সংক্রমণ বাড়ছে, শালবনী ও ডেবরা ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরে তাই গড়ে তোলা হচ্ছে একাধিক করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র

Advertisement

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ১৩ জুন : সারা দেশ ও রাজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করোনা সংক্রমণ হু হু করে বেড়ে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও। অন্যতম কারণ ভিন রাজ্যের সংস্পর্শ হলেও, চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে সামান্যতম ত্রুটিও রাখতে রাজি নয় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য ভবন। তাই, প্রস্তুত করা হচ্ছে একাধিক করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র। ইতিমধ্যে, শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালটিকে লেভেল ৪ হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাজ্য সরকার তা জিন্দল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অধিগ্রহণও করেছে। অপরদিকে, আর একটি নতুন করোনা হাসপাতাল করা হচ্ছে, ডেবরাতে (ডেবরা গ্রামীণ হাসপাতাল)। প্রাথমিক ভাবে সেখানে আয়ুশ এর মতো লেভেল – ১ এর পরিষেবা দেওয়া হলেও, ধাপে ধাপে লেভেল – ৩ হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য ভবনের তরফে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ঘাটাল হাসপাতাল :

আয়ুশ (লেভেল-১), গ্লোকাল (লেভেল-২), শালবনী (লেভেল ৪) ও ডেবরা (লেভেল ৩) ছাড়াও এই মুহূর্তে আরো তিনটি করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা’র বিষয়ে, শনিবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে। এই তিনটি হাসপাতাল হল যথাক্রমে, ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল, খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং মেদিনীপুর শহরের প্যারামেডিকেল হাসপাতাল (বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট অফ হেলথ)। তবে প্রাথমিক ভাবে কোনোটিই লেভেল – ২,৩,৪ হিসেবে নয়, সাধারণ করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র (কিছুটা লেভেল – ১ এর ধাঁচে) বা ‘সেফ হোম’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মূলত, উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের জন্যই এই করোনা সেন্টার’গুলি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কারণ, এই মুহূর্তে ভিন রাজ্য ফেরত করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের বেশিরভাগটাই উপসর্গহীন। কিন্তু, সংখ্যাটা যেভাবে বেড়ে চলেছে, নূন্যতম চিকিৎসা পরিষেবাটুকু দেওয়ার জন্যই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ভবনের এই উদ্যোগ। তবে এই হাসপাতাগুলিতে ধাপে ধাপে (প্রয়োজন অনুযায়ী) চিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধি করা হবে বলে আজ জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল। তিনি বললেন, “ইতিমধ্যে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ১০ জন করোনা আক্রান্ত’কে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং প্যারামেডিকেল হাসপাতালের কথাও ভাবা হয়েছে। আপাতত এগুলিকে সেফ হোম বলাই ভালো, ধাপে ধাপে চিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধি করা হবে।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
খড়্গপুর হাসপাতাল :

এই বিষয়ে রাজ্যের সবুজ সংকেতও পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য যে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) কিংবা আইসিএমআর এর গাইডলাইনেও স্পষ্ট করা হয়েছে, হোম কোয়ারেন্টিন বা সরকারি কোয়ারেন্টিনে নূন্যতম শুশ্রূষা বা পরিষেবার মধ্য দিয়েই উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্তরা সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু, জনঘনত্বপূর্ণ এ রাজ্য কিংবা জেলায় তা সম্ভব নয় বলেই চিকিৎসাকেন্দ্র গুলিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।