মহামারী’র আবহে বিশ্বকর্মা পুজোর বাজেটেও কাটছাঁট, মৃৎ শিল্পীদের মাথায় হাত

.

নিজস্ব প্রতিবেদক, হলদিয়া, ১২ সেপ্টেম্বর : করোনার কারণে এবারে আর সেইরকম আড়ম্বর নেই। তাই, কম বাজেটে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন শিল্পশহর হলদিয়ায়। বাজেট কাট-ছাঁট করার ফলে প্রতিমার বাজেটেও টান পড়েছে। ফলে ব‍্যবসায় মন্দার আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে মৃৎ শিল্পীদের।

.
.
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মৃৎ শিল্পী :

শিল্প শহরের বিশ্বকর্মা পূজা দুর্গাপূজাকেও ছাড়িয়ে যায়।ছোট বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৩০০ পুজো হয় এখানে। তার মধ‍্যে ৭০-৮০ টি থাকে বিগ বাজেটের পুজো। সাবেকি থেকে থিম পুজো কোন কিছুই বাদ যায় না শিল্প তালুকের এই প্রাণের উৎসবে। কিন্তু এবার করোনার করাল গ্রাসে, এই অতিমারির ধাক্কায় কম বাজেটে নমো নমো করে পুজো সারতে চাইছেন সকলেই। পুজোর বাজেট কমার সাথে সাথে কমেছে মন্ডপ ও প্রতিমার বাজেট। ফলে বাজার ভালো নেই মৃৎশিল্পীদের। এই প্রসঙ্গে এক মৃৎশিল্পী জানালেন যে, “বিগত বছরের তুলনায় এবছর পুজোর বাজেট অনেকটাই কম। সবাই কম টাকার মধ‍্যে ঠাকুর নিতে চাইছেন। কিন্তু মালপত্রের দাম বেড়েছে তাই কম টাকার ঠাকুর বিক্রি করে তেমন লাভের মুখ কেউই দেখবেনা।” হলদিয়ার ইচ্ছাপুরের মৃৎ শিল্পী সুভাষ জানা এবং কালিপদ জানা সহ প্রমুখরা জানান, প্রত‍্যেক বছর শিল্প শহরে যে টাকার ঠাকুর যায় এবার তার অর্ধেক দামও হচ্ছে না। ফলে বাড়িতে কারিগর রেখে কাজ করিয়েও লাভ হচ্ছেনা। চৈতন‍্যপুরের মিলন চিত্রকর জানান,”করোনার জেরে প্রায় তিন মাস ধরে রুজি রোজকার বন্ধ। ফলে টান পড়েছে সংসারে। অন‍্যদিকে স্বপন চিত্রকর বলেন, “প্রত‍্যেক বছর ২০-৩০ টা বড়ো ও ৫০-৮০ টা ছোটো বিশ্বকর্মা তৈরি করি। কিন্তু এবারে ছোটো বড়ো মিলিয় ৮-১০ টাও হচ্ছে না। ফলে চরম সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আগামী দিনে কী করবো তা ভেবে পাচ্ছি না।” এরপর আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে অভাবের মধ‍্যেও ধীরে ধীরে কাজ ক‍রে চলেছেন শহরের মৃৎ শিল্পীরা। সবার প্রার্থনা একটাই যাতে খুব দ্রুত এই অতিমারি থেকে সবাই রক্ষা পায়।

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে