আম্পান আর করোনায় বিধ্বস্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাও, প্রায় দশ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন, একদিনে জেলার তিন জন আক্রান্ত করোনা ভাইরাসে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় (সুপার সাইক্লোন) ‘আম্পান’ (উম্পুন) বাংলা’র বুকে একবিংশ শতকের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় রূপে আছড়ে পড়ছে। ১৯৯৯ এর পর, এতো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি পশ্চিমবঙ্গ! আয়লা’র থেকেও ভয়াবহ আকারে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে দিয়েছে, দুই চব্বিশ পরগণা জেলা এবং পূর্ব মেদিনীপুর সহ উপকূলবর্তী চারটি জেলাকে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্তম্ভিত হয়ে গেছেন, আম্পানের এই ভয়াবহ ধ্বংস লীলা প্রত্যক্ষ করে। অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে তিনি বলেছেন, “দুই চব্বিশ পরগণা জেলা ধ্বংস হয়ে গেছে! কিচ্ছু বাকি নেই। ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, নদী বাঁধ, সেতু, ইলেকট্রিক পোস্ট সব বিপর্যস্ত। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কলকাতাও ক্ষতির সম্মুখীন।”
সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, করোনা আতঙ্কের সঙ্গে যোগ হল, এই বিপর্যয়! রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি।

সেই গভীর সঙ্কটের সূত্র ধরেই বলতে হয়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জন্যও দিনটি (২০ মে) নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক! আম্পানের আক্রমণে, শুধু এই জেলাতেই প্রায় দশ হাজার কাঁচা বাড়ি বা মাটির বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যের হিসেবেই জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাত হাজার কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বৃহস্পতিবার আরও স্পষ্ট হবে এই বিপর্যয়ের চিত্র। জেলার প্রতিটি ব্লকেই কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানানো হয়েছে। প্রায় হাজার’টি ত্রাণ শিবিরে এখনো পর্যন্ত ৬৫০০০ হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিটি ব্লকেই বিডিও এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাশাসক সহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা ব্যস্ত আছেন বিপর্যয় মোকাবিলায়।

 

এরই মাঝে, জেলার জন্য আরো আতঙ্কের খবর হল, মেদিনীপুর সদর ব্লকের মহতাবনগরে মুম্বাই ফেরত এক যুবকের (২৯) শরীরে পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাসের জীবাণু। ওই শ্রমিক ১৭ মে খড়্গপুরে আসা শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে ফিরেছিলেন। তাঁকে বড়মা’তে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিন করে, নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই, জেলার আরো দুই ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার খবরও এসেছে। চন্দ্রকোনা রোডের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের (৬৫) শরীরে মিলেছে এই ভাইরাসের জীবাণু। তিনি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গত ১৪ মে থেকে। অপরদিকে, নারায়ণগড়ের এক বাসিন্দা, বর্তমানে যিনি কলকাতাতেই থাকতেন এবং এক সরকারি হাসপাতালের ক্যান্টিনে কাজ করতেন, তাঁর রিপোর্টেও করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। সবমিলিয়ে, এক ভয়ানক দিনের সম্মুখীন হল পশ্চিম মেদিনীপুর’বাসী।