“দুই বিঘা জমি” কবিতার পাষন্ড ‘জমিদার’ ই এ যুগের নিষ্ঠুর ‘প্রোমোটার’ , কবিতার ১২৫ বছর পূর্তিতে এভাবেই ‌প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরলেন ‌বর্ষীয়ান আইনজীবী শান্তি দত্ত

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ১৪ জুন : ‘বিশ্বকবি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোর জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করার সুবাদে, জমিদারি জাঁকজমক, বিলাসিতা, নিষ্ঠুরতা, শাসন ও শোষণের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাই, মানবপ্রেমিক ও বিশ্বপ্রেমিক এই কবি ও ঋষি পুরুষটি স্বয়ং যখন জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, প্রজা সাধারণের প্রতি অকুণ্ঠ প্রেম ও ভালোবাসা বর্ষণ করেছেন। যদিও, জমিদারি সামলানোর অনেক আগেই ১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে)’র ৩১ শে জৈষ্ঠ্য রবি ঠাকুর এই কবিতাটি রচনা করেন। সেই হিসেবে, ১৪২৭ বঙ্গাব্দের ৩১ শে জৈষ্ঠ্য (২০২০ খ্রিস্টাব্দ), অর্থাৎ আজ, এই কবিতাটির ১২৫ বছর পূর্তি। আর এই দিনে, কবিতাটির বর্তমান (বা, আধুনিক) সময়ে প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করার সাথে সাথে, তা উদাত্ত কণ্ঠে পাঠ করলেন, মেদিনীপুর শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা কলকাতা হাইকোর্টের বার কাউন্সিলের সদস্য ও মেদিনীপুর জর্জ কোর্টের প্রাক্তন বার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শান্তি দত্ত।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বর্ষীয়ান আইনজীবী শান্তি দত্ত :

‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার নায়ক তথা শোষিত ও বঞ্চিত প্রজা সাধারণের প্রতিনিধি উপেন এর ‘সাত পুরুষ’ সূত্রে প্রাপ্ত ‘বিঘে দুই’ জন্মভিটে’র দিকে নজর পড়ল অত্যাচারী, পাষন্ড, ক্রুর জমিদার বা ভূ-স্বামী’র। ‘দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান’ বাগান তৈরির বিলাসিতার কাছে পদদলিত হল উপেনের ঐকান্তিক প্রার্থনা, কাতর আবেদন, অশ্রুশিক্ত অনুরোধ! আর আজ একবিংশ শতকেও শহর ও শহরতলীর বুকে অত্যাচারিত, শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন অসংখ্য দরিদ্র, খেটেখাওয়া মানুষ। প্রোমোটার বা জমি বেচাকেনা করা ব্যবসায়ীদের অর্থ, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির কাজে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে তাঁদের। কখনোবা বন্দুকের নল কিংবা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি’র কাছে পদানত হচ্ছে অসহায় মানুষ কিংবা পরিবারগুলির ইচ্ছে আর স্বপ্ন! সর্বোপরি, সমাজ আর পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয়টিও সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে, অর্থ আর ক্ষমতার বলে আইন কিংবা প্রশাসনকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁরা গড়ে তুলছেন একের পর এক ফ্ল্যাট বা বহুতল। তাই, ‘কবিগুরু’র এই বিখ্যাত কবিতাটিকে আজকের দিনে স্মরণ করে, সেটির উপর আলোকপাত করলেন, শহরের এই সংস্কৃতিপ্রেমী তথা রবীন্দ্রপ্রেমী আইনজীবী মানুষটি। শান্তি বাবু বললেন, “আজকের দিনেও এই কবিতার সমান প্রাসঙ্গিকতা। সেদিনের জমিদার, আজকের প্রোমোটার। উপেনের শত অনুরোধ, উপরোধ, প্রতিবাদ সেদিনও ব্যর্থ হয়েছিল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির কাছে; আজও হাজার হাজার উপেনের সমস্ত আবেদন, বাধা বিফলে যাচ্ছে ক্ষমতাবানদের কাছে।”
শুনুন আইনজীবী শান্তি দত্তের কন্ঠে :