সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে সবুজ রোপনে উদ্যোগী হল দলমত নির্বিশেষে সকলে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৬ জুন : পরিবেশ বাঁচাতে  ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ এ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠন ও  পরিবেশপ্রেমী মানুষজন চোখে সবুজ স্বপ্ন নিয়ে সবুজ রোপন করলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে (৫ জুন)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলার বনবিভাগ, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যেমন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে; ঠিক তেমনই শাসক ও বিভিন্ন বিরোধী দলের সর্বস্তরের সংগঠন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পরিবেশ কর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বৃক্ষরোপণ বিভিন্ন সংগঠনের :

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, মেদিনীপুরে কংসাবতী নদীর তীরে সূর্যাস্তের হাটে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল, মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ, মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও সন্দীপ বেরোয়াল সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, স্বয়ং জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারের নেতৃত্বে। সমাজকে প্রতিমুহূর্তে নিরাপত্তা দেওয়া যাদের কাজ, জেলার প্রতিটি থানা ও ফাঁড়ির সেই পুলিশ কর্মচারীরাও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ করলেন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্রের উদ্যোগেও বৃক্ষরোপণ করা হয় জেলা পরিষদ চত্বরের ফাঁকা জায়গাতে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ এ বন দপ্তরের পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে সবুজায়নের এক সুবিশাল কর্মযজ্ঞ। মেদিনীপুর বনবিভাগের অন্তর্গত প্রতিটি বনাঞ্চলের পক্ষ থেকে ২৫০ টি করে গাছ লাগানো হয়েছে আমফান ও কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমিতে। সারাবছর ধরেই যে সমস্ত অরাজনৈতিক সংগঠগুলি পরিবেশ রক্ষায় ও সবুজায়নের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে, সেই মিডনাপুর ডট ইন (সারা বছর ধরেই চলে সবুজ ক্ষুদিরাম কর্মসূচি), মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র (পরিবেশ গঠনে ভূমিকা যাদের উল্লেখযোগ্য) সহ পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ (প: মেদিনীপুর শাখা), নীলাম্বর স্যোশাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, মেদিনীপুরের সমাজকর্মী রীতা বেরা, হুমগড়ের পরিবেশকর্মী দম্পতি শ্যামল কুমার সন্নিগ্রাহী ও সাবিত্রী জানা সন্নিগ্রাহী (সারা বছর ধরেই তাঁরা চালিয়ে যান সবুজায়ন কর্মসূচি) প্রমুখদের উদ্যোগে সবুজ রোপন করা হয়েছে, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। তাঁরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, সারাবছর ধরেই তাঁরা এই রোপন করা চারা গাছগুলির যত্ন নেবেন।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বিদ্যাসাগর হলে বৃক্ষরোপণ :

বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গুলিও এগিয়ে এসেছে, বৃক্ষরোপণে তথা পরিবেশ রক্ষার তাগিদে। বাম ডান সকল সংগঠনই বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছেন। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন, বৃক্ষরোপণ ছাড়া এ পৃথিবীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। সবুজ ও সতেজ পৃথিবী গড়ে তুলতে তাই সবুজ রোপন অনিবার্য। মেদিনীপুর শহরের দুই প্রাণকেন্দ্র- মেদিনীপুর কলেজ কলেজিয়েট প্রাঙ্গণ এবং বিদ্যাসাগর হলে বৃক্ষরোপণ করল বিভিন্ন সংগঠন। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি অর্ঘ্য চক্রবর্তী’র নেতৃত্বে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আমফান তান্ডবে এই প্রাঙ্গণের কিছু বৃক্ষ পড়ে গেছে, পার্ক তৈরির জন্য কিছু বৃক্ষ কেটে ফেলা হয়েছিল, তাই এই প্রাঙ্গণকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল, বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তরুণ সরকার, সহকারী পরিদর্শক সৌমেন ঘোষ, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রকাশ সরকার প্রমুখ। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে জেলা যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী ও যুব কার্যকরী সভাপতি নির্মাল্য চক্রবর্তী’র নেতৃত্বে। বাম শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ’র নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শহর ডিওয়াইএফআই কর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে (৭ ও ৮ নং) সাফাই কর্মসূচি পালন করলেন এই মহামারীর সময়ে। এছাড়াও বৃক্ষরোপণও করেন বাম যুব কর্মীরা। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদিন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়।