বিজেপির একুশ চাই! মুকুলের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অমিত শাহের ভার্চুয়াল সমাবেশে শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন, নবীন কুমার ঘোষ, ৮ জুন : করোনা ভাইরাস, লকডাউন পরিস্থিতি, পরিযায়ী শ্রমিক, আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে রাজ্য দুই। এই মারণ ভাইরাসের পরিস্থিতি না এলে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরিয়ে যেত। আর একুশের বিধানসভা নির্বাচনের তো দামামা বেজেই যেত! বর্তমান পরিস্থিতিতে, পৌরসভা ভোট এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে, একুশকে পাখির চোখ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রস্তুত হতে চলেছে শাসক ও বিরোধী শিবির। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, পারস্পরিক বিরোধিতা ইতিমধ্যে করোনা-আমফান ছাড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করে দিয়েছে যেন! বিশেষত, বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আর তৃণমূলের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের তীব্র বাদানুবাদ আর পারস্পরিক আক্রমণ সেই লড়াইয়ের সলতে জ্বালিয়ে দিয়েছে। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ বিভিন্ন জায়গায় আটকে দেওয়া হচ্ছে বিজেপি নেতাদের। আর, রাজ্য সরকারেরও তীব্র বিরোধিতা করে সুর চড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারাও।স্বয়ং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই দলীয় কার্যকলাপের নির্দেশ দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষত প্রধান বিরোধী বঙ্গ বিজেপি একুশের নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী বঙ্গ বিজেপি’তে ব্যাপক রদবদল ঘটালেন।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মমতা-মুকুল দ্বৈরথ :

•••মুকুলের নেতৃত্বে লড়াই :

———————————–

বঙ্গ বিজেপি একুশে রণকৌশল তৈরি করতে যথেষ্ট তৎপর হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে মুকুল রায় কে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ২০১৯ লোকসভার আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরান মুকুল রায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে লোকসভার প্রার্থী করিয়ে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। লোকসভার পরেও অনেকেই দল ভেঙ্গে চলে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রশান্ত কিশোর কে নিয়ে এসে বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে হাওয়া বদলাতে সক্ষম হন। কিন্তু এই মুহূর্তে, মুকুল রায়কে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়ে, নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। মুকুল রায়ের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুল অনুগামীদের প্রথম সারিতে নিয়ে আসে এবং দলীয় মোর্চা সংগঠনগুলির সভাপতিত্ব সহ রাজ্য কমিটির রদবদল ঘটালেন। দেখা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত একের পর এক নির্বাচনী লড়াই জয় করে, তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছিলেন মুকুল রায়। বাম আমল থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরের স্থানেই ছিলেন মুকুল রায়। সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে হাতের তালুর হস্তরেখা তৈরি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে। সারদা নারদার মতো চিটফান্ড সহ রাজনৈতিক ঘোলা জলে নেমে সবাইকে ঘোল পাকিয়ে ২০১৭ এ বিজেপি যোগদান করে নিজের জায়গা করে নিলেন। তারপর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সেই অর্থে আশাতীত সাফল্য আসেনি। অন্যদিকে রাজ্যে বিজেপি’র পদ্মফুল ফুটিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিয়েছে এবং তৃণমূলকে ভেতরে ভেতরে ঝাঁঝরা করে দিয়েছেন। তারপরই ১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে থাপ্পড় মেরে ৪২ এর মধ্যে ১৮ টি আসন শাসক দলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। অনুগামীদের টিকিট পাইয়ে দেওয়া থেকে আসন জয় সহ, বর্তমানে রাজ্য কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়াটা কম বড় সাফল্যের নয়। এই সাফল্যেই বোঝা যাচ্ছে, মোদী-শাহ মুকুল রায়কে ফ্রি হ্যান্ড ছেড়ে দিয়েছেন। বঙ্গ বিজেপিতে অনুগামীদের স্থান দিয়ে দাবার গুটি সাজানো শুরু করেছেন মুকুল রায়ও।

 

•••অমিত শাহ্ এর ভার্চুয়াল সমাবেশ :

———————————–

একুশের নির্বাচনী দামামা বাজাতে অমিত শাহ ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভার্চুয়াল সমাবেশ করতে চলেছে ৯ জুন বেলা ১১ টায়। লিংকের মাধ্যমে এই সমাবেশ দেখতে পাবে বাংলার জনগণ। দলীয় কর্মসূচির বার্তাসহ করোনা মোকাবিলা ও আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা সহ সবরকম বার্তার ভাষণ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহ অনেক আগে থেকে বলে এসছিলেন, বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ভাষণ দিতে এই সমাবেশ। তার জন্য, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ওয়েবসাইট এর লিংক দিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বেলা এগারোটার ঠিক পনেরো মিনিট আগে, লিংক পৌঁছে যাবে সবার কাছে, এমনটি বিজেপি সূত্রে জানা যায়। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পথ দেখিয়েছে, এই ভার্চুয়াল সমাবেশ কিভাবে করতে হয় তাও দেখাবে আমাদের সর্বভারতীয় পার্টি।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট :
বিজেপি’র ভার্চুয়াল সমাবেশ :

এদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সহ সভাপতি শিবু পানিগ্রাহী বলেন, “আমাদের চাণক্য চাণক্য-নীতি শুরু করে দিয়েছেন! সে জায়গায় শাসকদল তৃণমূল বিজেপি’র ধারে কাছেও যেতে পারবেনা একুশের নির্বাচনে। এই রদবদলে ১৭০ নয় ২০০ এর বেশি আসনে জয়লাভ করবো। অমিত শাহজির ভার্চুয়াল সমাবেশে কুড়ি লক্ষেরও বেশি মানুষ ভিডিও কনফারেন্স দ্বারা যোগদান করবে। মন্ডল থেকে জেলা নেতৃত্ব সহ রাজ্য নেতৃত্ব এই সমাবেশে প্রশ্ন ও করতে পারবে। প্রত্যেক বুথের ৫০ জন কর্মী সমাবেশ দেখতে পাবেন ও উপকৃত হবেন। যা কোনদিনই কোন রাজনৈতিক দল এরকম সমাবেশ করতেও পারবে না।”

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী টাকা চায় কেন্দ্রের কাছে, কাজ নয়। আমফান ঝড়ে ৬ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া হাজার কোটি টাকা এখনো পৌঁছায়নি। রেশন দুর্নীতির টাকা পার্টি ফান্ডে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তা প্রচারও হয়েছে। তারপরও কি করে বলে আমার ৮০ হাজার কোটি টাকা চাই। মানুষ ভেবে নিয়েছে ভোট কাকে দেবে, শুধু একুশ এর অপেক্ষায়! সরকার গড়বে বিজেপি এবং তার নেপথ্য কারিগর হিসেবে মুকুল রায় থাকছেন।”