ফের মেদিনীপুর শহরের করোনা ‘নেগেটিভ’ পরিবারের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল

again inhuman behavior of medinipur town's residents

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে ফের করোনা'র অজুহাতে অমানবিক আচরণের অভিযোগ :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৯ সেপ্টেম্বর: শিক্ষিত ও ঐতিহ্যমন্ডিত মেদিনীপুর শহরে ফের ‘অশিক্ষত’ আচরণ করার অভিযোগ উঠল! মেদিনীপুর শহরের স্কুলবাজারের কর পরিবারের বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী অনিল কর (৭৫), গত ৭ সেপ্টেম্বর শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হন! তার আগে গত ১২ আগস্ট তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। প্রথমে জ্বর ছাড়া তাঁর কোনো উপসর্গ না থাকলেও, পরে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় তাঁকে শালবনী করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল গত ১৮ আগস্ট, তার আগে অবশ্য তিনি হোম আইশোলেশনেই ছিলেন। সংস্পর্শে থাকার জন্য, পরিবারের সদস্যরা করোনা পরীক্ষা করালে, কয়েকজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে গত ২১ শে আগস্ট। তবে, তাঁরা প্রত্যেকেই উপসর্গহীন ছিলেন এবং হোম আইশোলেশনে ছিলেন। এদিকে, শালবনী করোনা হাসপাতালে সপ্তাহ খানেক চিকিৎসার পর অনিল বাবু’র রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরপর দুটি রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় গত ২৮ শে আগস্ট তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায়, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মেদিনীপুর শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন, সরাসরি বাড়িতে না নিয়ে এসে। সেখানেও তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এদিকে, পরিবারের উপসর্গহীন অন্যান্য সদস্যরাও ততদিনে করোনা মুক্ত হয়ে যান। কিন্তু, অনিল বাবু ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার সকাল ১১ টা নাগাদ) হার্ট অ্যাটাকের ফলে মারা যান। চিকিৎসকদের মতে, বয়স্ক এবং কো-মর্বিডিটি থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে করোনা মুক্ত হওয়ার পরও ঝুঁকি থেকে যায়, কারণ করোনা ভাইরাস শ্বাসযন্ত্রের (ফুসফুসের) উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনিল বাবু’র ক্ষেত্রেও রেসপিরেটরি ফেলিওর (ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া) এবং তা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয় বলে চিকিৎসকদের ধারণা। যেহেতু অনিল বাবু মৃত্যুর অনেক আগেই করোনা মুক্ত হয়েছেন এবং পরিবারের বাকি সদস্যরাও ইতিমধ্যে করোনা মুক্ত হয়েছেন, তাই যথারীতি তাঁর মৃতদেহ নিয়ে এসে সৎকার করেন পরিবার-পরিজন। অভিযোগ যে, তার পর থেকেই প্রতিবেশী ও পরিচিত অনেকেই তাঁদের পরিবারের প্রতি দুর্ব্যবহার বা অমানবিক আচরণ করছেন। পরিবারের অন্যতম অভিভাবক তথা বয়স্ক সদস্য’কে হারানোর যন্ত্রণা এবং তারপর পাড়া-প্রতিবেশী সহ বিভিন্নভাবে দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতার ফলে ওই পরিবার রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে, বিদায়ী কাউন্সিলর সহ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাঁরা প্রশাসনের সাহায্য নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে ফের করোনা’র অজুহাতে অমানবিক আচরণের অভিযোগ :

.

পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট করে অভিযোগ জানিয়েছেন, নিকটবর্তী কয়েকটি বাড়ির সদস্যদের প্রতি। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির পরিচারিকাদের প্ররোচনা দিয়ে কাজে আসতে দেওয়া হয়নি, গ্যাস ডেলিভারি করতে আসতে দেওয়া হয়নি, বাড়ির অন্যান্য কাজের সাথে যুক্ত লোকেদেরও ভুল বুঝিয়ে কাজে আসতে দেওয়া হয়নি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁদেরও নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু, বাড়ির কিছুজনের সপ্তাহখানেক আগে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল এবং সম্প্রতি (৭ সেপ্টেম্বর) একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে (হার্ট অ্যাটাকের ফলে), তাই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এরকম করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এক সদস্য বললেন, “করোনা সংক্রমিত হওয়া এবং তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা দুটোই অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। বাড়িতে বিভিন্ন কারণেই মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সেটাকে নিয়ে এই শিক্ষিত শহরেরর অশিক্ষিত আচরণ কি কাম্য ?” উল্লেখ্য যে, এর আগেও মেদিনীপুর শহরের মীরবাজার, তাঁতিগেড়িয়া, চিড়িমারসই’ তে এরকম ঘটনা ঘটেছিল। শহরের একজন সমাজসেবী বললেন, “শুধু মেদিনীপুর শহর নয়, সারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই, কিছু অসচেতন এবং অবিবেচক মানুষ অতি-সচেতনতা’র ভাব দেখাতে গিয়ে অমানবিক আচরণ করছেন। অথচ, তাঁরা নিজেরাই ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। যেকোনো মুহূর্তে নিজেরাও করোনা সংক্রমিত হতে পারেন, এই বিষয়ে চিন্তা না করে, মানুষ হয়ে অমানুষিক আচরণ করছেন তাঁরা।” অজ্ঞতা এবং স্বার্থপর মানসিকতাই এজন্য দায়ী বলে সচেতন নাগরিকদের অভিমত।
***আরো পড়ুন : করোনা’র বিপজ্জনক চরিত্র…

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে