সাত সকালেই দুঃসংবাদ জেলাবাসীর জন্য, ১২ জন করোনা আক্রান্ত, খাতা খুলে ফেলল শালবনী ও সবং, ঘাটাল মহকুমায় ৮ জন

Advertisement

মণিরাজ ঘোষ ও সায়ক পন্ডা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ জুন :

Advertisement

সাত সকালেই এল দুঃসংবাদ! মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে গতকাল (১ জুন) গভীর রাতে জেলা স্বাস্থ্য ভবনে যে করোনা রিপোর্ট গেছে, তাতে ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানা গেল আজ সকালে। এর মধ্যে ঘাটাল মহকুমাতেই ৮ জন (ঘাটাল ৫ জন এবং দাসপুর ৩ জন)! মেদিনীপুর সদরে ১ জন ও খড়্গপুর মহকুমায় ২ জন। উল্লেখ্য যে, ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই পরিযায়ী শ্রমিক! এর সঙ্গে, চন্দ্রোকোনা রোড (গড়বেতা থানা, মেদিনীপুর সদর মহকুমা) এর এক মৃত যুবকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ ধরলে ১২ জন আক্রান্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই যুবকের (যুব তৃণমূলের সদস্য) মৃত্যু হয়েছে কলকাতায় এবং গতকাল রিপোর্ট আসে পজিটিভ।

এদিকে পরিযায়ী সংস্পর্শে খাতা খুলে ফেলল জঙ্গলমহলের শালবনী ব্লকও। ব্লকের একজন আক্রান্ত। পিড়াকাটার অদূরে ভুলা (সিজুয়া, মধুপুরের কাছে) গ্রামের ওই যুবক সম্প্রতি ভিন রাজ্য থেকে এসেছিলেন। উপসর্গ থাকার জন্য গত ২৪ মে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল, মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে। আজ সকালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সবং ব্লকেও একজন আক্রান্ত হয়েছেন। খড়্গপুর পৌরসভার এক পরিযায়ী শ্রমিকেরও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১১ জন আক্রান্তকেই বড়মা কোভিড হাসপাতালে (লেভেল ৩-৪) পাঠানো হয়েছে এবং আক্রান্তদেল সংস্পর্শে থাকা এলাকা গন্ডীবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে, ঘাটাল মহকুমায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। প্রায় প্রতিদিনই খোঁজ মিলছে আক্রান্তের। তবে ঘাটালে করোনা সংক্রমণের আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিলো ১ জুনের রাতে পাওয়া রিপোর্ট। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘাটাল মহকুমায় একইদিনে মোট ৮ জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। ঘাটালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের গড়প্রতাপনগর এলাকার একজনের পাশাপাশি দাসপুরের মোট ২ জন এবং সেকেন্দারপুর, ঘোলা ও মোহনচকেও একজন করে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। সবমিলিয়ে ঘাটাল ব্লকের ৫ জন এবং দাসপুরের ৩ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে সকাল পর্যন্ত। একইদিনে এতজনের সংক্রমণের খবর পেয়ে স্বভাবতই চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৩১ মে ও ১ জুন, এই মহকুমাতেই মোট ৫ জনের করোনা ধরা পড়ে। যার ফলে গত আটচল্লিশ ঘন্টায় এই মহকুমায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৩।