দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ এপ্রিল: ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করছে একবিংশ শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ শত্রু নোভেল করোনা ভাইরাস! গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৮৭ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন! ফলে গত চারদিনে মোট করোনা সংক্রমিত হলেন ৩১৬ (৮২, ৫৮, ৮৯ ও ৮৭) জন। এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, ৫ জনের! আর, গত ৪৮ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এর মধ্যে, ৫ জনই ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ১ জন খড়্গপুর মহকুমার সবং এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত ১৬ ই এপ্রিল (শুক্রবার) ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি’তে চন্দ্রকোনার পাইকপাজিটার এক প্রৌড়া (৬০)’র মৃত্যু’র পর গতকাল (শনিবার) সকালে চন্দ্রকোনার বেলাদন্ড গ্রামের এক ব্যক্তির (৪৮) মৃত্যু হল ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে। তিনি পেশায় সোনার কারিগর ছিলেন। সম্প্রতি, বেঙ্গালুরু থেকে ফিরেছিলেন। তিনি জ্বর নিয়েই ফিরেছিলেন বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে আরও একজন করোনা সংক্রমিতের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে, মৃত্যু’র পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অপরদিকে, ঘাটাল থেকে শালবনী করোনা হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রাত্রি ৯-১০ টা নাগাদ আরও এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মৃত্যু’র পর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গতকাল রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU-SARI ইউনিটে ৭২ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু’র খবর পাওয়া গেছে। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গেছে তিনি খড়্গপুর মহকুমার সবং এর বাসিন্দা। আজ সকালে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের করোনা বিভাগের আরও এক মহিলার মৃত্যু’র খবর পাওয়া গেছে। তাঁর বয়স ৫৮ বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। ওই মহিলাও ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “গত ২৪ ঘন্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের করোনা বিভাগে। প্রবল শ্বাসকষ্ট ও কো-মর্বিডিটি নিয়েই ভর্তি হয়েছিলেন তাঁরা। শত চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি!” সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে মেদিনীপুর, খড়্গপুর ও ঘাটাল সহ সমগ্র জেলাবাসীকেই চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, ঘাটাল মহকুমায় ফিরে আসা ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর আগে, গত ৭ ই এপ্রিলও ঘাটালের বাসিন্দা ছত্তিশগড় ফেরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে।


Whatsapp Group এ
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় যে ৮৭ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, তার মধ্যে, শুধুমাত্র মেদিনীপুর শহরের ২১ জন এবং মেদিনীপুর সদর ব্লকের গোপগড় এলাকার ১ জন। মেদিনীপুর শহরের হবিবপুর, ক্ষুদিরাম নগর, বিধাননগর, শরৎপল্লী, জর্জকোট, বড়বাজার সহ সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় রেলশহর খড়্গপুরে সংক্রমিত হয়েছেন ২০ জন। ঘাটাল, দাসপুর এবং ক্ষীরপাই (চন্দ্রকোনা) মিলিয়ে ১৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শালবনীর টাঁকশালে (BRB) ৪ জন সহ মোট ৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে গত চব্বিশ ঘণ্টায়। এর মধ্যে, সিদাডিহিতে একই পরিবারের ২ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ডেবরা এলাকায় ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন। ১ জন পিংলা (সুরতচক) এবং ১ জন বলরামপুর (ডেবরা) এর বাসিন্দা। ডেবরা সংলগ্ন হাউরের ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, নারায়ণগড়ের নাড়মা গ্রামে ৩ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে, একই পরিবারের ২ জন। দাঁতন এলাকায় ৫ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অন্যদিকে, গোয়ালতোড়ে ২ জন ও গড়বেতায় ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। জেলায় ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচিও চলছে, তবে তা আগের থেকে অনেক শ্লথ গতিতে! এ নিয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিন চাহিদার তুলনায় অনেক কম আসছে! তাই, অনেককেই হয়তো ফিরে যেতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একটু সমস্যা হবে।” অপরদিকে, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিনেশন চলছে, যেভাবে পাঠানো হচ্ছে। তবে, জেলাবাসীকে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ভিন রাজ্য থেকে অনেকেই ফিরে এসেছেন এবং আসছেন, অপরদিকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অবাধ মেলামেশা এখনও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি; ফলে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। এই মুহূর্ত থেকেই কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, পরিস্থিতি যাতে আগামী কয়েক সপ্তাহ পর হাতের বাইরে না চলে যায়।”










