করোনা সঙ্গে নিয়েই বিমানে করে কাকভোরে কলকাতায়, গাড়িতে করে সোজা বড়মা হাসপাতালে

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৬ জুন : পূর্ব মেদিনীপুরের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ৯ জন যুবক চেন্নাইয়ের কাছে চিঙ্গলপুটে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। সেখানেই তাঁদের এক সহকর্মীর উপসর্গযুক্ত করোনা ধরা পড়ে। কিন্তু, বাকিদের মধ্যে উপসর্গ না থাকায়, চেন্নাইয়ের সরকারি হাসপাতালে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। এরপর, নিজেদের উদ্যোগে তারা আইসিএমআর স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে করোনা পরীক্ষা করান। ৭ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও, ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে! এদিকে, সংস্থার মালিকও তাদের কোয়ার্টার খালি করতে বলে। এই পরিস্থিতিতে করোনা সঙ্গে নিয়েই ওই দুই যুবক, তাদের অন্য সাত সঙ্গীর সাথে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন। বিমানবন্দর থেকে সোজা গাড়ি নিয়ে, ওই দু’জন করোনা আক্রান্ত যুবক সোমবার কাকভোরে পৌঁছে যান বড়মা হাসপাতালে। বাকি ৭ জন যুবক বাড়ি চলে যান অন্য গাড়িতে।

Advertisement

 

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বড়মা হাসপাতাল :

ভোরবেলা এই দুই যুবককে দেখে ঘাবড়ে যান, নিরাপত্তারক্ষীরা। ওই দুই যুবক তাদের বলে, “আমার করোনা আক্রান্ত!” এরপর, তাদের কাগজপত্র দেখান। নিরাপত্তারক্ষীরা কাগজপত্র পাঠিয়ে দেন বড়মা হাসপাতালের টেকনিক্যাল বিভাগের আধিকারিক দেবোপম হাজরা’র কাছে। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেন, পূর্ব মেদনীপুর স্বাস্থ্য ভবনের সাথে। অবশেষে ওই দুই যুবককে ভর্তি করা হয় বড়মা কোভিড হাসপাতালে (লেভেল ৩-৪)। কিন্তু, এই ঘটনায় পুরো সিস্টেমটাই বে-আব্রু হয়ে যায়! কিভাবে, ওই দুই যুবক করোনা নিয়েই বিমানে উঠলেন বা এই বিষয়ে কোথাও কোনো বাধা পেলেন না, তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন! যদিও ওই দুই যুবক উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
কাকভোরে কলকাতায় :

এই বিষয়ে, দুই যুবকের বক্তব্য, ১২ জুন তাঁরা টেস্ট করান সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে। ১৩ জুন জানতে পারেন, কোভিড পজিটিভ! এরপর, চেন্নাইতে কেউই তাঁদের সাহায্য করেননি। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা বিমানে করে ফিরে আসার এবং নিজেদের জেলাতেই চিকিৎসা করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এই বিষয়ে হাসপাতালের আধিকারিক দেবোপম হাজরা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিতাই চন্দ্র মন্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দু’জনকে বড়মা’তে ভর্তি নেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এও জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো খবরই ছিলনা! রাজ্যের এক আধিকারিকও এই বিষয়ে দেশের অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন রাজ্যের বিমানবন্দরে সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়ে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কিনা সন্দেহ!