বেদনাদায়ক মৃত্যু! নিহত হস্তিনীর গর্ভ থেকে বেরিয়ে এল মৃত শাবক

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ৩১ মে : মেদিনীপুর বন বিভাগের অন্তর্গত লালগড় রেঞ্জের কদমাশোলে, রবিবার সকালেই মৃত্যু হয়েছে এক পূর্ণবয়স্ক হস্তিনী’র! ভোরবেলা কদমাশোলের জঙ্গল থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে তিল ক্ষেত ও ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে হস্তিনী’র নিথর দেহটিকে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরাই খবর দেন বনদপ্তরে। হাতিটির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য!

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
হস্তিশাবক :

সকাল ৭ টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যান, লালগড় ও পিড়াকাটা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সহ বনকর্মীরা। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন উৎসাহী সাধারণ মানুষ। আসেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও! কিন্তু, দুপুর পর্যন্ত হাতিটির মৃত্যু-রহস্য ঘিরে মুখ খুলতে নারাজ কোন পক্ষই। কারণ, ওই এলাকায় অর্থাৎ মাঠের যে জায়গায় হাতিটির মৃতদেহ পড়েছিল, আশেপাশে ইলেকট্রিকের তার বা সংযোগ নেই। দেখা গেল, ভুট্টা ক্ষেতের বিস্তীর্ণ অংশ হাতির তাণ্ডবে দুমড়ে-মুচড়ে আছে। দেখা গেল মাটিতে পড়ে আছে হাতির বিষ্ঠাও। তবে কি বিষাক্ত কোন কিছু খেয়ে, হাতিটির মৃত্যু হয়েছে? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে উপস্থিত মানুষের মধ্যে! অনেকের মতে আবার ইলেকট্রিক শকই মৃত্যুর কারণ! ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে, বনদপ্তরের আধিকারিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই যখন এই কথা ভাবতে শুরু করেছেন, তখনই আবার অন্য একটি বিষয় উদঘাটিত হল!

ময়নাতদন্তের জন্য আসা চিকিৎসকেরা হাতিটির পেট কাটা শুরু করলে, দেখা যায় এক চরম বিস্ময় অপেক্ষা করছে! পূর্ণ গর্ভা (আসন্ন প্রসবাও বলা যেতে পারে) হস্তিনীর গর্ভ থেকে বেরিয়ে এল পরিণত (ও মৃত) এক শাবক বা হস্তি ছানা। উপস্থিত চিকিৎসকদের মতে, আর কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো প্রসব করত এই হস্তিনী। মৃত্যুর সঙ্গে কি এই বিষয়টি জড়িত? চিকিৎসক কিংবা বনাধিকারিকরা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে, সমবেদনা প্রকাশ করলেন এবং হাতি’টির মধ্যে কোনরকম অসুস্থতার লক্ষণ না পাওয়ার বিষয়েই ইঙ্গিত দিলেন! মেদিনীপুর বনবিভাগের এডিএফও বিজয় চক্রবর্তী বললেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই বোঝা যাবে হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ!”
একই বক্তব্য, লালগড়ের রেঞ্জ অফিসার শ্রাবনী দে এবং পিড়াকাটার রেঞ্জ অফিসার পাপন মোহান্তেরও। জানা গেল, আগামীকাল অথবা পরশু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতে পারে। ততক্ষণ একরাশ মন খারাপ নিয়েই পশুপ্রেমী ও সংবেদনশীল মানুষকে অপেক্ষা করে যেতে হবে। পশুপ্রেমী ও পরিবেশকর্মী রাকেশ সিংহ দেবের বক্তব্য, “গভীর বেদনাদায়ক ঘটনা! একসাথে দু-দুটি হস্তি বা হস্তিনী’র মৃত্যু হল। দেখা যাক, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ বোঝা যাবে।”