দুই মেদিনীপুরে তিনটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চারজনের, আশঙ্কাজনক এক জন

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ জুন : সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে দুই মেদিনীপুর বাসীও যখন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের অকাল মৃত্যুবরণের শোকে বিহ্বল, সেই সময়ের মধ্যেই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঘটে গেল কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৭ টা নাগাদ, পূর্ব মেদিনীপুরের মেছেদায় অবস্থিত বড়মা কোভিড হসপিটালের অদূরেই এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ও এক করোনা আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিক। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বড়মা’তেই ভর্তি আছেন আর একজন করোনা আক্রান্ত পরিযায়ী শ্রমিক। অপরদিকে, সোমবার বিকেল নাগাদ মাঠে কাজ করার সময় বাজ পড়ে মৃত্যু হল শালবনী ব্লকের এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির। সোমবার দুপুর নাগাদ, মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাঁচখুরিতে এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির মৃত্যু হয় হয়েছে, পুকুরে গেঁড়ি-গুগলি কুড়োতে গিয়ে, জলে তলিয়ে গিয়ে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
পাঁচখুরির সেই পুকুর পাড়ে :

প্রথম মৃত্যু’র ঘটনাটি ঘটেছে, বড়মা’ হাসপাতালের অদূরে, মেছগ্রাম আন্ডারপাসের কাছে ৬ নং জাতীয় সড়কে। কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, শনিবার রাতে কোলাঘাট ব্লকের বৈষ্ণবচক ও গোপালনগর এলাকার দু’জন পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই রোগীদের নিয়ে বড়মা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন, অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজু মন্ডল (৩২)। সকাল সাতটা নাগাদ, বড়মা হাসপাতালের অদূরে ৬ নং জাতীয় সড়কে উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে ওই অ্যাম্বুলেন্সটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়, অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজু মন্ডলের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই করোনা আক্রান্তকে বড়মা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মারা যান একজন। অপর একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। করোনা যুদ্ধে সামিল হতে, অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজু মন্ডল তার পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে এসেছিলেন। বাড়ি ছেড়ে তাকে থাকতে হয়েছিল, স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেই রাজু করোনা যুদ্ধেই প্রাণ হারালেন। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া! রাজুর পরিবর্তে নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালক খুঁজতে হন্যে হতে হচ্ছে প্রশাসনকেও। অপরদিকে, দিল্লি ফেরত যুবক বৈষ্ণবচক গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিগোড়ি গ্রামের বাসিন্দা। ছোট্ট একটি বাড়িতে থাকতেন যুবকের মা, স্ত্রী ও তিন বছরের মেয়ে। অভাবের পরিবারে একমাত্র রোজগেরে ছিলেন এই যুবক। দিল্লিতে গিয়েছিলাম ফুলের কাজ করতে। দিন পনেরো আগে দেশের বাড়িতে ফিরে, স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বড়মা’তে। এই দুর্ঘটনায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন যুবকের মা। ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী। কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা তিন বছরের ছোট্ট মেয়ে! করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হলো তাঁকে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
অকাল মৃত্যু দু’জনের :

অপরদিকে, শালবনী ব্লকের ঝর্নাডাঙাতে গতকাল কালিপদ মুর্মু (৬০) নামে এক প্রৌঢ় মাঠে কাজ করছিলেন। বেলা তিনটে-চারটে নাগাদ বাজ পড়ে মাঠেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই নিয়ে গত কয়েক দিনে জেলার বেশ কয়েকজন প্রাণ হারালেন বাজ পড়ে। সবথেকে মর্মান্তিক ছিল, সবং এর অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর মৃত্যু!

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মৃত কালিপদ মুর্মু (৬০) :

অন্যদিকে, গতকাল দুপুর ১২-১ টা নাগাদ, মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাঁচখুরি এলাকায় পুকুরে গেঁড়ি-গুগলি কুড়োতে গিয়ে, জলে তলিয়ে যান এক ব্যক্তি! হারা বাঁকুড়া (৫৫) নামে স্থানীয় ওই ব্যক্তি সোমবার দুপুরে নেমেছিলেন গ্রামেরই একটি পুকুরে। কিছুক্ষণ পর তাকে আর দেখতে না পেয়ে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। সেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে, ওই রাস্তা দিয়ে নিজের বাড়ি কেশপুর যাওয়ার পথে, মেদিনীপুরের এক শিক্ষক ও সমাজসেবী ফাকরুদ্দিন মল্লিক এগিয়ে যান ঘটনাস্থলের দিকে। মূলত তাঁরই তৎপরতায় খবর যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ এসে জল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে! ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সারা এলাকায়।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মৃত হারা বাঁকুড়া (৫৫) :