মেদিনীপুর থেকে কলকাতা হন্যে হয়ে ঘুরেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ৮ বছরের বালকের, কাজে এলনা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, ৪০ হাজার টাকা বিল মিটিয়েও হারাতে হল পুত্রকে

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জুন : এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল, জঙ্গলমহলের শালবনী থেকে সদর শহর মেদিনীপুর! মুখ্যমন্ত্রীর সাধের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড সঙ্গে নিয়েও, রাজধানী কলকাতার তাবড় সরকারি হাসপাতালে মিলল না চিকিৎসা! মরনাপন্ন ৮ বছরের বালককে নিয়ে এসএসকেএম থেকে চিত্তরঞ্জনে ঘোরার পর, এক বেসরকারি হাসপাতালে দু’দিনের বিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা মিটিয়েও হারাতে হল একমাত্র পুত্রকে! ফের বে-আব্র হয়ে পড়ল রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার হাল!

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
১৬ জুন গ্রামবাসীদের যৎসামান্য সাহায্য, তখনো কেউ জানতনা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হবে :

শালবনী ব্লকের ৬ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বেলাশোল গ্রামের বিষ্টু চরণ মাহাত’র এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে রাহুল মাহাত (৮) স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো। গত ১৫ জুন (সোমবার), বাড়ির সামনেই সে সাইকেল চালাচ্ছিল। হঠাৎ পড়ে গিয়ে, সাইকেলের হ্যান্ডেল ঘুরে গিয়ে ব্রেকের সামনের অংশ তার চোখের ভেতরে ঢুকে যায় মারাত্মক ভাবে। প্রচন্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে সে! কোনোমতে চোখ থেকে তা বের করেই নিয়ে যাওয়া হয়, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে চোখের এই জটিল অপারেশন সম্ভব নয় বলে, রেফার করা হয় পিজি বা এস এস কে এম হাসপাতালে। পিজি’তে ভর্তি করতে না পেরে, তাঁরা ওই মরনাপন্ন বাচ্চাকে নিয়ে যান চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে। সেখানেও আইসিইউ বেড পাওয়া যাবেনা, এই অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়! সঙ্গে ছিল স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। সেই কার্ড নিয়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরেও পাওয়া যায়নি চিকিৎসা পরিষেবা। অবশেষে, একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, অপারেশন বাবদ ১ লক্ষ টাকা জমা করতে বলা হয়। সেই মুহূর্তে সঙ্গে এত টাকা না থাকায়, দু’দিনের প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিল মিটিয়ে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মেডিক্যাল কলেজের আইসিইউ’তে ভর্তি করার আগেই, হাসপাতালে পৌঁছনোর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হয় ৮ বছরের রাহুলের! মর্মান্তিক এই ঘটনায় ভেঙে পড়েন রাহুলের বাবা বিষ্টুচরণ সহ গ্রামবাসীরা। সকাল থেকে এই মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি বেলাশোল গ্রামে থাকা তার মা’কে। কিন্তু, ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছনোর সাথে সাথেই শোকবিহ্বল গ্রামবাসীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর তার মা’ মূর্ছা যাচ্ছেন বার বার!
শোকে পাথর আর লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যেতে বাধ্য রাজ্যের সচেতন নাগরিকদের! জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য, চেষ্টা করা হয়েছিল, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়ার ব্যাপারে; কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য সম্ভব হয়নি। স্থানীয় শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মাহাত বললেন, “মর্মান্তিক ঘটনা! কিছুই করতে পারলাম না আমরা। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে ১৬ জুন ৬৯০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল ওর মায়ের হাতে। তখনও ভাবতে পারিনি কোথাও চিকিৎসা পরিষেবাই মিলবেনা! সম্পূর্ণ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে :