চীনা অ্যাপ থেকে সাবধান! বিকল্প অ্যাপের সন্ধান দেওয়া হচ্ছে, ব্যবহার করুন সেগুলি

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ১৯ জুন: ভারত-চীন যুদ্ধ শুরুর আগেই চীন’কে বয়কট করার জন্য “ভোকাল ফর লোকাল” এর ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্দেশ্য ছিল, ভারতের বাজার থেকে সমস্ত চীনা পণ্য সম্পূর্ণ রূপে বর্জন করতে হবে। ভারত-চীন সীমান্তে (LAC) চীনা সৈন্যদের আগ্রাসনে ক্ষিপ্ত ছিল গোটা দেশ। তারপর ১৭ তারিখের হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ায় সেই আগুনে যেন ঘি ঢালা হল! আপাতত, ৩০০০ টি চীনা পণ্য, ৫২ টি চীনা অ্যাপ বর্জন করার আবেদন জানানো হয়েছে দেশবাসীর কাছে।

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
৫২ টি অ্যাপের মধ্যে রয়েছে টিকটক, ভিগো, জেন্ডার, সেয়ার ইট, বিউটি প্লাস, ভিবা ভিডিও অ্যাপ ইত্যাদি। আর এই অ্যাপ গুলির বিকল্প হিসেবে অন্য কিছু অ্যাপের সন্ধান দিচ্ছেন ভারতীয় টেকনোলজিস্টরা । দেখে নিন সেগুলি :
১. TikTok এর বদলে – Bolo Indya, Roposo.
২. PUBG Mobile গেমের বদলে – Call of Duty, Garena Free Fire.
৩. Helo অ্যাপের বদলে – ShareChat.
৪. SHAREit বা Xender এর বদলে Files by Google.
৫. UC Browser এর বদলে Google Chrome.
৬. CamScanner এর বদলে Adobe Scan, বা Microsoft Lens.
৭. BeautyPlus এর বদলে B612 Beauty এবং Filter Camera, Candy Camera.
৮. Club Factory, Shein এর বদলে Flipkart, Amazon India এবং Koovs.
৯. App Lock এর বদলে Norton App Lock.
১০. VivaVideo এর বদলে KineMaster, Adobe Premier Rush.
১১. LiveMe, Kwai এর বদলে Periscope.
১২. UC News এর বদলে Google News.
১৩. Parallel Space এর বদলে App Cloner.
দ্য বেঙ্গল পোস্ট

একটি তথ্য সুরক্ষা সংস্থার সমীক্ষা থেকে উঠে এসেছে যে, Helo, Shareit এবং UC ব্রাউজারের মতো জনপ্রিয় ১০ টি চীনা অ্যাপের মধ্যে ৬ টি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের থেকে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের তথ্য নেওয়ার অনুমতি চায়। কিন্তু উপরে উল্লিখিত অ্যাপগুলির ক্ষেত্রে এই ধরণের অনুমতির প্রয়োজন হয়না। পুনের Arrka Consulting এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ রাও বলেছেন, “বিশ্বের শীর্ষ ৫০ টি অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা চাওয়া অনুমতির চেয়ে চীনা অ্যাপ ৪৫ শতাংশ বেশি কিছুর অনুমতি চায়!” সমীক্ষায় এও জানা গেছে যে, এই অ্যাপগুলি ব্যবহারকারীদের ডেটা প্রায় সাতটি বিদেশী সংস্থায় স্থানান্তর করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপগুলি ৬৯ শতাংশ তথ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়। এছাড়াও টিকটক চীন টেলিকমকে তার ডেটা প্রেরণ করে, অন্যদিকে ভিগো ভিডিও তার তথ্য টেনসেন্টকে সরবরাহ করে, বিউটিপ্লাস তার ডেটা Meitu কে এবং কিউকিউ এবং ইউসি ব্রাউজারের ডেটা তার মূল সংস্থা আলিবাবার কাছে পৌঁছায়। শুধু ডেটা চুরি নয়, চীনা অ্যাপের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। ২০১৭ সালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, চীন ডেভেলপারদের দ্বারা তৈরী ৪২ টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর জন্য এই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এদিকে গতকাল ৫২ টি চীনা অ্যাপকেও ব্লক করার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শুধু মাত্র অ্যাপস নয়, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ভারতে মোবাইল ফোনের বাজারে সবচেয়ে বড়ো ৫ টি মোবাইল কোম্পানির মধ্যে একমাত্র স্যামসাং কোরিয়ার কোম্পানি, বাকিগুলো চীনের! এরমধ্যে শাওমি ৩০%, ভিভো ১৭%, রিয়েলমি ১৪%, অপ্পো ১২% বাজার দখল করে আছে। এছাড়াও চীনের কোম্পানি ওয়ান প্লাস একটা বড় বাজার দখল করে আছে।
মোবাইল এবং তাতে ব্যবহৃত অ্যাপসগুলি নিত্যদিনের সঙ্গী। চীন থেকে প্রথমে করোনা ভাইরাস এবং সীমান্তে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার পর সমস্ত ভারতীয়রা চাইছে চীনা পণ্য বর্জন করতে। কিন্তু, বর্জন করবো বললেই তো আর রাতারাতি বর্জন করা যাবেনা! বর্জন করার আগে ভারতে সেই সমস্ত পণ্য গুলির কাঁচামালের যোগান সহ পরিকাঠামো বা ওই দ্রব্য গুলির থেকে একই রকম সুবিধা পাওয়া দ্রব্য ভারতের বাজারে সহজলভ্য করতে হবে। আপাতত সেই চেষ্টাই চলছে এবং সেই দিকেই তাকিয়ে সারা দেশবাসী!