হাতির আক্রমণে একমাত্র পুত্র’কে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান পরিবার, পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্তব্য পালন বনদপ্তরের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বনদপ্তরের উদ্যোগে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেওয়া হল:
Advertisement

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ৩০ মে : গত ২৬ মে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের আমজোড়-শালবনী গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রথীন মান্না (১৮)’র মৃত্যু হয়েছে হাতির আক্রমণে। গ্রামের এক প্রান্তে মাঠের পাশে একটি কালভার্টে বসে মোবাইলে ব্যস্ত থাকা অবস্থায়, তাকে আক্রমণ করে চার-চারটি হাতি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়, রথীনের! রথীনের বাবা লক্ষ্মীকান্ত মান্না’র একটি পা জন্ম থেকেই অকেজো, তা সত্ত্বেও পিড়াকাটা বাজারে প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি সেলুন চালিয়ে নিজের দুই সন্তানকে (রথীন ও তার ১৩ বছর বয়সী একটি বোন) বড় করে তুলেছিলেন। উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পুত্রকে ঘিরে তাঁর  অনেক স্বপ্ন ছিল! ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ এর মতোই তাঁর সব স্বপ্ন ভেঙে-চুরে যাওয়ার সাথে সাথেই, শরীরের মেরুদন্ড খানিও যেন ভেঙে পড়েছে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে! সে নিজেও জানে না, আর কোনদিন ‘এক পায়ে খাড়া হয়ে’  নিজের কর্ম করতে পারবে কিনা! রথীনের মা’ এখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, মুহূর্তে মুহূর্তে। এই পরিস্থিতিতে, পরিবার-পরিজন ও গ্রামবাসীদের মতোই, রথীনের মৃত্যুর দিন থেকে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করে চলেছে বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। বিশেষত, পিড়াকাটা বনাঞ্চল আধিকারিক (রেঞ্জ অফিসার) পাপন মোহান্তের নেতৃত্বে পিড়াকাটা বনাঞ্চলের কর্মীরা প্রতি মুহূর্তে পাশে আছেন রথীনের বাবা-মা সহ পরিবারের পাশে।

Advertisement


গত ২৬ মে’র দুর্ঘটনার পর মাত্র তিন দিনের (২৯ মে) মাথায় বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের প্রথম পর্যায়ের ৩ লক্ষ (সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ৪ লক্ষের ৭৫ শতাংশ) টাকা’র চেক পিড়াকাটার রেঞ্জ অফিসার পাপন বাবু’র হাতে এসে পৌঁছয়। আজ (৩০ মে) পাপন বাবু’র নেতৃত্বে পিড়াকাটা বনাঞ্চলের অন্যান্য অফিসার ও কর্মীবৃন্দ ছাড়াও, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বন ও বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহ, শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মিনু কোয়াড়ি, সহ-সভাপতি বুলবুল হাজরা প্রমুখ’রা গিয়ে সেই চেক তুলে দিয়ে আসেন রথীনের বাবা-মা’র হাতে। শুধু তাই নয়, এই আকস্মিক দুর্ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পাপন বাবু ও তাঁর দপ্তরের কর্মীবৃন্দ যেভাবে পাশে ছিলেন, আজও রথীনের পারলৌকিক ক্রিয়া ইত্যাদি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে ২০০০ টাকা তুলে দেন। বন ও বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহের পক্ষ থেকেও রথীনের বাবা লক্ষ্মীকান্ত মান্না’র হাতে ২০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়। সর্বোপরি, বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাপান বাবু বললেন, “অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ঘটনা! আমরা প্রথম দিন থেকেই পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং যতটা দ্রুত সম্ভব ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা পাশে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করব।”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বনদপ্তরের উদ্যোগে ক্ষতিপূরণের অর্থ তুলে দেওয়া হল:

জেলা পরিষদের বন ও বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহ বললেন, “এই সমস্ত জঙ্গল এলাকায় হাতি সত্যিই একটা বড় বিপদের কারণ! কিন্তু, এর পুরোপুরি সমাধানও নাগালের বাইরে। বনদপ্তর চেষ্টা করে, সচেতনতামূলক বার্তাও দেওয়া হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। তবে, মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের অর্থ বাড়িয়ে চার লক্ষ করেছেন, তাঁর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সাথে সাথে, বনদপ্তর’কে অনেক ধন্যবাদ জানাই, এত দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। যদিও এই ধরনের ঘটনায় সমবেদনা জানানোর কোনো ভাষা নেই, তবুও সকলে মিলে লক্ষ্মীকান্তের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।”