বাঁকুড়ার যুবক শালবনীর আত্নীয় বাড়িতে এসে শুনলেন করোনা পজটিভ, একইদিনে ফুটে উঠল সচেতনতা আর অসচেতনতার ছবি

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
শালবনী গ্রামীণ হাসপাতাল:
Advertisement

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ২ জুন :   বাঁকুড়ার যুবক কয়েকদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীতে নিজের আত্মীয় বাড়িতে এসেছিলেন। আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ ফোন আসে, “আপনার করোনা পজিটিভ!” তৎক্ষণাৎ ওই যুবক, শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছে যান, বলেন- “আমার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে!” হতচকিত হয়ে যান হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ততক্ষণে অবশ্য পুলিশ প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য ভবনের কাছেও ফোন চলে গিয়েছিল, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে। ওই যুবককে আপাতত বড়মা কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন।

Advertisement
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
শালবনী গ্রামীণ হাসপাতাল:

বাঁকুড়ার ওই যুবক ভিন রাজ্য থেকে আসার ফলে গত ২২ মে, বাঁকুড়ায় তাঁর নমুনা সংগৃহীত হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু, অত্যধিক নমুনা জমে যাওয়ায় রিপোর্ট আসতে দেরি হয়েছে। কিন্তু, অসচেতন ওই যুবক, আরো কিছুদিন অপেক্ষা না করেই,  শালবনীর চকতারিনীতে নিজের আত্মীয় বাড়িতে (স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী হবু শ্বশুর বাড়ি) চলে আসেন। সেখানে, আছেন ওই যুবকের হবু স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি! তিনজনকেই, আপাতত কোয়ারেন্টিন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, ভিন রাজ্য ফেরত ওই যুবকের এই সময় আত্নীয় বাড়িতে আসা উচিত ছিল কিনা!

যদিও যুবকের পরিচিতদের মাধ্যমে ওই যুবক দাবি করেছে, তার বাড়ি বাঁকুড়ার রাইপুরে হলেও লকডাউনের আগে থেকেই সে শালবনীতে ছিল এবং মাঝখানে একদিনের জন্য বাঁকুড়াতে গেলে গ্রামবাসীদের চাপে তাকে নমুনা দিতে হয়, ২২ মে। এক্ষেত্রে বাঁকুড়ার রাইপুরের সঙ্গে ছত্তিশগড়ের রাইপুর এর নামের মিল থাকার জন্যই তাকে ভিন রাজ্য ফেরত বলে মনে করেছেন অনেকেই।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ভুলা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র:

অপরদিকে, আজ সকালেই শালবনী ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মধ্যেও সচেতনতার এক সুন্দর চিত্র আমাদের অভিভূত করে দেয়। শালবনী ব্লকের মধুপুরের কাছে (দেবগ্রাম ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত) ভুলা গ্রামের এক যুবকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে মঙ্গলবার সকালে। জানা গেল, ওই যুবক মুম্বাই থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন ২২ মে রাতে।ওইদিনই, স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের তৎপরতায় ওই যুবককে ভুলা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনে থাকার ও খাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাকে কলের জলও পৌঁছে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সাহায্য করেছেন ওই যুবকের বাবা।

ফলে, রিপোর্ট পজিটিভ এলেও সংস্পর্শের হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেলেন বাকি গ্রামবাসীরা। যদিও, ২৪ মে ওই যুবককে মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। আজ রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরও, স্থানীয় দেবগ্রাম এক নম্বর অঞ্চলের প্রধান বাপ্পাদিত্য সেনের উদ্যোগে এবং স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতৃত্বের সহযোগিতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী ১৪ দিন ওই গ্রামে (কনটেইনমেন্ট ও বাফার জোন চিহ্নিত এলাকায়)’র ৪০ টি পরিবারের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবেন তারা। যুব তৃণমূলের অঞ্চল কার্যকরী সভাপতি বিমান সেন বললেন, ” আমরা দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যেকের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেব। কারণ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত এই সময়ে। স্থানীয় অঞ্চল প্রধান আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলেছেন।”