আম্পানে লন্ডভন্ড বাংলা, ভেঙে পড়লেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, দুই চব্বিশ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুর প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত, কলকাতায় রাতেও চলবে তান্ডব

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২০ মে :

এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা! করোনা আতঙ্কের মধ্যেই উম্পুন বা আম্পান বাংলা’কে লন্ডভন্ড করে দিল। আশঙ্কার থেকেও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হল বাংলা! আবহাওয়াবিদ কিংবা বিশেষজ্ঞরা যা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এই প্রথম যেন তাকেও ছাপিয়ে গেল সাম্প্রতিক কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা! স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “ইতিমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে!” এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী’কে এত বিধ্বস্ত লেগেছে, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে। বুলবুল, ফণী কিংবা করোনা’র ভয়াবহতাও তাঁকে এতখানি গ্রাস করতে পারেনি, আজ দুপুর থেকে চলা আম্পানের ধ্বংসলীলা যতখানি তাঁকে হতাশ ও অসহায় করে দিয়েছে। তিনি নিজের মুখে বললেন, “আমি স্তম্ভিত! প্রায় ধ্বংসের মুখে দুই চব্বিশ পরগণা। কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। হাজারে হাজারে মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। প্রায় ৫ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরও, ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে আমি জানিনা।”
কেন্দ্রের প্রতি তাঁর কাতর আবেদন, “এই সময় কোন রাজনীতি নয়! সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”
সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, “করোনা’র ফলে এমনিতেই অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। হাতে অর্থ বলতে কিছুই নেই। তার উপর এই ক্ষতিতে বাংলা পুরোপুরি বিপর্যস্ত! ধ্বংসের পরিমাণ বুঝতেই ৪-৫ দিন লাগবে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে এও যোগ করেছেন, “অর্ধেক নবান্ন ভেঙে গিয়েছে। এখানেই যদি এই অবস্থা হয়, সাধারণ মানুষ কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে!”
খাস কলকাতায় গাছ চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন, মা ও তার শিশুসন্তান! পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং দুই চব্বিশ পরগণা থেকে মৃত্যুর খবর আসছে।
গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ, ইলেকট্রিসিটি প্রায় বিচ্ছিন্ন ৯০ শতাংশ এলাকায়। ঘর-বাড়ি, সেতু সমস্ত ভেঙ্গে গেছে দুই চব্বিশ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে! আগামীকালও এইভাবে বৃষ্টি চললে, বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। কুলতলী, পাথরপ্রতিমা, সাগর, নামখানা, হিঞ্জলগঞ্জ, বনগা থেকে দীঘা, রামনগর, এগরা, দাঁতন প্রভৃতি এলাকা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত! পুলিশ ও প্রশাসন উদ্ধারকার্যে নেমেছে। জেলাশাসক, বিডিও’ রা সরাসরি তদারকি করছেন; তা সত্বেও চরম বিপদের মুখে মানুষ।

এরইমধ্যে আশা-আশঙ্কার খবর হল, ক্রমশ শক্তি হারাবে উম্পুন; তবে, আগামী দু-এক ঘন্টার মধ্যে ১৩০-১৩৫ কিমি গতিবেগে কলকাতার উপর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ধীরে ধীরে। কাজেই, উম্পুন তার শেষকামড়ে, কলকাতার আরো কতখানি সর্বনাশ করে, সেই আশঙ্কা যেমন থেকে যাচ্ছে, তেমনই আগামীকাল থেকে ঝড়ের তীব্রতা কমে যাবে বলে কিছুটা আশার আলোও দেখা যাচ্ছে! যদিও, আগামীকাল সারাদিন উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলবে বলেও মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।