দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, শালবনী (পশ্চিম মেদিনীপুর), ১৪ মার্চ: শালবনীর ভাতমোড় দক্ষিণশোলের বাসিন্দা বটেশ্বর মাহাত পেশায় বনকর্মী। বনসুরক্ষা কমিটির সদস্য থেকে বর্তমানে বন সহায়ক পদে কর্মরত বটেশ্বর আজীবন প্রকৃতি ও পরিবেশ অন্তপ্রাণ! বছর ৩০ এর বটেশ্বর তাই নিজের বিবাহানুষ্ঠান থেকেও দিলেন পরিবেশ বার্তা। প্যান্ডেল ও সাজসজ্জা ঘিরে শুধুই সবুজ-রক্ষার বার্তা ও স্লোগান। শুধু তাই নয়, গত ১২ ই মার্চ বটেশ্বর ও মামণি’র প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান থেকে, ১২০০ চারাগাছ বিতরণও করা হল। এই অভিনব উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মুগ্ধ অতিথিরা। বনকর্মী বটেশ্বরেরর আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন, বনদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহা (R.N.Saha, IFS), ভাদুতলার রেঞ্জ অফিসার পাপন মোহান্ত, পিড়াকাটার রেঞ্জ অফিসার লক্ষ্মীকান্ত মাহাত, গোদাপিয়াসালের রেঞ্জ অফিসার বিশ্বজিৎ মাল, মেদিনীপুর বনবিভাগের কর্মী অনন্ত ব্যানার্জি প্রমুখ। নবদম্পতিকে আশীর্বাদের সাথে সাথে, প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের ‘ভূমিপুত্র’ বটেশ্বরের এই বন-রক্ষার উদ্যোগ ও বার্তায় তাঁরা অভিভূত ও উচ্ছ্বসিত হলেন।


Whatsapp Group এ

অপরদিকে, শালবনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ছত্রছায়া’ বরাবরই তাঁদের কর্মপ্রচেষ্টা ও আয়োজনে স্বাতন্ত্র্যের বার্তা দিয়ে এসেছে। সারা বছর ধরেই এই গ্রুপের বা সংগঠনের সদস্যরা দুঃস্থ-অসহায়-প্রান্তিক মানুষদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ সামাজিক ও প্রাথমিক চাহিদা পূরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। একইসঙ্গে, ‘ছত্রছায়া’র শুভাকাঙ্ক্ষী ও সদস্যরা নিজেদের শুভ ও বিশেষ অনুষ্ঠান গুলিও প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এবারও, ‘শিবরাত্রি’ উপলক্ষে (শুক্রবার, ১২ মার্চ), এক স্বতন্ত্র সামাজিক বার্তা দিতে চাইলেন ‘ছত্রছায়া’র সদস্যরা। শিব জ্ঞানে তাঁরা প্রকৃত অর্থেই জীবসেবার বার্তা নিয়ে, দুধ ও ফল বিতরণ করলেন সহজ-সরল-অসহায় শিশু গুলির মধ্যে। বাঁসবান্দী শিব মন্দির প্রাঙ্গণে প্রায় দেড় শতাধিক শিশুর হাতে গত শুক্রবার তাঁরা দুধ ও ফল বিতরণ করলেন। আর, এই উদ্যোগের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন, ‘ছত্রছায়া’র অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী শালবনী থানার আইসি গোপাল বিশ্বাসের সহধর্মিনী কোয়েল বিশ্বাস। প্রসঙ্গত, এর আগেও বিশ্বাস দম্পতি নিজেদের একমাত্র মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে এই গ্রামের শিশুদের পাত পেড়ে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবারের এই প্রচেষ্টা সম্পর্কে ‘ছত্রছায়া’র প্রধান কান্ডারী নুতন ঘোষ বললেন, “আমরা ধর্মীয় সংস্কার ও বিশ্বাসে আঘাত হানতে চাইনি, তবে ধর্ম পালনের সাথে সাথে প্রকৃত অর্থে মানবসেবার বার্তা দিতে চেয়েছি। স্বয়ং, স্বামী বিবেকানন্দ যে, শিব জ্ঞানে জীব সেবার বার্তা দিয়ে গেছেন, আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী ও পৃষ্ঠপোষক কোয়েল ম্যাডামের সহায়তায় আমরা সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছি, আপামর জঙ্গলমহলবাসীর কাছে।”











