প্রখর রোদে হেঁটে যাওয়া পরিযায়ীদের প্রতি গ্রামবাসী ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের মানবিকতা, মুগ্ধ শ্রমিক বন্ধুরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট

খড়্গপুর গ্রামীণের কলাইকু্ন্ডার একটি কারখানায় কাজ করতেন, বাঁকুড়ার খাতড়া গ্রামের ১৪ জন শ্রমিক। কাজ এখন বন্ধ, টাকা-পয়সাও শেষ! তাই, কলাইকুন্ডা থেকে পায়ে হেঁটেই বাঁকুড়া’র পথে যাচ্ছিলেন তাঁরা। সোমবার সকাল ৯-১০ টা নাগাদ প্রখর রোদে, তাদের হেঁটে যেতে দেখে, শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দাদের মনে সহানুভূতির উদ্রেক হয়। এরপর তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক বন্ধুদের এই দলটিকে থামিয়ে, তাঁদের বিশ্রাম ও স্নান-আহারাদির ব্যাবস্থা করে দেন।

খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন, শালবনী ব্লকের ৭ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পরিমল ধল। তিনি তাঁদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন এবং প্রথমে তাঁদের শালবনী বিডিও অফিসে পাঠানোর ব্যবস্থাও করে দেন, থার্মাল স্ক্রিনিং এর জন্য। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শালবনী ব্লক থেকে ঐ গাড়িতে করেই তাঁরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পিড়াকাটা ছাড়ার আগে, গ্রামবাসী ও অঞ্চল প্রধানের মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকদের পক্ষে রাজেশ বাউরী বলেন, “এতটা পথ হেঁটে এসেছি। এরকম ব্যবহার কোথাও পাইনি। সারা জীবন এই ব্যবহার মনে রাখব। এই ঋণ শোধ করার নয়!”
গ্রামবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে অঞ্চল প্রধান পরিমল বাবু বলেন, “এ আর এমন কি! সুজিত সরকার সহ অন্যান্য গ্রামবাসীরা ওদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী রাস রঞ্জন খাটুয়া’র দোকানের পেছনে ফাঁকা মাঠে ওদের স্থানের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর, আমি উদ্যোগ নিয়ে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, প্রথমে বিডিও অফিসে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য, তারপর সেখান থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য। বিপদের সময়ে, মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি এই কর্তব্য পালন খুব স্বাভাবিক!”