Advertisement

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন হাওড়ার বাসিন্দা করোনা পজিটিভ, মেদিনীপুর শহরে কনটেইনমেন্ট জোন বাড়ল, হিসেবের গরমিল দূর করলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ৬ মে :


গতকাল রাতে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রথম ১৩৬ টি রিপোর্ট নেগেটিভ (রাত্রি ৯:৩০টা) আসার‌ পর, রাত্রি ১০.৩০ টা নাগাদ যে ১০ টি রিপোর্ট আসে, তার মধ্যে ১ জন করোনা আক্রান্ত অর্থাৎ কোভিড পজিটিভ! আরো, আশঙ্কার কথা হল যে, হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা ওই প্রৌঢ় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে, ওই ওয়ার্ড সিল করা হয়েছে এবং সংস্পর্শে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী'দের কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষাও‌ করা হবে।


Advertisement


সাধারণ, কিছু শারীরিক অসুস্থতার জন্য ঐ বৃদ্ধকে 'রেড জোন' হাওড়ার কোন হাসপাতালে ভর্তি না করে, পরিবারের লোক মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেছিলেন দু'একদিন আগে। তবে, উপসর্গ মেলায় তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়, গতকাল রাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। উল্লেখ্য যে, ওই ব্যক্তির মেয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেরই ইন্টার্ন। তাই, অসুস্থ বাবাকে তিনি নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তবে, যেটা সবথেকে আতঙ্কের মেডিসিন বিভাগে আরো ২৫-৩০ জন রোগীও ভর্তি ছিলেন। সকলেরই, করোনা পরীক্ষা হবে বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে। তবে, হাওড়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় চিকিৎসা হলেও তাঁকে এই জেলার করোনা পজিটিভ ধরা হবেনা বলে জানা যায়। কারণ, হিসেবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরিশ চন্দ্র বেরা জানালেন, হাওড়া থেকে উনি মাত্র ২ দিন আগে এসে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। রাজ্যের সঙ্গে হিসেবের গরমিলও দূর করে তিনি জানালেন, "খড়ারের শম্পা মুখার্জি (৫৬) নামে এক বাসিন্দা স্বামীর চাকরির সূত্রে দীর্ঘদিন হুগলি জেলাতেই আছেন, পিয়ারলেসে কর্মরত একজন নার্সিং স্টাফও দীর্ঘদিন কলকাতায় থাকেন এবং কেশপুরের ঝ্যাতলার বছর ৪৫ এর এক বাসিন্দা শিবপুরে চাকরি করেন; কিন্তু জেলার ঠিকানা থাকার জন্য, তাদের পশ্চিম মেদিনীপুর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল রাজ্য।"
তিনি এও জানিয়েছেন, খড়্গপুর গ্রামীণ এবং ক্ষীরপাইয়ের বাসিন্দাকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আক্রান্ত হিসেবেই ধরা হবে। সঙ্গে, দাঁতনের সাউরীর বৃদ্ধকে জেলার করোনা পজিটিভ ধরা হলে, রাজ্যের সঙ্গে হিসেব মোটামুটি মিলে যাচ্ছে। তবে, যেহেতু সাউরীর আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে, করোনা নেগেটিভ হিসেবে (মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে মৃত), তাই জেলায় করোনা কারণে মৃত্যুর সংখ্যা- 'শূণ্য' (রাজ্যের হিসেবেও শূণ্য)।



এদিকে, ক্ষীরপাইয়ের বৃদ্ধের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে থাকা স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি, নাতনি সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের মোট ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ ও করোনা পরীক্ষা আজ হবে বলে জানা গেছে। ক্ষীরপাইয়ের আনন্দপুর (৭ নং ওয়ার্ড) এলাকাও সিল করে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে ওই এলাকাও কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে গণ্য হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে, মেদিনীপুর শহরের ২৫ নং ওয়ার্ডের পর ২৪ ওয়ার্ড'কেও গতকাল সন্ধ্যা থেকে কনটেইনমেন্ট জোন (বা গন্ডীবদ্ধ এলাকা) হিসেবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, আক্রান্তের সংস্পর্শে ছিল ওই গেটবাজার এলাকাও। এক আরপিএফ কর্মী এবং ক্ষীরপাইয়ের আক্রান্তের পুত্রের (৩০ এপ্রিল- ১ মে পর্যন্ত ছিলেন) সংস্পর্শে ছিল গেটবাজার, শরৎপল্লী সহ ওই ওয়ার্ড। ক্ষীরপাইয়ের বাসিন্দা, বছর ৮৪ র প্রৌঢ় মেদিনীপুর শহরের 'নির্ণয়' হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দু'দিন (৩০ এপ্রিল-১ মে); তাই এই হাসপাতালের বেশিরভাগ অংশও সিল করে দেওয়া হচ্ছে, জেলা প্রশাসন থেকে।

Advertisement

For more informetion click here or visit www.eduask.in

Advertisement

Advertisement

আরও আকর্ষণীয় খবরের আপডেট পেতে যুক্ত হন আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলিতে

অথবা আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত আমাদের জানান

আমাদের চ্যানেলে আপনার যে কোনোরকম বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন নিচের নম্বরগুলিতে
৯৭৩২২২৯০৩১ / ৮২৫০৪২৪৪২৯