ভাবে সূর্যকে গ্রাস করতে পারে না, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে যেটা হয়। আবার, আংশিক সূর্যগ্রহণের মত, সূর্যের বেশিরভাগ অংশও দেখা যায় না! শুধু আংটির মত বলয় টুকু দেখা যায়। সেজন্যই এই সূর্যগ্রহণকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বা রিং অফ ফায়ার বলেছেন বিশেষজ্ঞেরা।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
রিং অফ ফায়ার :

পৃথিবীর বেশ কিছু অংশ থেকেই দেখা যাবে, বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। সূর্যগ্রহণ শুরু হবে কঙ্গোতে, সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ভারতে এবং গ্রহণ শেষ দেখা যাবে ফিলিপিন্সর আকাশে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা, ভারতমহাসাগরীয় অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে রবিবারের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
ইউরোপ ,অস্ট্রেলিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্থান ও চিনেও এই বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে।
জ্যোতির্বজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, ভারতে এই সূর্যগ্রহণ ভালোভাবে দেখা যাবে রাজস্থানের ঘারসানা থেকে।
সকাল ১০ টা নাগাদ শুরু হবে গ্রহণ। ভারতে, সকাল ১১:৪৯ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ১১:৫০ মিনিট পর্যন্ত, এই এক মিনিট সময় প্রায় চাঁদের আড়ালে থাকবে সূর্য। তবে, অনেক বিজ্ঞানী বলছেন ৩০ সেঃ স্থায়ী হবে এই গ্রহণ, আবার অনেক বলছেন ৫ মিঃ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এই গ্রহণ। বিকেল ৩ টে অবধি বিভিন্ন দেশে এই গ্রহণ দেখা যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
রাজস্থান, দিল্লি, উওরাখণ্ডের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও, কলকাতা থেকে দেখা যাবে এই গ্রহণ। গ্রহণ দেখতে পাবেন অবিভক্ত মেদনীপুরের মানুষও, তবে আংশিকভাবে। মেদিনীপুর শহরের ভূগোল বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ডঃ শুভেন্দু ঘোষ জানিয়েছেন, “উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে সবথেকে ভালো ভাবে দেখা যাবে। রাজস্থান, দিল্লি প্রভৃতি জায়গা থেকে যত ভালোভাবে দেখা যাবে, কলকাতা বা জেলা থেকে ততোটা ভালো দেখা যাবে না! আমরা আংশিকভাবে দেখতে পাবো।”