মৃত মা’কে জাপটে ধরে রক্তাক্ত শিশুকন্যা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, পাশে পড়ে আত্মঘাতী পিতার রক্তাক্ত মৃতদেহ

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ জুন :  স্ত্রী’কে খুন করে আত্নঘাতী হলেন স্বামী! তিন বছরের শিশু কন্যাও রেহাই পায়নি পিতার পৈশাচিক ক্রোধের হাত থেকে। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
স্বামী-স্ত্রী’র মৃতদেহ :

গড়বেতা থানার বিহারীশোল গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় এমন মর্মান্তিক ঘটনাই ঘটে গেল! স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, শালবনী থানার কুসুমডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন হেমব্রম (২৮) এর শ্বশুরবাড়ি গড়বেতা থানার বিহারীশোল গ্রামে। দিন তিনেক আগে তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে আসেন কন্যাকে নিয়ে। রবিবার রাতে, শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রী মালতী হেমব্রমের (২৫) সঙ্গে কোনো একটি বিষয়ে বচসা হওয়ায় বা ঘুমন্ত অবস্থাতেই স্ত্রী ও কন্যা (পূজা হেমব্রম)’কে সে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তারপর নিজের পেটে ছুরির আঘাত করে আত্মঘাতী হয়! চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আত্মীয়-পরিজনেরা এবং প্রতিবেশীরা অন্য দরজা দিয়ে ঢুকে তিনজনের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। মৃত মায়ের কোলে তখন রক্তাক্ত শিশুকন্যা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে! স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং ওই শিশুকন্যাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন!

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
চন্দ্রোকোনা রোড পুলিশ বীট হাউস :

মৃত মালতীর এক আত্মীয় বাসন্তী সরেন জানান, “বাড়ির মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে অন্য দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকি। সেই সময় কাঞ্চনের স্ত্রী মালতী বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।” ঘটনাস্থলেই মালতী ও কাঞ্চনের মৃত্যু হয়। তিন বছরের শিশুকন্যা পূজা হেমব্রম ছুরিকাহত হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকে। মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে, স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। স্থানীয় চন্দ্রোকোনা রোড বীট হাউসের পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অশান্তির জেরে খুন। তবে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্য জানান, বিগত কয়েকদিন ধরেই একটি জমিজমার সমস্যা নিয়ে কাঞ্চন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিল। স্ত্রী’র সাথেও এই বিষয়টি কথা কাটাকাটি হওয়াতেই হয়তো হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এই কান্ড ঘটিয়ে বসেছে!