তিনি ভিন রাজ্যে যাননি, বাঁকুড়ার ‘রাইপুর’ এর বাসিন্দা হওয়াতেই তাঁকে ছত্তিশগড়ের রাইপুর ফেরত মনে করা হয়েছে, নমুনা দিতে গিয়েই সংক্রমিত বলে বিস্ফোরক দাবি যুবকের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
কনটেইনমেন্ট জোন :
Advertisement

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ৬ জুন :   গত ২ রা জুন শালবনীর চকতারিনীতে নিজের আত্মীয় বাড়িতে (স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, হবু শ্বশুর বাড়ি) থাকাকালীন, সন্ধ্যায় পুলিশের ফোন আসে যুবকের কাছে। জানানো হয়, তিনি করোনা আক্রান্ত! ওই যুবক হতভম্ব হয়ে যান! কারণ, কোনো উপসর্গ তাঁর ছিলনা বা বাইরের রাজ্য থেকে সম্প্রতি তিনি ফেরেননি। এরপরই, ওই যুবক ছুটে চলে যান, আত্মীয় বাড়ি রদুরেই শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে বলেন, “আমার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে!” ততক্ষণে অবশ্য, ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে শালবনী থানার পুলিশ। ওই রাতেই যুবককে নিয়ে যাওয়া হয়, পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদাতে তিন জেলার লেভেল ৩-৪ করোনা হাসপাতাল, বড়মা’তে।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
শালবনী :

কিন্তু, শালবনীতে ততক্ষণে হুলস্থূল পড়ে যায় ওই যুবককে নিয়ে! কারণ, প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছেছিল, বাঁকুড়া থেকে। সর্বোপরি, ওই যুবকের রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ এসেছিল বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে; মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ নয়। এদিকে, একেবারে কাছের প্রতিবেশী ছাড়া কেউই বুঝতে পারছিলেন না ওই যুবক বাঁকুড়া থেকে কবে শালবনীতে এসেছেন, অন্য রাজ্যে কবে গিয়েছিলেন বা কিভাবে সংক্রমিত হলেন‌ ইত্যাদি! স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। এদিকে, যুবকের বাড়ি বাঁকুড়া রাইপুর হওয়ার, একটি সূত্র জানাচ্ছিল, ওই যুবক ছত্তিশগড়ের রাইপুর থেকে ফিরেছেন। বিশ্বস্ত সেই সূত্র আমাদের সংবাদমাধ্যমেও বলা হয়েছিল ওই যুবক ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছেন। আরো আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যে, ওই যুবক বাঁকুড়া’তে ২২ মে নমুনা দিয়ে আসার পর, ২৪ মে শালবনীতে অনুষ্ঠিত এক রক্তদান শিবিরে রক্ত দান করেছেন। এরপর প্রশাসনও চিন্তিত হয়ে পড়ে ওই যুবককে নিয়ে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
শালবনী গ্রামীণ হাসপাতাল:

ইতিমধ্যে, রহস্যের উদ্ঘাটন হয় ধীরে ধীরে। ওই যুবকের একান্ত প্রয়োজন সূত্রে জানা যায়, যুবকের বাড়ি বাঁকুড়ার রাইপুরে হলেও, তিনি শালবনীর চকতারিনীর হবু আত্মীয় বাড়িতেই থাকতেন বেশিরভাগ সময়। মাঝখানে কয়েকদিনের জন্য নিজের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে গ্রামের লোকের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে নমুনা দিতে হয়, ২২ মে। তার পরদিনই তিনি পুনরায় ফিরে আসেন শালবনীতে। তবে, ওই যুবকের রক্তদান করার খবরটির সত্যতা স্বীকার করা হয় সমস্ত মহল থেকে। সেই অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে, আক্রান্ত ওই যুবক বড়মা হাসপাতাল থেকে শালবনীতে তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তিকে ফোন করেছিলেন নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। সেই অডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় যেটুকু জানা যায় (অডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য বেঙ্গল পোস্ট ডট ইন)- ওই যুবক লকডাউনের আগে থেকেই, শালবনীর চকতারিনীতে নিজের আত্নীয় বাড়িতে ছিলেন। ২১ মে নিজের বাড়ি বাঁকুড়ার রাইপুরে গিয়েছিলেন এবং গ্রামবাসীদের চাপের মুখে ২২ মে তিনি বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে নমুনা দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি শালবনীতে ফিরে আসেন। নিজের কোনো উপসর্গ না থাকায় কিংবা ভিন রাজ্যে না যাওয়ায় তিনি নির্দ্বিধায় রক্ত দান করেছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। ‘পজিটিভ’ হওয়ার পর তিনি নিজে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন। এও জানিয়েছেন তিনি সুস্থ আছেন এবং উপসর্গহীন। কিন্তু কি করে তিনি আক্রান্ত হলেন ওই পরিচিত এই প্রশ্ন করায় যুবক জানালেন, “মনে হয় হাসপাতালে নমুনা দিতে গিয়েই কোনো আক্রান্তের সংস্পর্শে এসে গিয়েছিলেন!”

যুবকের দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটুকু অন্তত নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে, asymptomatic বা উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত অনেকেই আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হু এবং আইসিএমআর ও বারবার বলছেন, asymptomatic বা উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যাই সর্বাধিক। তবে, এইসব আক্রান্তদের বিষয়ে ভয়ের বিশেষ কারণ নেই বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামীদিনে, এই সব আক্রান্তদের চিকিৎসা হয় তো বাড়িতেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, আক্রান্ত বা ভিন রাজ্য ফেরতদের সংস্পর্শ এড়াতে যে আরো কঠোরভাবে তাদের কোয়ারেন্টিন করা প্রয়োজন বা নিজে সাবধান থাকা প্রয়োজন, তাও বোঝা গেল, কারণ, সুস্থ-সবল মানুষের বদলে যদি কোনো অসুস্থ বা দুর্বল মানুষ এদের সংস্পর্শে আসেন, তবে বিপদ বাড়তে পারে!