শালবনী থেকে ঘাটাল লালে লাল! শিল্প-কর্মসংস্থানের দাবিতে ছাত্র-যুবরা পথে, একযোগে আক্রমণ তৃণমূল-বিজেপিকে

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর ফের লালে লাল! তিন হাজার ছাত্র-যুবর বাইক মিছিল, তারপর শালবনীতে জিন্দল কারখানার প্রধান ফটকে প্রতীকী শিলান্যাসের মধ্য দিয়ে শিল্প আর কর্মসংস্থানের দাবি জানানো হল বাম ছাত্র-যুবদের তরফে। রবিবার অনুষ্ঠিত বামেদের এই কর্মসূচিতে, প্রতীকী শিলান্যাস করেন বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এর রাজ্য সভাপতি মিনাক্ষী মুখার্জি । উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক তাপস সিনহা, জেলা সংগঠনের সম্পাদক সুৃমিত অধিকারী, সভাপতি রনজিত পাল এবং এসএফআই এর জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ মুদি, সভাপতি সৈয়দ সাদ্দাম আলি। প্রসঙ্গত, শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শালবনীতে এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত কারখানার গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে জিন্দলদের নিয়ে এসেছিলেন। তার বদলে সেখানে হয়েছে সিমেন্ট কারখানা! ডিওয়াইএফআই নেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি কটাক্ষ করে বলেন, “নাকের বদলে নরুন!” প্রতীকী শিলান্যাসের পর শালবনীর সুন্দরায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নেতৃত্ব’রা বলেন, ভিত্তি গড়েছিল যারা, ফেরাবে হাল তারাই। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নকে সত্যি করে, বাংলায় ফের বাম-কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্বে, কৃষিকে ‘ভিত্তি’ করে শিল্পকে ‘ভবিষ্যৎ’ রূপে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

thebengalpost.in
শালবনীতে বাইক মিছিল :

বিজ্ঞাপন

[ আরও পড়ুন -   ছেলের জন্মদিনে আদিবাসীদের বস্ত্রদান, নতুন জীবনে প্রবেশের আগে শীতার্তদের কম্বল প্রদান, সমাজসেবায় শালবনী-মেদিনীপুর মিলেমিশে একাকার ]

উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের ২ রা নভেম্বর, শালবনীতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করে ফেরার পথে, মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়। বুদ্ধদেব প্রাণে বাঁচলেও, জঙ্গলমহল জুড়ে শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। মাওবাদী আমল। এরপর ২০১১ সালে ক্ষমতার পালাবদল। নতুন সরকারের আমলে সিঙ্গুর থেকে শালবনী, শিল্পের জন্য শুধুই হাহাকার! সেই ইস্যুকে সামনে রেখেই, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর বিদ্যাসাগর শিল্পতালুকে অধিগৃহীত জমিতে শিল্প স্থাপন এবং ঘাটাল দাসপুর এলাকায় প্রস্তাবিত শিল্প তালুক গড়ে তোলার জন্য বকুলতলা মোাড়ে এবং গোয়ালতোড়ে দুর্গাবাঁধে, এই তিন স্থানেও প্রতীকী শিলান্যাস হয়। শালবনীর সভায় জমিদাতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সিপিআইএম নেতা তাপস সিনহা অভিযোগ করেন, প্রায় বারোশো (১২০০) পরিবারের দেওয়া ৫ একর জমিতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানায় ব্যাপক কর্মসংস্থান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তার বদলে, সিমেন্ট কারখানায় বাইরে থেকে স্বল্প পারিশ্রমিকে, কোম্পানির ভাড়া করা শ্রমিক নিয়ে এসে কাজ চালানো হচ্ছে। বাম-কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় এলে, শালবনীতে ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা করা হয়। চপ-পাকোড়া শিল্প নয়, রাজ্যের সর্বত্র প্রকৃত শিল্পের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

thebengalpost.in
শালবনীতে জিন্দাল কারখানার গেটে প্রতীকী শিলান্যাস :

অপরদিকে, লাল ঝান্ডার স্রোতে ভেসে ঘাটালের রাধানগর থেকে বরোদাচৌকান পর্যন্ত পাঁচ কিমি পথ জুড়ে মহামিছিলে হাটলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। ওই দিন অর্থাৎ রবিবারই, সকালে চন্দ্রকোনার ক্ষীরপাইতেও মিছিলে হাটেন তিনি। ঘাটালে মিছিল শেষে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মিথ্যাচার ও ভ্রষ্টাচার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, “পিসি ভাইপোর গ্রুপ বলছে ওরা চোর জুয়োচ্চোর! আর দলবদলুরাও পাল্টা বলছে সোনা, গরু, কয়লা, মোরাম, বোল্ডার বালি পাচারকারী পিসি-ভাইপো। মমতা ব্যানার্জীর সরকারী সভা যেমন দলীয় সভায় পরিনত হয়, হলদিয়াতেও সরকারী সভা দলীয় সভায় পরিনত করলো প্রধানমন্ত্রী। এরা গণতন্ত্র মানেনা, সংবিধান মানে না। এরাজ্যে চিট ফান্ডের টাকায়, লুঠের টাকায় তোলাবাজি আর কাটমানির টাকায় সরকারি দল চলে। আর বিজপিও কর্পোরেটের টাকায় আর কয়লা, লোহা লক্কড় পাচারে যুক্ত।” সেলিম এদিন এও বলেন, ঘাটালের সাংসদ দেব তথা দীপক অধিকারী’ও বিজেপি’র পথে পা বাড়িয়ে আছেন! তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা বলে ছিলো মেদিনীপুর জেলায় লাল নেকড়াও পাওয়া যাবেনা, আজ তারাই সততার প্রতীকের ঝান্ডাকে নেকড়া করে অমিত শাহের পা আর জুতা পরিস্কার করছে। এতে করে চোর-জুয়াচ্চোর-তোলাবাজ-কাটমানিখোর ও চিটফান্ডের টাকায় ফেঁপে ঢোল হওয়া মাল গুলো রক্ষা পাবেনা। পেষাই করে যেমন তেল বের করা হয়, তেমনি করেই পেষাই করে ওই লুঠেরাদের  সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাবস্থা করবে নতুন সরকার। বাংলায় এবার বাম কংগ্রেস গনতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ জোটের সরকার গঠন হবে।”

thebengalpost.in
ঘাটালে সেলিমের নেতৃত্বে মিছিল :

[ আরও পড়ুন -   সাত সকালেই দুঃসংবাদ জেলাবাসীর জন্য, ১২ জন করোনা আক্রান্ত, খাতা খুলে ফেলল শালবনী ও সবং, ঘাটাল মহকুমায় ৮ জন ]