‘বাঘের পায়ের ছাপ’ এ আতঙ্ক ছড়িয়েছিল শালবনীতে, উড়িয়ে দিল বন দপ্তর ও বন্যপ্রাণী বিশারদ

Advertisement

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ১৫ জুন : শালবনী ব্লকের তিলাবনীর জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের রাস্তায় রবিবার বিকেল ৫-৫.৩০ টা নাগাদ, বাঘের মত এক ধরনের জন্তু দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা খগেন্দ্রনাথ মাহাত। তারপরই, তিনি গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দাদের ডেকে নিয়ে আসেন ওই স্থানে। ততক্ষণে সেই জন্তু উধাও! তবে ভিজে মাটিতে সেই বাবাজী নিজের পায়ের ছাপ রেখে গিয়েছিলেন। গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়, বাঘের পায়ের ছাপ বলে। মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে ওই এলাকায়। খবর দেওয়া হয়েছিল, পিড়াকাটা ও ভাদুতলা রেঞ্জ অফিসে। আজ (সোমবার) সকালে, বনদপ্তরের কর্মীরা পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, ভারতীয় ধূসর নেকড়ে ছাড়া অন্য কিছু নয়!

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
তিলাবনী গ্রামে আতঙ্ক অজানা পশুর পায়ের ছাপে :

সোমবার সকালে তিলাবনী গ্রামে তিল ধরানোরও জায়গা ছিল না! উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ছাড়াও, আশেপাশের গ্রামের উৎসাহী লোকজন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এবং বন্যপ্রাণী বিশারদ থেকে শুরু করে পরিবেশ কর্মীরা পৌঁছে গিয়েছিলেন ওই গ্রামে। কিন্তু, আপাতত সকলের আশঙ্কা ও উত্তেজনায় জল ঢেলে দিয়ে বনদপ্তর ও বন্যপ্রাণী বিশারদ’রা জানিয়েছেন ওটি আসলে নেকড়ে (ভারতীয় ধূসর নেকড়ে, Indian Grey Woolf)। পিড়াকাটার রেঞ্জ অফিসার পাপন মোহান্ত জানালেন, “ওই পায়ের ছাপ আসলে নেকড়ের। সাধারণত নেকড়ের পায়ের ছাপ একটু কোনাকুনি আকারের হয়। পায়ের আকারও বাঘের তুলনায় ছোটো।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ভারতীয় ধূসর নেকড়ে

বন্যপ্রাণী গবেষক রাকেশ সিংহ দেবও জানালেন, “ওটি ভারতীয় ধূসর নেকড়ের পায়ের ছাপ। বিজ্ঞানসম্মত নাম কেনিস লুপাস (Canis Lupus)। তবে এটুকু বোঝা গেল, প্রায় বিলুপ্ত শ্রেণীর এই ধূসর নেকড়ে এখনো এইসব এলাকায় বিরাজ করছে। মানুষ একটু সতর্ক ও সাবধান থাকুক; আর বন্যপ্রাণীরা ও বেঁচে থাকুক।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
এই সেই পায়ের ছাপ :

রাকেশ বাবু এও জানালেন, ” ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই, শালবনী ব্লকের কাশীজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেও একটি পূর্ণবয়স্ক নেকড়ের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, এই এলাকায় নেকড়ের বিচরণ আছে। তবে, সংখ্যায় দিন দিন কমে যাচ্ছে!”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মৃত সেই নেকড়ে (২০১৭) :