মেদিনীপুরে অবৈধভাবে বালি খাদানের বালি চুরি ও নদী সেতু থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, সাংবাদিকদের ফোন পেয়েই ব্যবস্থা নিল প্রশাসন

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৭ জুন : মেদিনীপুর সদর ব্লকের অন্তর্গত চাঁদড়া অঞ্চলের উপরডাঙ্গা ও ভাটপাড়া মৌজায় নদীর বাঁধের পাশেই চলছে যথেচ্ছভাবে বালি চুরি। ট্রাক্টর বোঝাই করে চুরি করা বালি চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এলাকা থেকে। এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনাও আছে বেশ কিছুদিন ধরে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বালি চুরি :

অন্য লাইসেন্সের (পারমিশন বা অনুমতিপত্র) বালি খাদানের সিও (ক্যারিং অর্ডার) ধরিয়ে, প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে অনায়াসে বালি চুরি করে চলেছে বালি খাদানের মালিক, অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়াও ওই মৌজাতেই, নৌকো ঘাটের নদী সেতুটির টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্বেও, গত দু’ মাস ধরে সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে দেদার টাকা ইনকামের অভিযোগ উঠেছে নৌকা ঘাটের পূর্বতন মালিকের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম রামজয় পাল (খোকন)। অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “নদীর বালি যদি এভাবে বে-আইনি পথে চুরি হতে থাকে, তাহলে যেটুকু জমি-জমা নদীর গর্ভে যাওয়ার বাকি ছিল সেটুকুও চলে যাবে। গত তিন বছর আগে বর্ষার বন্যায় হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে ঢুকে গিয়েছে। যদিওবা কংসাবতী নদীর ওইপার ঝাড়গ্রাম জেলার (মানিকপাড়া) অন্তর্গত, কিন্তু উপরডাঙ্গা ও ভাটপাড়া মৌজা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত। বালি চুরি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মৌজার। অন্যদিকে নৌকাঘাট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর, বিনা টেন্ডারেই প্রায় তিন মাস ধরে পূর্ববতী মালিক চালিয়ে যাচ্ছে।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সেতু থেকে রোজগার :

ওই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পলাশ মাহাতো বললেন, “কারা করছে, কারা জড়িত আছে, সেভাবে কিছু জানা নেই। তবে যেই করুক কোন পারমিশন না নিয়েই করছে! যদিও এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য বিডিও, জেলা পরিষদ দিতে পারবে।”

এরপরই মেদিনীপুর সদর ব্লকের বিডিও ফারহানাজ খানম’কে দ্য বেঙ্গল পোস্টের প্রতিনিধি ফোন করলে তিনি জানান, “খবর নিয়ে এক্ষুনি আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”

মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যেই গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ গিয়ে দু-একজনকে আটক করে এবং ওই মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া সেতু ভেঙে দেয়। উল্লেখ্য যে, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই সেতু দিয়ে অবৈধভাবে বালি পাচার করা হত। ওসি রবি স্বর্ণকারের নেতৃত্বে সেই সেতুটিই আপাতত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই মৌজার সিও কাটা ছিল ট্রাক্টর গুলির। তাই, জিজ্ঞাসাবাদ করেই আপাতত তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
পদক্ষেপ নিল প্রশাসন :