ফের ঘাটালে মৃত শ্রমিকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ, একদিনে ৪৫ জন করোনা আক্রান্ত শুধু ঘাটাল মহকুমাতেই, আক্রান্ত মেদিনীপুর শহরেও, জেলায় প্রায় একশো’র কাছাকাছি

Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ জুন :  গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় একশো’ র কাছাকাছি (সংখ্যাটা এখনো পর্যন্ত ৯০ এর আশেপাশে বলে জানা গেছে)! এর মধ্যে, ঘাটাল মহকুমাতেই ৪৫ জন বলে জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে। এর মধ্যে দাসপুর -১ ব্লকে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন ঘাটাল ব্লকে। কেশপুর ব্লকে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক (১৩ জন)। পিংলা ব্লক, গড়বেতা ও মেদিনীপুর সদর ব্লকেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মেদিনীপুর শহরেও দু’জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, বিশ্বস্ত সূত্রে। রবীন্দ্রনগরের এক মহিলা এবং ছোটো বাজার এলাকার এক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, দু’জনই মেদিনীপুর শহর এর বাইরে থাকতেন বলে জানা গেছে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
কনটেইনমেন্ট জোন :

জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে এখনো আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত করা না হলেও, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সকাল ১১ টা পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২ । দুপুর পর্যন্ত তা ৯০ এর আশেপাশে বলে জানা গেছে। তবে, আশার কথা হলো, অধিকাংশ জনই ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিক এবং তাদের অনেকের শরীরেই কোন উপসর্গ নেই। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, asymptomatic বা উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত। এই সব আক্রান্তরা সাধারণত দ্রুত সুস্থ হয়ে যান (এক সপ্তাহের মধ্যেই)। এই বিষয়ে ঘাটালের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, শিক্ষক নেতা তথা জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্রী শ্যামপদ পাত্র জানিয়েছেন, “আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা এখনো পর্যন্ত আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসন বা স্বাস্থ্য ভবন সঠিকভাবে বলতে পারবে। তবে, ঘাটালের ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকদের অধিকাংশ জনেরই করোনা ধরা পড়েছে প্রায় ১৫-১৬ দিনের মাথায়। এখনো পর্যন্ত তাদের কোন উপসর্গ নেই বলেই শুনেছি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসাতেই সেরে যাওয়ার কথা। তাই, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, আমাদের সকলকেই সচেতনভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ঘাটালে মৃত্যু একজনের :

এদিকে, ঘাটাল মহকুমার দাসপুর থানায় নতুন করে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ জুন মৃত্যুর পর, তার লালারস সংগ্রহ করা হয়েছিল, ৬ জুন রিপোর্ট আসে পজিটিভ। দাসপুর থানার ভুতা গ্রামের ৩৯ বছর বয়সী এই ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিক ১৩-১৪ দিন আগে নিজের বাড়িতে ফিরেছিল। বাড়িতে কোয়ারান্টিন থাকা অবস্থাতেই, তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে, প্রথমে গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে ওষুধ খাওয়ানো হয়, এরপর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় গত ৫ জুন তাকে ঘাটাল হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়। নিয়মমাফিক, ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল থেকে তার লালারস সংগ্রহ করা হয়। গতকাল রাতে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রতিটি ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।