দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৬ এপ্রিল: মার্চের সাতে মেদিনীপুরে পা রেখেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী জুন মালিয়া। তারপর মনোনয়ন পর্ব, প্রচার। খেলায় যেমন হার-জিত আছে, নির্বাচনী যুদ্ধেও হার-জিত অবশ্যম্ভাবী! তবে, প্রচারে যে ঝড় তুলেছিলেন জুন মালিয়া তা বিরোধীরাও একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। ‘ভূমিপুত্র’ এবং রাজনৈতিক জগতের প্রার্থী না হওয়ায়, মুষড়ে পড়া জেলা ও শহর তৃণমূল নেতৃত্ব’কে একাই চাগিয়ে তুলেছিলেন একদা টলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ জুন। বংশগত পরিচয়ে অবিভক্ত মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ির মেয়ে জুন মালিয়া শুধু দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরই নয়, আন্তরিক ব্যবহার আর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে মেদিনীপুর বিধানসভার সাধারণ ভোটারদের মনও জয় করে নিয়েছিলেন। চাঁদড়া থেকে শালবনী, কুইকোটা থেকে কর্ণগড়, মেদিনীপুর বিধানসভার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন বিরামহীন উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে। জঙ্গলমহলের হেঁশেল থেকে জেলা শহরের চা দোকানে অবাধে প্রবেশ করে মুগ্ধ করেছিলেন গৃহিণী কিংবা চা দোকানীকে। সাড়া দিয়েছিলেন, বিরোধী দলের প্রার্থী প্রবল প্রতিপক্ষ শমিত দাসের সৌজন্য বিনিময়ের আহ্বানেও! এভাবেই, একপ্রকার পিছিয়ে থাকা আসনকেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন লক্ষ্যে অবিচল জুন। এরপর, ২৭ শে মার্চ নির্বাচন। শহর থেকে গ্রাম, সকাল থেকেই বুথে বুথে পরিদর্শন। সাঙ্গ হল নির্বাচন। এবার বিদায় নেওয়ার পালা শাসকদলের তারকা প্রার্থী’র! ২৮ তারিখ সাত সকালেই তাঁর জন্য তৈরি হওয়া মিডিয়া গ্রুপ (Media Group) এর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে, গ্রুপ থেকে বিদায় নিলেন! শোনা যায়, মেদিনীপুর থেকেও। সোজা রাজধানী কলকাতা। অবশেষে, প্রায় এক সপ্তাহ পর রবিবার (৪ এপ্রিল) দেখা মিললো তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে। আর তার ঠিক পরদিনই (৫ এপ্রিল, সোমবার) নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মেদিনীপুরে!


Whatsapp Group এ

মাঝখানের এই সময়ে, মেদিনীপুরের সাংবাদিকদের নানা প্রশ্ন ও টিপ্পনী’তে অবশ্য কম নাজেহাল হতে হয়নি মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতাদের! বিশেষত, সাংবাদিকদের গ্রুপ ছেড়ে প্রার্থীর বেরিয়ে যাওয়া আর রাতারাতি গ্রুপের নাম পরিবর্তন (June Malia Media Group থেকে Midnapore AC Press) হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। এমন প্রশ্নও তীরের মতো বিঁধছিল, তবে কি ভূমিপুত্র প্রার্থীর কাছে হার নিশ্চিত জেনেই নির্বাচনের পর দিন পলায়ন! উত্তর খুঁজছিলেন সকলেই। এর মধ্যেই, শুক্রবার-শনিবার নাগাদ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া (কলকাতা থেকে) সাক্ষাৎকারে জুন জানিয়ে দেন, “নিজের একশো শতাংশ দিয়ে লড়াই করেছি। মেদিনীপুর বাসীর কাছে অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকদের তরফে পেয়েছি আন্তরিক সহযোগিতা। এবার, মেদিনীপুর বাসী কি করেছেন, তা ব্যালট বাক্স খুললেই বোঝা যাবে। তবে, বিরোধী দলের সাংসদ দিলীপ ঘোষের গড়ে এই লড়াইটা সহজ ছিলনা! আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।” তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়ে অবশ্য কোনো মহলই প্রশ্ন তোলেনি! এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পরদিনই (রবিবার) সকলকে চমকে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা’র সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হলেন মেদিনীপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জুন মালিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র “ও দিদি…ও দিদি” ডাককে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে আরও চমকে দিলেন সকলকে! তবে, মেদিনীপুরে ফের কবে আসবেন, তা জানতে উদগ্রীব ছিলেন অনেকেই। জুন এলেন, সোমবার (৫ এপ্রিল)। মেদিনীপুর কলেজের স্ট্রং রুম (Strong Room) এ বন্দী ব্যালট বাক্স (EVM) এর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে গেলেন। তার মাঝখানেই হাসিমুখে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গল্পগুজব, ছবি তোলা! অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হলেন মেদিনীপুর বিধানসভার দায়িত্বে থাকা শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। আপাতত, জুন’ এর ফলাফলের জন্য ‘মে’ র ২ তারিখের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে সকলকে!











